প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

সপ্তাহজুড়ে প্রতিদিনই বেড়েছে পতনের হার

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহজুড়ে সূচকের পতন হয়েছে। গত সপ্তাহে চার কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। চার দিনই সূচকের পতন হয়। প্রতিদিনই পতনের হার ক্রমাগত বেড়েছে। আর সে সঙ্গে বেড়েছে শেয়ারের দরপতন। গতকাল প্রায় ৭৭ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়েছে। দর বেড়েছে মাত্র ১৭ শতাংশ বা ৫৯টি কোম্পানির। পাট ছাড়া সব খাতেই বড় পতন হয়েছে। লেনদেন ৩০০ কোটির ঘরে আটকে আছে। গত কয়েক মাস ধরে দেখা যাচ্ছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন আশ্বাস বাণীতে বাজার দু’একদিন ঘুরে দাঁড়ালেও আবার সে একই অবস্থানে ফিরে যায়। তবে এতদিন সূচক পাঁচ হাজার পয়েন্টে নামার পর সাধারণ বাজার ঘুরে দাঁড়াত। কিন্তু এবার তেমনটি দেখা যাচ্ছে না। সূচকের পতন কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা নিয়ে শঙ্কিত বাজারসংশ্লিষ্টরা।
গতকাল সব খাতেই ছিল দরপতনের আধিক্য। মূল লেনদেন প্রকৌশল এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে ব্যাংক খাতে লেনদেন বেড়েছে সামান্য। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ২২ শতাংশ। এ খাতে ৮৪ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা লেনদেন হয়ে শীর্ষে ছিল সরকারি মালিকানাধীন ন্যাশনাল টিউবস। দর বেড়েছে ৪০ পয়সা। এটলাস বাংলাদেশের প্রায় ১১ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৯ টাকা। কোম্পানিটি দর বৃদ্ধিতে তৃতীয় অবস্থানে উঠে আসে। মুন্নু স্টাফলার্সের সোয়া সাত কোটি টাকা লেনদেন হয়। দরপতন হয় ২৯ টাকা ৩০ পয়সা। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১৯ শতাংশ। এ খাতে ৫৯ শতাংশ কোম্পানির দর কমেছে। ওয়াটা কেমিক্যালের ১২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ২১ টাকা ৪০ পয়সা। কোম্পানিটি দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকায় অবস্থান করে। সিলকো ফার্মার পৌনে আট কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৯০ পয়সা। জেএমআই সিরিঞ্জের সোয়া সাত কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর কমেছে সাত টাকা ৯০ পয়সা। স্কয়ার ফার্মার সাড়ে ছয় কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর কমেছে দুই টাকা ৬০ পয়সা। এছাড়া পৌনে পাঁচ শতাংশ বেড়ে সালভো কেমিক্যাল ও তিন শতাংশ বেড়ে এক্মি ল্যাব দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে অবস্থান করে। বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় ৯ শতাংশ। এ খাতে ৬৫ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। ১০ শতাংশ বেড়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে এমএল ডায়িং। ব্যাংক খাতে আগের দিনের তুলনায় দুই শতাংশ বেড়ে লেনদেন হয়েছে সাত শতাংশ। এ খাতে ৪৬ শতাংশ কোম্পানির দর কমেছে। তবে প্রায় সাত শতাংশ বেড়ে শাহাজালাল ইসলামী ব্যাংক দর বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে। খাদ্য খাতে ৪১ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। এ খাতের বঙ্গজের সোয়া ছয় কোটি টাকা লেনদেন হয়। ১৬ টাকা ৬০ পয়সা বেড়ে দর বৃদ্ধিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল কোম্পানিটি। এ খাতের ন্যাশনাল টি দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে অবস্থান করে। এছাড়া বিবিধ খাতের বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের সোয়া ১৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে দুই টাকা ৪০ পয়ষা। দর বাড়েনি এমন খাতের তালিকায় উঠে আসে টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও প্রযুক্তি, কাগজ ও মুদ্রণ, সেবা ও আবাসন খাত। অন্যদিকে শতভাগ ইতিবাচক ছিল পাট খাত।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..