প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৩৭.৯৬%

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে সবকটি সূচক কমেছে। দৈনিক গড় লেনদেন ও টার্নওভার কমেছে ৩৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ। বেড়েছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর। বাজার মূলধনও বেড়েছে। গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। সূচক তিন দিন সামান্য বাড়লেও দুই দিন বড় ধরনের পতন হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সব সূচক পতনের পাশাপাশি বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমেছে। মোট লেনদেনও কমে গেছে।

সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ২৪ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বা দশমিক ৪১ শতাংশ কমে ছয় হাজার ৩৯ দশমিক ৫৬ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক চার দশমিক ২৫ পয়েন্ট বা দশমিক ৩২ শতাংশ কমে এক হাজার ৩২৯ দশমিক ৪২ পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএসই ৩০ সূচক ৯ দশমিক ১৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৪২ শতাংশ কমে দুই হাজার ১৮৮ দশমিক ২৯ পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৩৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৮টির, কমেছে ১৫৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১ কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি দুটির। দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৫৭৩ কোটি ৬০ লাখ ৬২ হাজার ৫১৮ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক লেনদেন হয় ৯২৪ কোটি ৫০ লাখ ৬৬ হাজার ১০৯ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৩৫০ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ৩৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

অন্যদিকে সিএসইতে ২৮৪টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৩টির, কমেছে ১৩৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৭টির দর।

গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৮৬৮ কোটি তিন লাখ ১২ হাজার ৫৮৮ টাকা, আগের সপ্তাহে যা ছিল চার হাজার ৬২২ কোটি ৫৩ লাখ ৩০ হাজার ৫৪৩ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার কমেছে এক হাজার ৭৫৪ কোটি ৫০ লাখ ১৭ হাজার টাকা বা ৩৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার মূলধন ছিল চার লাখ সাত হাজার ৫৭৬ কোটি ১১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। শেষ কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল চার লাখ সাত হাজার ৫৯৩ কোটি ৭৭ লাখ ছয় হাজার ৮৬৬ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে দশমিক শূন্য শূন্য চার শতাংশ বা ১৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এক সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স কমেছে দশমিক ৪২ শতাংশ। এছাড়া সিএএসপিআই সূচক কমে দশমিক ৪৩ শতাংশ, সিএসই৫০ সূচক  দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং সিএসআই সূচক কমেছে দশমিক ১৫ শতাংশ। সিএসই৩০ সূচক কমেছে দশমিক ২১ শতাংশ।

সিএসইতে গত সপ্তাহে টার্নওভারের পরিমাণ দাঁড়ায় ২০০ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার ৫৬২ টাকা, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে কমেছে ৩১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে টার্নওভার ছিল ২৩২ কোটি ৪৫ লাখ ৭৮ হাজার ৪০১ টাকা।

গত সপ্তাহে ডিএসইর টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে ওয়াটা কেমিক্যাল। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় এর পরের অবস্থানগুলোতে ছিল দেশ গার্মেন্টস, ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস, বিবিএস কেবল্স, স্কয়ার টেক্সটাইল, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, রংপুর ফাউন্ড্রি, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও আলহাজ টেক্সটাইল।

অন্যদিকে ২১ দশমিক ৬৯ শতাংশ দর কমে ইফাদ অটোস ডিএসইতে টপ টেন লুজার তালিকার শীর্ষে চলে আসে। এর পরের অবস্থানে ছিল মিথুন নিটিং, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, স্টাইল ক্রাফট, সুহƒদ ইন্ডাস্ট্রিজ, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, মুন্নু জুট স্টাফলার, পদ্মা ইসলামী লাইফ, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল ও এভিন্স টেক্সটাইল।

ডিএসইতে টার্নওভারের দিক থেকে শীর্ষ দশ কোম্পানি হলোÑইফাদ অটোস, উত্তরা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, আমরা নেটওয়ার্ক, লংকাবাংলা ফিন্যান্স, সিটি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও আইডিএলসি ফাইন্যান্স।

সিএসইতে সাপ্তাহিক টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসা কোম্পানির মধ্যে রয়েছে ওয়াটা কেমিক্যাল, বিবিএস কেবল্স, আজিজ পাইপস, বাংলাদেশ ল্যাম্পস, স্কয়ার টেক্সটাইল, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, আরামিট লিমিটেড, রংপুর ফাউন্ড্রি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও সাউথইস্ট ব্যাংক।

অন্যদিকে টপ টেন লুজার তালিকায় উঠে আসে ইফাদ অটোস, মিথুন নিটিং, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এসআইবিএল, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, কে অ্যান্ড কিউ, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, পিপুলস ইন্স্যুরেন্স ও প্রাইম  ব্যাংক।

সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল ব্যাংক এশিয়া, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, আমরা নেটওয়ার্ক, ন্যাশনাল ব্যাংক, লংকাবাংলা ফিন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স ইনভেস্টমেন্ট, ব্র্যাক ব্যাংক, বেক্সিমকো, বিবিএস কেবল্স ও এক্সিম ব্যাংক।