দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে চাল ও তেলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেশ কিছুদিন ধরেই নিত্যপণ্যের বাজারে চলছে ঊর্ধ্বগতি। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চড়া দামে নাভিশ্বাস অবস্থা স্বল্প আয়ের মানুষের। বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম, কমেনি পেঁয়াজে ঝাঁজ, মরিচে কড়া ঝাল আর সবজি ছুঁতে মানা এই হয়েছে এখন বর্তমানে বাজারের অবস্থা। চাল-ডাল, তেল-পেঁয়াজ, মরিচ-শাকসবজিসহ সব নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা ও বোতলজাত সব ধরনের সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বেড়েছে। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল মানভেদে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা ছিল। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটারে পাঁচ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা পাম তেলের দামও বেড়েছে। এখন প্রতি লিটার পাম ৭৫ থেকে ৮০ টাকা ও পাম সুপার ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল যথাক্রমে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা ও ৭৫ থেকে ৮০ টাকা।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের ব্যবধানে পাম ও সয়াবিন তেল, চাল, প্যাকেট ময়দা, রসুন, মসুর ডাল ও শুকনো মরিচের দাম খুচরা বাজারে বেড়েছে।

রাজধানীর বাজারে এখন প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকা ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মান ও বাজারভেদে পেঁয়াজের দামে এখন তারতম্য রয়েছে। আমদানি করা রসুনের দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।

খুচরায় পেঁয়াজের দামে তেমন হেরফের না থাকলেও পাইকারিতে দাম আবার কিছুটা বাড়ছে বলে জানান কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. ইউনুস। তিনি বলেন, গতকাল পাইকারিতে আমদানি পেঁয়াজের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে। এখন মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি করছেন তারা।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে চালের দামও কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে। এখন খুচরায় প্রতি কেজি মোটা চাল ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা, মাঝারি চাল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা ও সরু চাল ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া প্যাকেটজাত ময়দার দাম কেজিতে দুই টাকা

 বেড়ে ৪২ থেকে ৪৫ টাকা হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে মাঝারি দানা মসুর ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অন্য ডাল আগের সপ্তাহের মতো একই দামে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া শুকনা মরিচের দাম কেজিতে গড়ে ২০ টাকা বেড়ে মানভেদে ২২০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বাজারে ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচ কিনতে গুনতে হচ্ছে ৫০ টাকা। শুকনা মরিচের কেজি ২২০ টাকার নিচে নেই। টিসিবির হিসাবে, গত বছরের তুলনায় দেশি শুকনা মরিচের দাম ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া আমদানি করা আদার দাম বেড়েছে ৪২ দশমিক ৪২ শতাংশ। হলুদ, এলাচ, দারুচিনির পেছনেও বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

দু-একটি বাদে বেশিরভাগ সবজির কেজি ৫০ টাকার ওপরে। এমনকি ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে একাধিক সবজি। শীতের আগাম সবজি শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৮০-২২০ টাকা। ছোট আকারের ফুলকপি, বাঁধাকপির পিস গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকা। পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০-১৪০ টাকা। গাজর আগের মতোই বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা কেজি। উচ্ছের কেজি ৭০-১০০ টাকা। বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা কেজি।

পটোলের দাম কিছুটা কমে ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০-৬০ টাকা। দাম কমার তালিকায় থাকা কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০-৬০ টাকা। বেগুন গত সপ্তাহের মতো ৭০-৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা পিস। কাঁচামরিচের ঝাল আগের মতোই কড়া। ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়।

সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম বলেন, শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়ায় বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। গত সপ্তাহে শিমের কেজি বিক্রি করেছি ১৮০ টাকা। সেই শিম এখন বিক্রি করছি ১২০ টাকা। ৫০ টাকার পটোল ৪০ টাকা হয়েছে। ৬০ টাকার ঝিঙা ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। সামনে সবজির দাম আরও কমবে।

গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়। খাসির মাংস ৯০০ টাকা কেজি। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকাতে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..