দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

সপ্তাহের ব্যবধানে ফের সূচকে পতন

ডিএসইর বাজারচিত্র

শেখ আবু তালেব: এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলো না দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচকের উত্থান। গত ৭ নভেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে ইতিবাচক ধারায় শেষ হয় সূচকের লেনদেন। কিন্তু গত সপ্তাহে ডিএসইর সব সূচকের পতন হয়। পতনের হাত থেকে রেহাই পায়নি বড় মূলধনি খাতের কোম্পানির শেয়ারও। শুধু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ইতিবাচক ধারায়। এ সময়ে লেনদেনের সঙ্গে কমেছে বাজার মূলধনও।

গত সপ্তাহের ডিএসইর সাপ্তাহিক লেনদেন তথ্য পর্যালোচনা করে পাওয়া গেছে এমন তথ্য। জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে প্রকৌশল খাতের শেয়ারদর। গত সপ্তাহে ডিএসইতে খাতটির সর্বোচ্চ শেয়ারদরে পতন হয়েছে তিন দশমিক ৫৪ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৫৭টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় ১০৬টির, কমেছে ২২২টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির ও লেনদেন হয়নি দুটি সিকিউরিটিজের। তথ্য অনুযায়ী অধিকাংশ শেয়ারের দর পতন হয়েছে গত সপ্তাহে।

শেয়ারদর পতনের ফলে গত সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণও কমে গেছে আগের সপ্তাহের চেয়ে ১৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এক সপ্তাহে ২৭৫ কোটি টাকার বেশি লেনদেন কম হয়েছে ডিএসইতে। শেয়ারদর পতনের কারণে কমেছে ডিএসইর সব সূচক। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের চেয়ে এক দশমিক ২৯ শতাংশ বা ৬১ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট কমেছে। সপ্তাহ শেষে সূচক দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৭১০ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচক বেড়েছিল ৮৯ দশমিক শূন্য এক পয়েন্ট।

খাতভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ডিএসইর তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের মধ্যে বড় মূলধনি খাতের প্রায় সব শেয়ারদরে সপ্তাহ শেষে পতন হয়েছে। বাদ যায়নি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা খাত।

জানা গেছে, মৌলভিত্তির এসব শেয়ারদরের পতনের অন্যতম কারণ হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা। কোনো এক জায়গায় বিনিয়োগ স্থির করছেন না তারা। অনেক ক্ষেত্রে গুজবের ওপর ভর করেই লেনদেন করছেন। এতে মৌলভিত্তির শেয়ারেও আস্থা রাখছেন না। ফলে মৌলভিত্তির শেয়ারদরেও পতন হচ্ছে কোনো কারণ ছাড়াই।

সাপ্তাহিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইর মোট লেনদেনে সর্বোচ্চ ১৬ শতাংশ অবদান রাখে সাধারণ বিমা খাত। এছাড়া ৯ শতাংশ অবদান রাখে ব্যাংক খাত। এ সময়ে ৯ শতাংশ অবদান রাখে বস্ত্র খাত, টেলিকম খাত তিন শতাংশ অবদান রাখে। এছাড়া লেনদেনে ওষুধ ও রসায়ন খাত ১৪ শতাংশ, জীবন বিমা খাত দুই শতাংশ, সিরামিক খাত তিন শতাংশ, আইটি খাত তিন শতাংশ ও মিউচুয়াল ফান্ড খাত তিন শতাংশ, প্রকৌশল খাত ১৫ শতাংশ ও এনবিএফআই খাত তিন শতাংশ অবদান রাখে।

তথ্য অনুযায়ী, একক কোম্পানি হিসেবে গত সপ্তাহে ডিএসইতে শেয়ারদর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষ ১০টির তালিকায় প্রথমে রয়েছে সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১৭ দশমিক ২৬ শতাংশ। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড়ে ৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির ৩৯ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

এছাড়া শীর্ষ ১০টিতে উঠে এসছে সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড, এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল ফিড মিল, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ও ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফিন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান।

অপরদিকে দর হারিয়ে শীর্ষ ১০টিতে রয়েছে রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড। আলোচিত সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ১৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এরপর রয়েছে বসুন্ধরা পেপার মিলস, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস, শ্যামপুর সুগার মিলস, প্রাইম টেক্সটাইল স্পিনিং মিলস, বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেক্ট্রোডস, শাইনপুকুর সিরামিকস, ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস ও জেমিনি সী ফুড।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..