সম্পাদকীয়

সড়ক নিরাপত্তায় বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ আমলে নিন

সড়ক দুর্ঘটনা কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। ২০১৮ সালের মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালক ও হেলপারদের (সহকারী) প্রশিক্ষণ, দূরপাল্লার বাসযাত্রায় বিকল্প চালক রাখতে হবে, চালকদের জন্য মহাসড়কের পাশে বিশ্রামাগার রাখতে হবে এবং সংকেত মেনে চলাসহ পাঁচটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরেনি। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করতে হয়েছে স্কুলশিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, মন্ত্রী, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের পর সরকারপ্রধানের নির্দেশনার পরও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরেনি, এটি দুঃখজনক। কিন্তু বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার জরিপ ও গবেষণায় প্রতি বছরই উঠে আসছে, সড়কে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে।

খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএ’র তথ্য, ১৮ লাখ যানবাহন চলছে ভুয়া চালক দিয়ে। এমন নয় যে, সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অজানা। তবুও কেন দুর্ঘটনা বাড়ছে। অনেকে বলেন, আইন প্রয়োগে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ও দুর্নীতির কারণে দুর্ঘটনা কমছে না। এও অভিযোগ রয়েছে, সরকার-ঘনিষ্ঠ কোনো প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তি পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের পক্ষ নিয়ে ধর্মঘটের ডাক দেন এবং বিভিন্ন মহলের সুপারিশ সরকার উপেক্ষা করছে। মূলত এ কারণেই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না বলে সাধারণ মানুষের ধারণা।

উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোও সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। শুক্রবার বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করেছে ‘ডেলিভারিং রোড সেফটি ইন বাংলাদেশ: লিডারশিপ প্রায়োরিটিস অ্যান্ড ইনিশিয়েটিভস টু ২০৩০’ শীর্ষক প্রতিবেদন। এতে তথ্য উঠে এসেছে। এ নিয়ে গতকাল শেয়ার বিজ ‘সড়ক দুর্ঘটনায় দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর হার বাংলাদেশে’ শীর্ষক প্রধান প্রতিবেদন ছেপেছে। উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটি বলছে, সড়ক নিরাপত্তায় এক দশকে ৭৮০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে হবে এবং দুর্ঘটনা কমানো গেলে ২৪ বছরে জিডিপি ৩২ শতাংশ বাড়বে। গাড়ির লাইসেন্স দেওয়ার হার দ্রুত বাড়ায় দুর্ঘটনা বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।

দুর্ঘটনায় রোধে সরকার উদাসীন, সেটি বলার সুযোগ নেই। কেননা সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুমোদন, জাতীয় সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা ২০২০ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিরপেক্ষ প্রয়োগ না থাকলে কঠোর আইনও সুফল বয়ে আনে না। আমরা মনে করি, এটিই আমাদের প্রথম ও প্রধান সমস্যা। দক্ষতা বিবেচনায় ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া, ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা, নির্ধারিত গতিতে গাড়ি চালনা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলতে না দিলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দুর্ঘটনা কমবে। সে ক্ষেত্রে সড়ক নিরাপত্তায় সমর্থন-সহায়তা পাওয়া যাবে উন্নয়ন সহযোগীদের।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..