সম্পাদকীয়

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নিন

সড়ক দুর্ঘটনা কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। পরিণত কিংবা অপরিণত বয়সে হোক, কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। তবে অপঘাতে কিংবা দুর্ঘটনায় মৃত্যু অপেক্ষাকৃত বেদনাদায়ক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মারা গেলে কিংবা কাজ করার ক্ষমতা হারালে ওই পরিবার কী ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তা ভুক্তভোগীরাই জানেন।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গত শুক্রবার দেশের সাত জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২১ জন। এর মধ্যে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় দুই বাসের সংঘর্ষে আটজনের প্রাণ গেছে। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত খবর পাঠকদের বেদনাক্রান্ত করবে। সিলেট দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি বলেছেন, ‘গাড়ির অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে লন্ডন এক্সপ্রেস দ্রুতগতিতে ওভারটেক করতে গিয়ে এনা এক্সপ্রেস গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। লন্ডন এক্সপ্রেসের চালক হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।’

বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনার পেছনে অতিরিক্ত গতি ও চালকের বেপরোয়া মনোভাব দায়ী। ২০১৫ সালে জাতীয় মহাসড়কে সিএনজিচালিত থ্রি হুইলার, হিউম্যান হলার, নসিমন, করিমন ও ভটভটি প্রভৃতি ধীরগতির যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়, কিন্তু আইনের প্রয়োগ নেই। দুঃখজনক বিষয় হলো, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের পক্ষ নিয়ে ধর্মঘটের ডাক দেন কোনো মন্ত্রী। মূলত এ কারণেই সড়কে শৃঙ্খলা আনা যাচ্ছে না সবার ধারণা।

সড়ক দুর্ঘটনার অনেক কারণ আমরা জানি। যেমনÑনির্দিষ্ট লেনে গাড়ি না চালিয়ে সড়কের মাঝ দিয়ে চালানো, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানো, মাদক সেবন করে গাড়ি চালানো, চালকদের বেপরোয়া গতিসহ ভুলপথে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো, যথেচ্ছ ওভারটেকিং প্রভৃতি। কিন্তু সম্ভবত সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে আইনের প্রয়োগে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ও দুর্নীতি। রাজধানীতে নিরাপদ সড়ক ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা ঠিকমতো পরিপালিত হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমার কথা। 

সড়কে গাড়ি পার্কিং বন্ধ, লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ, ট্রাফিক আইন আরও কার্যকর করা, ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা, নির্ধারিত গতিতে গাড়ি চালনা ও ওভারটেক না করার বিদ্যমান বিধান পরিপালন নিশ্চিত করা গেলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবেই। তখন সড়কে দুর্ঘটনা কমবে, কমবে প্রাণহানিও।

আমরা মনে করি, দুর্ঘটনা নিছক দুর্ঘটনাই। কিন্তু দুর্ঘটনার জন্য সেসব বিষয়কে দায়ী করা হয়, সেগুলোর বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া না হলে দুর্ঘটনা কমবে না। সড়ক দুর্ঘটনা যেহেতু নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেহেতু এর কার্যকারণও আমাদের জানা। তাই সরকার সিদ্ধান্ত নিলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন নয়। আইন অমান্য করে ব্যস্ত সড়ক-মহাসড়কে এখনও ধীরগতির যান্ত্রিক-অযান্ত্রিক যান চলাচল করে। এগুলো দ্রুতগতির যান চলাচলে বিঘœ ঘটায়। স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় সড়কে এসব অবৈধ যান চলাচল করে। সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকলেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ সম্ভব এবং তাতে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..