প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগে সময় বাড়ল সাত দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ বাস্তবায়নে আরও সাত দিন সময় বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আইনটি প্রয়োগের আগেই সবকিছু আটঘাট বেঁধে নামতে হবে। নগরের ফুটপাত ও পার্কিংয়েও শৃঙ্খলা আনতে হবে।’

গতকাল বনানীর সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ে নতুন সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সড়ক পরিবহনের নতুন আইন কার্যকর করতে এর আগে এক সপ্তাহ সময় বাড়ানো হয়েছিল, যাতে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হয়। সচেতনতা বাড়াতে আরও এক সপ্তাহ সময় বাড়ানো হলো। এর পর থেকে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে।’

তিনি বলেন, নতুন আইনটির বিধি প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে। আইনটি প্রয়োগের আগেই সবকিছু আটঘাট বেঁধে নামতে হবে। এজন্য নগরের ফুটপাত ও পার্কিংয়ে শৃঙ্খলা আনতে হবে। আইনে শাস্তির পরিমাণ কী, তা সবাইকে জানানো দরকার। এজন্য গণমাধ্যমকেও ভূমিকা পালন করতে হবে।

সড়কমন্ত্রী বলেন, এই আইনের বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং জব। এখানে বাধা আছে, চ্যালেঞ্জ আছে। সাহসের দরকার, সততার দরকার ও কমিটমেন্টের দরকার। আইন যেমন আছে, তেমনই আইনের বিধিও দরকার। সড়কে শৃঙ্খলা আনতে হলে শাস্তি থাকতে হবে। এ কারণেই কয়েক দিন ধরে বিআরটিএ’তে লাইসেন্স নবায়নের হিড়িক পড়েছে।

উল্লেখ্য, ঢাকার সড়কে বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী প্রাণ হারানোর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনের পর শাস্তির বিধান কঠোর করে নতুন সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়ন করা হয়, যা ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর করার কথা জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হলেও জনসচেতনতা ও বিধি প্রয়োজনের জন্য সময় নেওয়া হচ্ছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিআরটিএ ও বিআরটিসি নিয়ে প্রায়ই আমি দুশ্চিন্তায় থাকি। প্রায়ই এই দুটি প্রতিষ্ঠান খারাপ খবরের শিরোনাম হয়।’

তিনি বলেন, বিআরটিএর ‘অপকর্মকারী’ কর্মকর্তাদের এখানে-ওখানে বদলি করেও শোধরানো যায় না; চুরিচামারি ও দুর্নীতি তাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। তাদের ব্যাপারে কঠোর হতে হবে, তাদের বের করে দিতে হবে। নানা জায়গায় কাজ করে অপকর্মের ব্যাপারে পাকা হয়ে গেছে অনেক কর্মকর্তা, তাদের বাদ দিতে হবে। এই ছিঁচকে চোর বদলি করেও পরিবর্তন হয় না।

বিএনপির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদ খান এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেনÑএ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অন্য দলের মধ্যে কী হলো, কে কোন দল থেকে চলে গেল, কে এলোÑএ বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগের কোনো মাথাব্যথা নেই। আওয়ামী লীগে যারা অনুপ্রবেশকারী তাদের নিয়েই তো আমরা ব্যস্ত। অন্য দলের বিষয় নিয়ে আমরা ভাবি না।’

সর্বশেষ..