প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সড়ক দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ চাই

সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমান সময়ের আলোচিত ও মর্মস্পর্শী ঘটনা। এ দুর্ঘটনায় প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে হাজারো মানুষ, ধূলিস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে হাজারো স্বপ্ন। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। ফলে অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করে পরিবার ও সমাজের বোঝা হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটছে কিন্তু দুর্ঘটনা কমছে না।

জন্মিলে মরিতে হবে। কিন্তু নিশ্চয়ই  অস্বাভাবিক কিংবা দুর্ঘটনায় মৃত্যু কেউ চায় না। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, সড়ক-মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া নিরাপদ নয়। কেননা, কখন চাকার নিচে চাপা পড়ে সে শঙ্কায় থাকতে হয়। সচেতন হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। বাস, ট্রাক দুর্ঘটনার পাশাপাশি বাইক দুর্ঘটনাও ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে তরুণ, যুবকদের অনেকে শখের বশে বেপরোয়া হয়ে বাইক চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হতে হয়। আর প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষকে নানা কাজে বাইরে যেতে হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। পথে দুর্ঘটনার ভয় থাকলেও একপ্রকার জানবাজি রেখেই চলতে হয়। গাড়িচালকদের কথা আর কী বলব? যেভাবেই হোক অপর গাড়িকে ওভারটেক করে এগোতে হবে।

দেশে মানুষের প্রয়োজনে বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গাড়ি রাস্তায় নামছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনাও। এসব দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পাশাপাশি অসংখ্য মানুষ সারাজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করছে। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু শুধু একটি পরিবারে গভীর শোক, ক্ষত সৃষ্টি করে না, আর্থিকভাবেও পঙ্গু করে ফেলে ওই পরিবারকে। কোনো কোনো দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি প্রাণ হারান। তখন ওই পরিবারের যে কী অবস্থা হয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর যারা পঙ্গুত্ববরণ করে তাদের পরিবারের অবস্থা আরও করুণ, আরও শোচনীয়। বিষয়গুলো আমাদের ভাবা উচিত বলে আমি মনে করি। সরকারি, বেসরকারি সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহন কর্তৃপক্ষকে নিহত ও আহত হওয়া পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। করতে হবে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা। আমরা সড়ক দুর্ঘটনামুক্ত একটি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করি। সড়কে এই মৃত্যুর মিছিল কবে থামবে? আর কত প্রাণ ঝরবে? মৃত্যুফাঁদে পরিণত হওয়া সড়কগুলোকে যেভাবেই হোক নিরাপদ করতে হবে সবার জন্য।

বিশেষ করে গাড়ি চালকদের মাঝে সচেতনতা তৈরির পদক্ষেপ নিতে হবে। নিষিদ্ধ করতে হবে গাড়ি চালানোর সময় চালকদের মোবাইলে কথা বলা। আইনে পরিবর্তন এনে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বিধান কার্যকর করতে হবে। রাস্তায় যেন কোনো ধরনের ফিটনেসবিহীন যান চলাচল করতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। রাস্তার মাঝে গাড়ি ঘোরানোর মতো অন্যায়কে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। নিয়ন্ত্রণ করতে হবে যানবাহনের বেপরোয়া গতি। সবচেয়ে জরুরি হলো কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি। সড়ক দুর্ঘটনা হয় না এমন দেশ নেই। দুর্ঘটনামুক্ত নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হোকÑএটাই প্রত্যাশা।

তারেক আল মুনতাছির

শিক্ষার্থী, ওমরগণি এমইএস কলেজ

চট্টগ্রাম