সম্পাদকীয়

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হাইকোর্টের নির্দেশনা মানুন

দেশের সব সড়ক-মহাসড়কে অরাজকতা চলছে দীর্ঘদিন। বিশেষত ফিটনেসবিহীন গাড়ির দৌরাত্ম্যে সড়ক পরিণত হয়েছে মৃত্যুকূপে। সঙ্গে অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালকের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বলতে গেলে সড়কে চলাচল করতে গেলে মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি অজানা নয়। তার পরও এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা। মাঝেমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। এ অবস্থায় অতীতের আরও অনেক ক্ষেত্রের মতো সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এগিয়ে এসেছেন হাইকোর্ট। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় এ নির্দেশ সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।

‘সব জেলায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধে টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ’ শিরোনামে গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। খবরটিতে বলা হয়েছে, সড়ক-মহাসড়কে চলাচলের অনুপযোগী, ফিটনেসবিহীন ও অনিবন্ধিত যান চলাচল তদারকি ও বন্ধে দেশের সব জেলায় টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, সড়ক ও সেতু সচিবকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পুলিশ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিআরটিএর সমন্বয়ে এ টাস্কফোর্স গঠন করতে বলেছেন আদালত। দেশের সড়ক-মহাসড়কে যে অরাজকতা চলছে, তা বন্ধে আদালতের এ নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতীত বিবেচনায় এ নির্দেশনার পুরোপুরি বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়।

দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোয় দুর্ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই অনেক মানুষের মৃত্যুর সংবাদ গণমাধ্যমে আসছে। এজন্য ফিটনেসবিহীন যান চলাচলকে বহুলাংশে দায়ী করা হয়। পাশাপাশি অসাধু মালিক, অদক্ষ চালক-হেলপারসহ আরও নানা বিষয়কে দায়ী বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের অনেক নেতা এতে মূল হোতা হিসেবে ভূমিকা পালন করেন, এমন মত অনেকের। অথচ এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে দেশে কঠোর আইন রয়েছে। কিন্তু তাদের রোধ করা যাচ্ছে না। উল্টো তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিলে তারা যান চলাচল বন্ধ করে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে, যা উদ্বেগজনক। বলতে গেলে, তাদের কাছে সবাই জিম্মি। এ অবস্থায় আইনের কঠোর প্রয়োগের বিকল্প নেই।

খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত টাস্কফোর্স চলাচলের অনুপযোগী, ফিটনেসহীন ও অনিবন্ধিত যান দেখে আইন অনুযায়ী সেগুলো আটক, জব্দ ও ডাম্পিং করতে পারবে। বিআরটিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত চার লাখ গাড়ির মধ্যে এক লাখ ৬৫ হাজার ৭৬৪ গাড়ির ফিটনেস নবায়ন সনদ ছিল। সে হিসাবে এখনও বিপুলসংখ্যক গাড়ি ফিটনেস না নিয়েই চলাচল করছে। দ্রুত গাড়িগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তা আরও অনেক জীবনহানির কারণ হতে পারে। এ অবস্থায় হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, দ্রুত টাস্কফোর্স গঠন করে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আমরা আশা করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..