প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চাই কার্যকর উদ্যোগ

বিদায়ী বছরের ডিসেম্বরে দেশে ৩৮৩টি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এতে ৪১৮ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৩ জন নারী ও ৪৯টি শিশু রয়েছে। বেসরকারি সংগঠন ‘রোড সেফটি ফাউন্ডেশন’ শনিবার ডিসেম্বর মাসের সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে এসব তথ্য জানানো হয়। সংগঠনটি সাতটি জাতীয় দৈনিক, পাঁচটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এসব দুর্ঘটনার জন্য ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ ও যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি, গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজিকে দায়ী করেছে এবং সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে এ সমস্যাগুলোর সমাধানের সুপারিশ করেছে।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে যত গবেষণা হয়েছে, সুপারিশ এসেছে সবই একই। ১৯৯৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সংঘটিত দুর্ঘটনা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট (এআরআই) বলেছে, ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনার পেছনে অতিরিক্ত গতি ও চালকের বেপরোয়া মনোভাব দায়ী। মহাসড়কে কম গতির ছোট যানবাহন চলাচলেও দুর্ঘটনা ঘটে। ২০১৫ সালে মহাসড়কে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা ৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। ওই বছর জাতীয় মহাসড়কে সিএনজিচালিত থ্রি-হুইলার, হিউম্যান হলার, নসিমন, করিমন ও ভটভটি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়, কিন্তু আইনের প্রয়োগ হয় না। সরকারেরই কোনো কোনো মন্ত্রী পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের পক্ষ নিয়ে ধর্মঘটের ডাক দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মূলত এ কারণেই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরেছে না বলে সাধারণ মানুষের ধারণা।

দুর্ঘটনা কেন ঘটছে, নতুন করে কিছু বলার নেই। আমরা মনে করি, অংশীজনরা দায়িত্বশীল হলে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণেই থাকত। গত মাসে কয়েকজন শিক্ষার্থী মারা গেছে সড়ক দুর্ঘটনায়। তখন দেখা গেছে, দুর্ঘটনা সংঘটন করা গাড়িতে পেশাদার চালক ছিল না। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পাঁচটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৮ সালে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুই শিক্ষার্থী মারা যায় সড়ক দুর্ঘটনায়। এরপর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করতে হয়েছে স্কুলশিক্ষার্থীদের। কিন্তু সড়কে দুর্ঘটনা কমেনি। মন্ত্রী, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের পর সরকারপ্রধানের নির্দেশনার পরও সড়কে শৃঙ্খলা না ফেরা দুঃখজনক। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএ’র তথ্যমতে, দেশে ফিটনেসবিহীন যানবাহনের সংখ্যা পাঁচ লাখের কাছাকাছি। বিভিন্ন শ্রেণির ৩৮ লাখ গাড়ির জন্য চালক আছে ২০ লাখ। অর্থাৎ ১৮ লাখ যানবাহন চলছে ভুয়া চালক দিয়ে। সড়ক দুর্ঘটনার কারণ না জানা থাকলে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা যেত না। কিন্তু কারণ জেনেও রাষ্ট্র সড়ক দুর্ঘটনারোধে শূন্যসহনশীলতায় ব্যবস্থা নিচ্ছে না। রাজধানীতে সড়ক নিরাপদ করতে ২০১৮ সালেই ১৭ নির্দেশনা জারি করেছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ওই নির্দেশনা ঠিকমতো পরিপালিত হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমত বলেই আমরা মনে করি।