মত-বিশ্লেষণ

সন্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে নির্বিচার প্রত্যাখ্যান নয়

মোহাম্মদ আবু নোমান : কেউ বাঘের খাঁচায় ঢুকে বলবে ‘মামা আমাকে খেয়ো না’ এটা যেমন অবাস্তব ও অগ্রহণযোগ্য, তেমনি ক্ষুধার্তকে রোস্ট, পোলাও, রেজালা, কলিজা, দুধ, মিষ্টি ও মুখরোচক খাবার পরিবেশিত টেবিলের সামনে বসিয়ে বলা হবে, ‘সাবধান, খাওয়া যাবে না!’ এগুলো বোকামি নয় কি? প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে আর মেয়ে একান্তে, আড়ালে, আবডালে, নির্জনে কাছে আসবে, আর তাদের মধ্যে কোনো আদিম রিপু জেগে উঠবে না কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এটা আছে কি? কখনও খোঁজ নিয়েছেন আপনার ছেলে-মেয়ে কী দেখে, কী করে, কোথায় যায়, কার সঙ্গে ওঠাবসা করে, কার সঙ্গে ফোনে কথা বলে? বাবা-মা হিসেবে এসবের খবর রাখা আমাদের দায় নয় কি? এসব খোঁজ না নিয়ে ক্ষেত্রবিশেষে সব দোষ ধর্ষকের দেয়া হচ্ছে কেন সে ধর্ষণ করল! আবার কখনও ধর্ষিতার দোষ কেন সে এখানে এলো, ওখানে গেল? সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডির মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ছাত্রী আনুশকা নূর আমিনকে ধর্ষণ ও হত্যা করার ঘটনায় আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে, শিখতে হবে।

ভাবা যায়, ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ‘প্রেমিক’ ফারদিন ইফতেখার দিহানের বাবা-মা প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করছেন। যখন বাবা-মা শতভাগ নিশ্চিত, সন্তানটি অপরাধ করেছে এবং সে প্রাপ্তবয়স্ক, তখন কি তাদের কর্তব্য যাবতীয় মিথ্যা তথ্য ও প্রমাণপত্র সংগ্রহ করে সন্তানকে অপ্রাপ্তবয়স্ক দেখানোর চেষ্টা করা, অথবা রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং আর্থিক সামর্থ্য থাকায় আইন বা বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করা, কিংবা সন্তানের নৈতিক স্খলনের পক্ষে দাঁড়ানো? দিহানের বয়স কমিয়ে দেখানো, তার মায়ের অনুশোচনাহীনতা এবং সন্তানের পক্ষ নিয়ে তার নিত্যনতুন মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমকে নানারকম প্রশ্ন ও উত্তরে সরগরম রেখেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিভাবকত্বের ব্যর্থতার জন্য দায়ী করা হচ্ছে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার কলাবাগানের স্কুলছাত্রীর বাবা-মাকেও। এখন প্রশ্ন ওঠা দরকার, অভিভাবকত্বের নাগরিক দায় ও দায়িত্বের বিষয়! কারণ তারা সমাজের কাছে দায়বদ্ধ। আমরা আশা করি কলাবাগানের স্কুলছাত্রী হত্যাকে কেন্দ্র করে অভিভাবকের দায়-ভাবনা শুরু হবে।

এছাড়া মেয়ে হত্যার জন্য মামলা করেছে আনুশকার পরিবার। কিন্তু মেয়েকে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে অবাধে মেলামেশার সুযোগ দিলেন কেন? এখন কান্নাকাটি করে আদরের সন্তানকে আর ফিরে পাওয়া যাবে কি? ছেলে-মেয়েরা একসঙ্গে খেলাধুলা করবে, গল্প করবে, গ্রæপ স্টাডি করবে, ক্লাস পার্টি/বনভোজনের নামে ধুমধাম নেচেগেয়ে নিজেকে উপস্থাপন করবে, প্রেম করবে, ভালোবাসবে, ডোন্ট মাইন্ড পরিভাষা প্রমোট করে সুযোগ বুঝে নির্জন স্থানে নির্লজ্জ শারীরিক খেলায় মেতে উঠবে…। গলাপানিতে খাল পার হতে বলে, বলা হবে ভিজতে পারবে না, আর্শ্চয নয় কি? এজন্য প্রয়োজন সঠিক শিক্ষা, কঠোর আইন ও সহজ বাস্তবায়ন।

