প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সপ্তাহের ব্যবধান: ডিএসইতে টার্নওভার বেড়েছে ৭.০৫ শতাংশ

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ইতিবাচক ধারায় শেষ হয়েছে সাপ্তাহিক লেনদেন। শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন, প্রধান সূচক এবং শরীয়াহ সূচকের নতুন উচ্চতায় ওঠার রেকর্ড হয়। এ সপ্তাহে ডিএসইতে টার্নওভার বেড়েছে সাত দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ। সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিনই সূচক বেড়েছে। কমেছে একদিন। দৈনিক গড় লেনদেন আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে সাত দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ। ডিএসইর সবকটি সূচক ইতিবাচক ছিল। বেড়েছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও ইতিবাচক ধারায় শেষ হয়েছে লেনদেন।

সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ৮৫ দশমিক ২১ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়ে পাঁচ হাজার ৮৩৪ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে  পৌঁছানোর নতুন রেকর্ড গড়ে। ডিএসই শরীয়াহ সূচক ২০ দশমিক শূন্য দুই পয়েন্ট বা এক দশমিক ৫৩ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৩২৭ পয়েন্টে পৌঁছার রেকর্ড গড়ে।  ডিএসই ৩০ সূচক ২৭ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে দুই হাজার ১৩১ পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৩৪টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৭টির, কমেছে ১১৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৯ কোম্পানির শেয়ারদর। দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে এক হাজার ১৩৩ কোটি ৮২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৫৯ কোটি ১১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৭৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা বা সাত দশমিক শূন্য শতাংশ।

অন্যদিকে সিএসইতে ২৯১টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৮টির, কমেছে ৯৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৭টি কোম্পানির শেয়ারদর।

গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট টার্নওভারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৬৬৯ কোটি ১৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৩৯ টাকা। আগের সপ্তাহে যা ছিল পাঁচ হাজার ২৯৫ কোটি ৫৬ লাখ ৮২ হাজার ১২৫ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার বেড়েছে ৩৭৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বা সাত দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ।

ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৮৫ হাজার ৪২৫ কোটি ৭৬ লাখ ৮৯ হাজার ৯১৫ টাকা। শেষ কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৯১ হাজার ৮৭৯ কোটি ৩৭ লাখ ৪৮ হাজার ২১৩ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে  এক দশমিক ৬৭ শতাংশ।

দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এক সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স বেড়েছে এক দশমিক ৫১ শতাংশ। এ ছাড়া সিএএসপিআই সূচক বেড়েছে এক দশমিক ৫২ শতাংশ, সিএসই৫০ সূচক এক দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং সিএসআই সূচক এক দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। সিএসই৩০ সূচক বেড়েছে দশমিক ৩২ শতাংশ।

সিএসইতে গেলো সপ্তাহে টার্নওভারের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৫৫ কোটি ২০ লাখ ১৪ হাজার ১৯০ টাকা, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে বেড়েছে ২১ কোটি ৭৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা। আগের সপ্তাহে টার্নওভার ছিল ৩৩৩ কোটি ৪৫ লাখ ৯৮ হাজার ২৯৮ টাকা।

গত সপ্তাহেও ডিএসইর টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে ফু-ওয়াং ফুড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার দর ১৮ টাকা ১০ পয়সা বেড়েছে। তালিকায় এর পরের অবস্থানগুলোয় ছিল পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী ব্যাংক, সায়হাম কটন মিলস, প্রাইম ফিন্যান্স, তুং হাই, তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, জেনারেশন নেক্সট, কেয়া কসমেটিকস।

অন্যদিকে আট দশমিক ৭৫ শতাংশ দর কমে ডিএসইতে টপ টেন লুজার তালিকার শীর্ষে চলে আসে জেড ক্যাটাগরির ওয়েস্টার্ন মেরিন। এরপর ছিল এইচ আর টেক্স, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ডরিন পাওয়ার, ন্যাশনাল হাউজিং ফিন্যান্স, রহিম টেক্সটাইল, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সিভিও পেট্রো কেমিক্যাল, বিডি ওয়েল্ডিং।

ডিএসইতে টার্নওভারের দিক থেকে শীর্ষ দশ কোম্পানি হলো কেয়া কসমেটিকস, বেক্সিমকো, ফু-ওয়াং ফুড, গ্রামীণ ফোন, কনফিডেন্স সিমেন্ট, ইফাদ অটোস, সাইফ পাওয়ার, জেনারেশন নেক্সট, ইসলামী ব্যাংক, লংকাবাংলা।

সিএসইতে সাপ্তাহিক টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসা কোম্পানির মধ্যে রয়েছে আজিজ পাইপস, বিআইএফসি, ফু-ওয়াং ফুড, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ফিন্যান্স প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, ইসলামী ব্যাংক, সায়হাম কটন, তুংহাই নিটিং, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স।

অন্যদিকে টপ টেন লুজার তালিকায় উঠে আসে ওয়েস্টার্ন মেরিন, প্রাইম টেক্সটাইল, সমতা লেদার, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স, এল আর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, লিবরা ইনফিউশন, এইচডব্লিউএ ওয়েল টেক্সটাইল, এইচআর টেক্সটাইল, ওয়াটা  কেমিক্যাল।