বাজার বিশ্লেষণ

সপ্তাহের শেষ দিনে ইতিবাচক গতি উভয় বাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সপ্তাহের শেষ দিনেও ইতিবাচক গতি দেখা গেছে উভয় পুঁজিবাজারে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ শেয়ারদর বৃদ্ধির পাশাপাশি সূচক ইতিবাচক ছিল। তবে লেনদেন আগের কার্যদিবসের তুলনায় কমেছে। এদিন ৪৯ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে, কমেছে ৩৫ শতাংশের দর। লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান হয়। তবে ৩০ মিনিটের মধ্যে সূচক সামান্য নেমে যায়। এরপর মোটামুটি স্থিতিশীল অবস্থানে থেকে লেনদেন শেষ হয়। লেনদেন শেষে ১৭ পয়েন্ট ইতিবাচক ছিল সূচক। বাকি দুই সূচকও ইতিবাচক ছিল। অন্যদিকে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক ও বেশিরভাগ শেয়ারদর বৃদ্ধির পাশাপাশি বড় অঙ্কের লেনদেন হয়। অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের প্রায় ৭৭ কোটি টাকা লেনদেনের কারণে সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৭০ কোটি টাকার বেশি।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৭ দশমিক ২১ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়ে চার হাজার ৭৭১ দশমিক ৯১ পয়েন্টে অবস্থান করে।

ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক দশমিক ২৪ পয়েন্ট বা দশমিক ০২ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৮৯ দশমিক ৫৭ পয়েন্টে অবস্থান করে। আর ডিএস৩০ সূচক তিন দশমিক ৭১ পয়েন্ট বা দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৬৫৭ দশমিক ৯১ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন এক হাজার ২৮৩ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৫৯ হাজার ১১০ কোটি টাকায়। ডিএসইতে লেনদেন হয় ৩৬৭ কোটি ৯ লাখ ১৬ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩৮৫ কোটি ২৫ লাখ ৬৭ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে লেনদেন কমেছে ১৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এদিন ১২ কোটি ৮৯ লাখ ১৬ হাজার ৬০২টি শেয়ার এক লাখ ১২ হাজার ৫৪৭ বার হাতবদল হয়। লেনদেন হওয়া ৩৩০ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৬৪টির, কমেছে ১১৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫১টির দর।

গতকাল টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে ন্যাশনাল টিউবস। কোম্পানিটির ১৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ছয় টাকা ৪০ পয়সা। এরপরে সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্সের ১৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে তিন টাকা ৮০ পয়সা। ফরচুন শুজের ১১ কোটি ২৮ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে এক টাকা ২০ পয়সা। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্লসের ৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে চার টাকা। সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালসের সাত কোটি ৪৩ লাখ টাকা লেনদেন হয়, দর কমেছে ১০ পয়সা। এছাড়া রেনাটার সাত কোটি ৪২ লাখ টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে ১২ টাকা। স্কয়ার ফার্মার সাত কোটি টাকা, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের ছয় কোটি ৯৫ লাখ টাকা, সুহƒদ ইন্ডাস্ট্রিজের ছয় কোটি ৭০ লাখ টাকা ও ওয়াটা কেমিক্যালের ছয় কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।           

৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে আইসিবি। সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্সের দর ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের দর সাত দশমিক ৯৫ শতাংশ, রূপালী লাইফের দর সাত দশমিক ৮০ শতাংশ, রিজেন্ট টেক্সটাইলের দর সাত দশমিক ৫৪ শতাংশ, ন্যশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর সাত দশমিক ৪২ শতাংশ, সুহƒদ ইন্ডাস্ট্রিজের দর ছয় দশমিক ৭৬ শতাংশ, ন্যাশনাল টিউবসের দর চার দশমিক ৯২ শতাংশ, কনফিডেন্স সিমেন্টের দর চার দশমিক ৫৩ শতাংশ ও কেডিএস এক্সেসরিজের দর চার দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়েছে।

সাত দশমিক ৬৯ শতাংশ দর কমে শীর্ষে উঠে আসে ফ্যামিলি টেক্স। নূরানী ডায়িংয়ের দর সাত দশমিক ০৭ শতাংশ, ইউনাইটেড এয়ারের দর ছয় দশমিক ৬৬ শতাংশ, মোজাফফর হোসেন স্পিনিংয়ের দর ছয় দশমিক ২৫ শতাংশ, সমতা লেদারের দর পাঁচ দশমিক ৭৭ শতাংশ, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ডের দর চার দশমিক ৫৯ শতাংশ, নাহি অ্যালুমিনিয়ামের দর চার দশমিক ৫৬ শতাংশ, এসপি সিরামিকসের দর সাড়ে চার শতাংশ, এ্যাপোলো ইস্পাতের দর চার দশমিক ৪৪ শতাংশ ও ঢাকা ডায়িংয়ের দর তিন দশমিক ৩৩ শতাংশ কমেছে। 

অন্যদিকে সিএসইতে গতকাল সিএসসিএক্স মূল্যসূচক ২১ দশমিক ৮২ পয়েন্ট বা দশমিক ২৪ শতাংশ বেড়ে আট হাজার ৭৯৮ দশমিক ৬১ পয়েন্টে এবং সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৭ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট বা দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৪৮৩ দশমিক ২৭ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল সর্বমোট ২৩৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৭টির, কমেছে ৭৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৯টির দর।

সিএসইতে এদিন ৯০ কোটি ছয় লাখ ১২ হাজার ২৩১ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১৯ কোটি ৫৬ লাখ ২৯ হাজার ৭৬৫ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৭০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানিটির ৭৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়। ডরিন পাওয়ারের এক কোটি ১০ লাখ টাকা, লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ৭৯ লাখ টাকা, বেক্সিমকোর ৬৭ লাখ টাকা, কপারটেকের ৫১ লাখ টাকা, কপারটেকের ৫০ লাখ টাকা, বিএসসিসিএলের ৪১ লাখ টাকা, ভিএফএস থ্রেডের ৩৬ লাখ টাকা, আইএফআইসি ব্যাংকের ২৮ লাখ টাকা ও ন্যাশনাল পলিমারের সাড়ে ২৭ লাখ টাকা লেনদেন হয়। 

সর্বশেষ..