বিয়ের আগে বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড কালচার, গ্রুপ স্টাডির নামে ফ্রি মিক্সিংকে প্রমোট করা এবং অশ্লীলতা করা যদি সমাজের চোখে অবৈধ না হয়, তবে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনও তো অবৈধ হওয়ার কথা নয়! মেয়েটা যদি মারা না যেত তাহলে এত হুলস্থুল হতো কি? নাকি দুজনের পারিবারিক মৌন সম্মতিতে এরকম অবৈধ মেলামেশা ঘটেই চলত! ফ্রি মিক্সিং কিশোর-কিশোরীদের কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না। আনবে শুধু লাশ এবং তৈরি করবে ধর্ষণের রাজ্য! সমাজে ‘মুক্তমনা চিন্তা’ নামক লাগামহীন ঘোড়া ছোটালে সমাজ নামক সুন্দর ফসলি জমির ক্ষতি ছাড়া কিছুই হবে না।

অভিভাবকের দায়

আদর-ভালোবাসা দিয়ে সবসময় সন্তানকে সঠিক পথে রাখা যায় না। প্রবাদ আছে, ‘কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ, পাকলে করে ঠাস-ঠাস।’ ‘ছোটবেলায় মানুষ কত কী করে; ম্যাচিউরড হয়নি, না বুঝে করেছে, বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে,’ এরকম পরিভাষা অনেক গার্জিয়ানের মুখে শোনা যায়। ছোটখাটো অপরাধের পরও শাসনহীন পরিবেশে যে শিশুরা বেড়ে ওঠে, তারাই বড় হয়ে বড় অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পরে। কোমলমতি শিশুদের মাঝেই নিজ নিজ ধর্মীয় মূল্যবোধ শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। ক্ষেত্রবিশেষে তাদের এত ভালোবাসা দেয়া হয় যে, তাদের সব অন্যায় কাজকে নির্দ্বিধায় মেনে নেয়া হয়। কখনও কখনও তাদের নামে অভিযোগ এলে সন্তানের অন্যায়ের পক্ষে ওকালতি করতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠিত হয় না। এমনও দেখা যাচ্ছে, মা তার সন্তানের অন্যায়গুলো জানা সত্তে¡ও সংসারের অশান্তির কথা ভেবে বাবার নজরে আনছেন না। ফলে তারা আশকারা পেতে পেতে মাথায় উঠে যাচ্ছে। আমাদের অক্ষমতা, অবহেলা ও পক্ষপাতিত্বের কারণে তারা প্রশ্রয় পেয়ে কখন যে একটা অমানুষে পরিণত হয়েছে, তা আমরা বুঝে উঠতে পারিনি। যখন বুঝেছি তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। অভিভাবকের দায় নিয়ে ভাবার সঙ্গে রাজনৈতিক নীতিমালা, শিক্ষা নীতিমালা, সাংস্কৃতিক নীতিমালা, ইন্টারনেট নীতিমালা, বিজ্ঞাপন নীতিমালা প্রভৃতি সব নীতিমালার দায় ঠিক করতে হবে।

চাহিবামাত্র চাহিদা পূরণ নয়

আগে একজন বাবার আয় কম ছিল, সন্তানেরও চাহিদা কম ছিল। তাই ছেলে-মেয়েরা প্রকৃত মানুষ হতো। এখন অন্যায় ও অবৈধ পন্থায় একজন বাবার আয় অনেক, কিন্তু সন্তানেরা অমানুষ! আগে বেশি চেয়েও সন্তান অল্প কিছু পেত, আর এখন না চাইতেই অনেক কিছু পায়। বাবা-মায়ের সন্তানকে অধিক বিশ্বাস করা বন্ধ করতে হবে এবং চাহিবামাত্র চাহিদা পূরণ করা বন্ধ করতে হবে। আমরা সবাই এখন ভোগবাদী ও আত্মকেন্দ্রিক। যে পশ্চিমাদের আমরা অনুসরণ করি, তারা যা দিচ্ছে আমরা তাই গিলি। কিন্তু তাদের বাস্তব অবস্থা কী, তা আমরা চিন্তা করি না। তাদের পরিবারপ্রথা ভেঙে পড়েছে বহু আগে। আমরা সেই পথেই হাঁটছি! ভোগবাদীর মূল শিক্ষা হচ্ছে শুধু খাও, ভোগ করো এবং নিজকে নিয়ে চিন্তা করো।

