সারা বাংলা

সড়ক দুর্ঘটনায় ছয় জেলায় পুলিশ সদস্যসহ ১০ জন নিহত

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সড়ক দুর্ঘটনায় গতকাল টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, গাজীপুর, পাবনা, ঝিনাইদহ ও বগুড়ায় এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো।

টাঙ্গাইলে দাঁড়িয়ে থাকা পিকআপ ভ্যানে ট্রাকের ধাক্কায় শিশুসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পিকআপ ভ্যানের চালকও আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বেলা ৩টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কামাল হোসেন জানান, বিকল হওয়া একটি পিকআপ ভ্যান মহাসড়কে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় উত্তরবঙ্গগামী একটি ট্রাক পিকআপ ভ্যানটিকে পেছন দিক থেকে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপ ভ্যানে থাকা শিশুসহ দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় আহত পিকআপ ভ্যানের চালককে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

এদিকে মাদারীপুরের শিবচরে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স উল্টে দুজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে সীমানা নামকরণ এলাকায় গতকাল শুক্রবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাবুরখানা গ্রামের আনোয়ার হোসেন তালুকদারের স্ত্রী খাদিজা বেগম (৫৫) ও পূর্বদামুড়া গ্রামের মো. জালাল মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান (১৭)। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাক্ষণিকভাবে তাদের নাম জানা যায়নি।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে শিবচর হাইওয়ে থানার ওসি সোহরাব আহমেদ বলেন, বরিশাল থেকে ঢাকাগামী একটি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স বেলা ১টায় সীমানা নামকরণ এলাকায় এক পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে উল্টে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই খাদিজা বেগম ও মেহেদী হাসান মারা যান।

ওসি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিবচর হাইওয়ে পুলিশ আহত তিনজনকে উদ্ধার করে পাচ্চর রয়েল হাসপাতালে পাঠান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ওসি সোহরাব আহমেদ আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি হাইওয়ে থানা পুলিশের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

এদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষে বাইক আরোহী পুলিশের এক কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। নিহত রুবেল হোসেন (৩০) উপজেলার সিনাবহ খন্দকার পাড়া এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে ছিলেন তিনি।

উপজেলার বাঁশতলী-কালিয়াকৈর সড়কে গতকাল শুক্রবার দুপুরে তিনি মারা যান বলে কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. মনোয়ার হোসেন জানান। তিনি বলেন, সম্প্রতি রুবেল ছুটিতে বাড়ি আসেন। বেলা সাড়ে ১২টায় বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে তিনি কালিয়াকৈর বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে একটি অটোরিশার সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে গাজীপুরের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে পাবনায় কয়লাবাহী ট্রাকের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও তিন যাত্রী। গতকাল শুক্রবার সকালে পাবনা-সুজানগর আঞ্চলিক সড়কের দুবলিয়া এলাকায় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- সুজানগর উপজেলার ভবানিপুর গ্রামের ঝন্টু কুণ্ডু (৬০) ও একই উপজেলার মানিক দিয়া গ্রামের আব্দুল বারেকের মেয়ে আরিফা বেগম (৩৭)।

পাবনার আতাইকুলা থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম জানান, সকালে দুবলিয়ায় একটি ট্রাক যাত্রীবাহী একটি অটোরিকশাকে সামনে থেকে ধাক্কা দিলে অটোরিকশায় থাকা পাঁচজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে দুজনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ঘাতক ট্রাক ও ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকশাটিকে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তবে দুই গাড়ির চালকই পালিয়েছেন। 

এদিকে ঝিনাইদহে ট্রাকের চাপায় রিপ্তি বেগম (৪০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন। গতকাল শুক্রবার  সকালে শহরের হামদহ ঘোষপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রিপ্তি বেগম সদর উপজেলার নারিকেলবাড়ীয়া গ্রামের তাহিজুল ছিদ্দিক আলীর মেয়ে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, শুক্রবার সকালে রিপ্তি বেগম চাচাতো ভাই আলমগীর হোসেনের সঙ্গে মোটরসাইকেলে শহর থেকে গ্রামে ফিরছিলেন। পথে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের ঘোষপাড়া নামক স্থানে পৌঁছালে যশোর থেকে কুষ্টিয়াগামী ভুট্টা বোঝায় একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ওই নারী রাস্তায় ছিটকে পড়লে ট্রাকটি তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন মোটরসাইকেল চালক আলমগীর হোসেন। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে বগুড়া জেলার শেরপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হন, আহত হয়েছেন আরও তিনজন। বৃহস্পতিবার বিকাল ও রাতে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক এলাকায় পৃথক এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় বগুড়াগামী একটি মালবাহী ট্রাক মহাসড়কের নয়মাইল নামক স্থানে মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের চালক রতন হোসেন (২৮) মারা যান। তিনি নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল গ্রামের জেবু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় আহত ইমাম হোসেন (২৬) নামের এক পথচারী আহত হন। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

একই দিন বিকাল ৪টায় শেরপুর উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ধনকুন্ডি এলাকায় কাভার্ডভ্যান ও পিকআপের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পিকআপের চালক হিরা মিয়া (২৫) নিহত হন। তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গারদাহ গ্রামের বকুল মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পরপরই কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ জব্দ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে কাভার্ডভ্যান চালক শফিউল্লাহকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি যশোর জেলার বাগারপাড়া উপজেলার নারিকেল বাড়ি গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে। এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..