যে দুঃখজনক ঘটনা নিয়ে কথা বলছি, তার প্রধান কারণই হচ্ছে পরিবারের দায়িত্বহীনতা, অসচেনতা ও সুশিক্ষার অভাব। অপ্রাপ্ত বয়সে সন্তানকে আগলিয়ে রেখে ভালোবেসে সুশিক্ষা দিতে না পারলে ভুলের মাশুল এভাবেই দিতে হবে। এখন (ধর্ষক) দিহান ও আনুশকার (ধর্ষিতা) পরিবার একে অপরকে দোষারোপ না করে আগেই দায়িত্বশীল হলে এরকম ঘটনা হয়তো এড়ানো যেত।

খোলামেলা সংস্কৃতি

সব ধর্মগ্রন্থগুলোর মৌলিক শিক্ষা সে রকমই কেউ যেন সীমা লঙ্ঘন না করে। সামাজিক অবক্ষয় রোধে ওয়েব সিরিজের নামে নীলছবি, বিভিন্ন চ্যানেলে ক্রাইম শো এবং নাটক-সিনেমার নামে নষ্ট প্রেমকাহিনি বন্ধ না করলে আমাদের মুক্তি নেই। এই অবক্ষয় থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা। সস্তা স্মার্টফোনের সঙ্গে সহজলভ্য ইন্টারনেট। উঠতি বয়সি তরুণ-তরুণীদের হাতে-হাতে, পকেটে-পকেটে এখন নীল দুনিয়ার সাম্রাজ্য! পর্নগ্রাফি, ওয়েস্টার্ন কালচার, খোলামেলা সংস্কৃতি ও অশ্লীল নাটক উš§ুক্ত করার খেসারত মনুষ্যত্ব বিকৃতির রূপে আবিভর্‚ত হয়েছে। পর্নোগ্রাফিতে বেশিরভাগ ছেলে-মেয়ে আসক্ত। একটা পর্যায়ে গিয়ে সঠিক বোধবুদ্ধি হারিয়ে তারা নোংরা কাজে জড়িয়ে পড়ছে। বিয়েবহিভর্‚ত শারীরিক সম্পর্ক, হোক সে মিউচুয়াল সেক্স, তাও একটি ক্রাইম। ফ্রি মিক্সিং যে এক ধরনের কু-কালচার কলাবাগানের ঘটনা তা প্রমাণিত। সময়ের কাজ সময়ে করতে হয়। বিয়ের সম্পর্ক যৌবনের সঙ্গে, ক্যারিয়ারের সঙ্গে নয়। ক্যারিয়ার গড়ার জন্য পড়ে রয়েছে সারা জীবন। যৌবন সৃষ্টিকর্তার দেয়া এমন এক অমূল্য সম্পদ, যেটা নবায়নযোগ্য নয়। অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের মতোই বিয়েও একটি বেসিক নিড বা মৌলিক অধিকার। এটি একটি সহজাত বিষয়, যেটাকে ইগনোর করার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও পরিবেশে কোনো ছেলে বা মেয়ে গড়ে কত বছরে সেক্সুয়াল অ্যাবিলিটিতে পৌঁছে তা পরিবারকে ভাবতে হবে।

প্যারেন্টাল কন্ট্রোল জরুরি

আইনের আওতায় আসা কিশোরদের নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ গত ১১ জানুয়ারি বলেন, কলাবাগানে ইংরেজি মাধ্যমের ছাত্রীর ক্ষেত্রে যেটি ঘটেছে, সেই ঘটনাটি ‘পূর্ণাঙ্গ ক্রাইম’। এখানে হত্যা ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় পরিবারের ভ‚মিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ছেলে বা মেয়ে কোথায় যায়, কী করে, সেই খোঁজ অভিভাবকদের রাখতে হবে। প্যারেন্টাল কন্ট্রোল জরুরি। সন্তান জš§ দিয়েছেন, দায়দায়িত্ব নিতে হবে। এটা পরিবারের সামাজিক, নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। সন্তানদের মধ্যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের সঞ্চার করার দায়িত্ব পরিবারের, সমাজের।’ র‌্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে কিশোরদের মধ্যে গ্যাং কালচারের বিস্তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আজকাল আধুনিকতা ও স্বাধীনতার নামে স্কুল-কলেজগামী ছেলে-মেয়েরা যেভাবে চলাফেরা করে, তা সমাজের জন্য যে কল্যাণকর নয়, তার প্রমাণ কিশোর গ্যাং, সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার, কিংবা জনপ্রিয়তার লোভের টিকটক কর্মকাণ্ড। প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করে মানুষকে এগিয়ে যেতে হবে, এটা যেমন সত্যি, তেমনিভাবে প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে নৈতিকতার সমন্বয় করে নিয়মনীতি মেনে পরিশীলিতভাবে জীবন পরিচালনা করাটাই হলো আধুনিকতা। এ বোধটা সন্তানকে দিতে হবে পরিবার থেকে।

যৌনতাকে নয়, বিয়েকে সহজ করতে হবে

মানুষ মানুষকে কতটুকু ভালোবাসতে পারে? আদৌ কতজন, কাকে মনপ্রাণ থেকে ভালোবাসে? এই যে আমরা দেখছি প্রেমিক-প্রেমিকারা ভালোবাসার কথা বলে, জীবন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় সেসব কতটুকু সত্য! নাকি তারা উভয়ই পাকা অভিনেতা? যে মেয়ে বয়ফ্রেন্ড চিনে-জানে, সে স্বামীকেও চিনবে। বিয়ে বন্ধ রেখে প্রেম উম্মক্ত করে দেয়ার খেসারত জাতি দিচ্ছে। যাহোক কতিপয় (সবাই নয়) সেকুলার বুদ্ধিজীবী, নারী আন্দোলনকারী, নাটক-সিনেমার পরিচালক চেতনধারী মুক্তমনা ও ছেলে-মেয়ের গ্রুপ স্টাডি নামক অবাধ বিচরণের আবিষ্কারকরা বিয়েবহিভর্‚ত প্রেম-ভালোবাসা ও সেক্স করাকে স্বাধীনতা ও সমর্থন করেছেন, অথচ বিয়ে করাকে তারা কঠিন করে দিতে সোচ্চার। কলাবাগানের ধর্ষণের মৃত্যু হওয়া আনুশকা মারা না গেলে পূর্ণাঙ্গ ভালোবাসাই বলা হতো! আজকে যদি মেয়েটি না মারা যেত, তাহলে কেউ জানতাম না। প্রেগন্যান্ট হলেও নয়। এমন হাজারো ঘটনা প্রতিদিন হচ্ছে। ছেলে-মেয়ের একে অপরের প্রতি প্রকৃতিগতভাবেই আকর্ষণ রয়েছে, আছে জৈবিক চাহিদা। যৌনতাকে নয়, বিয়েকে সহজ করা দরকার। এখনকার ছেলে-মেয়েরা ম্যাচিউরড হয়ে যায়, অথচ তাদের বিয়ের ব্যাপারে সমাজে কত টালবাহানা চলে। সার্টিফিকেটেও ছেলে-মেয়েদের বয়স কম থাকায় তারা বিয়ের উপযুক্ত হলেও বিয়ে দেয়া যায় না।

বিয়েবহিভর্‚ত যৌনকর্মের ফল

বিয়েবহির্ভূত স্বেচ্ছা যৌনকর্মের ফলাফল হলো পারস্পরিক প্রেম-ভালোবাসার আবেদনে দুজনেরই ইচ্ছামতো মেলামেশা। কিছুদিন পর মনের মিল না হলে বা প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে গেলে মেয়ে অভিযোগ করে, ‘দীর্ঘদিন আমাকে সে ধর্ষণ করেছে।’ এরপর ধর্ষণের মামলা, অথবা ড্রেনে, খালে, বাগানে, ডাস্টবিনে কিংবা পথের ধারে কাপড়ে মোড়ানো অবৈধ সন্তানটি লোকচক্ষুর আড়ালে শিয়াল-কুকুরের জন্য ফেলে যাওয়া এই যদি হয় প্রগতি আর আধুনিকতা, তাহলে শত ধিক এমন প্রগতির ওপর। দায়িত্বহীন অভিভাবক আর ব্যভিচারী প্রজন্মকে নিয়ে কোনো সমাজ বা দেশ কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না। রক্তক্ষরণ হয়নি বলে এরকম হাজারো মিউচুয়াল সেক্স ও গ্রুপ স্টাডির কথা আমাদের অজানাই থেকে যায়। দোকান বন্ধ রাখলে কাস্টমার চাইলেও কিছু কিনতে পারবে না। কিন্তু দোকান খোলা রেখে হাজারো সচেতনতা বাড়ানোর নছিহতে কোনো কাজ হবে কি? আমাদের চিন্তাচেতনার সঙ্গে বস্তুগত বাস্তব সংস্কৃতির বিরাট একটা ফারাক রয়ে গেছে। এই গলদটাই সমাজে কাঁটা হয়ে আছে।

ফ্রিল্যান্স লেখক

[email protected]

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..