প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সপ্তাহে পাট ও মাসে বিমা খাতে মুনাফা বেশি

আতাউর রহমান: দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা দুভাবে মুনাফা করে থাকেন। একটি হচ্ছে শেয়ারের দর বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্যাপিটাল গেইন, অন্যটি হচ্ছে বছর শেষে কোম্পানিগুলো থেকে দেয়া শেয়ারপ্রতি লভ্যাংশ। তবে লোকসানের দিক থেকে শুধু শেয়ারদর কমার মাধ্যমে ক্যাপিটাল লস হয়ে থাকে। সে হিসেবে গত সপ্তাহে শেয়ারদর বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্য খাতগুলোর তুলনায় ক্যাপিটাল গেইন বা মুনাফা বেশি হয়েছে পাট খাতের শেয়ারে। কিন্তু এক মাসের ব্যবধানে মুনাফা বেশি দিয়েছে বিমা খাতের শেয়ার। আবার সপ্তাহের ব্যবধানে শেয়ারে দামে ক্যাপিটাল লস বেশি হয়েছে কাগজ খাতে। এ খাতে গত এক মাসের ব্যবধানেও বিনিয়োগকারীদের লোকসান বেশি হয়েছে।

সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে নামমাত্র উত্থান হয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান বা সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৩০ পয়েন্ট। এছাড়া বাকি সূচকগুলোও নামমাত্র উত্থান হয়েছে। সূচকের নামমাত্র উত্থান হলেও লেনদেন পতনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। আগের কয়েক সপ্তাহের মতো গত সপ্তাহেও লেনদেন কমেছে এবং লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটদর অপরিবর্তিত ছিল।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ক্যাপিটাল গেইন বা মুনাফা দেয়া পাট খাতের শেয়ারদর বেড়েছে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। এরপর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের শেয়ার। খাতটিতে গত সপ্তাহে শেয়ারদর বেড়েছে ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ। গত সপ্তাহে ক্যাপিটাল গেইন বা মুনাফার দিক থেকে তৃতীয় স্থানে থাকা ট্যানারি খাতে শেয়ারদর বেড়েছে ৩ দশমিক ২০ শতাংশ। এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ারদর গত সপ্তাহে ২ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

এদিকে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ক্যাপিটাল লস বা শেয়ারদর বেশি কমেছে কাগজ খাতে। খাতটিতে ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ শেয়ারদর কমেছে। এরপর শেয়ারদর বেশি কমেছে সেবা ও আবাসন এবং বিমা খাতে। উভয় খাতে গত সপ্তাহে দশমিক ৬০ শতাংশ শেয়ারদর কমেছে।

গত সপ্তাহে লেনদেনের দিক থেকে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ারে। খাতটিতে গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৯ দশমিক ৬০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইটি খাতে গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৮ দশমিক ৩০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। গত সপ্তাহে লেনদেনে দিক থেকে ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ লেনেদেনের মাধ্যমে বিমা খাত ছিল তৃতীয় স্থানে। বিবিধ খাতের শেয়ারে গত সপ্তাহে ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ লেনদেন হয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

মাসিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত এক মাসের ব্যবধানে ক্যাপিটাল গেইন বা মুনাফা বেশি হয়েছে বিমা খাতের শেয়ারে। এ খাতে এক মাসে শেয়ারদর বেড়েছে ৫ দশমিক ১০ শতাংশ। এছাড়া দ্বিতীয় স্থানে থাকা ট্যানারি খাতের শেয়ারদর বেড়েছে ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। ২ দশমিক ৪০ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনের মাধ্যমে গত এক মাসে শেয়ারদর বেশি বেড়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে। চতুর্থ স্থানে থাকা পাট খাতে এক মাসে শেয়ারদর বেড়েছে ২ দশমিক ২০ শতাংশ।

এদিকে ক্যাপিটাল লস বা শেয়ারদর গত এক মাসে বেশি কমেছে কাগজ খাতে। এক মাসে এ খাতের শেয়ারদর কমেছে ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। এরপর শেয়ারদর বেশি কমেছে সেবা ও আবাসন খাতে। এ খাতে শেয়ারদর কমেছে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ। ৬ দশমিক ১০ শতাংশ শেয়ারদর কমার মাধ্যমে ক্যাপিটাল লসের তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভ্রমণ ও অবকাশ খাত। তবে আলোচ্য খাতটি তিন ও ছয় মাসে এবং বছরের দিক থেকে ক্যাপিটাল গেইনের শীর্ষে রয়েছে। তিন মাসে ৪৭ দশমিক ২০ শতাংশ, ছয় মাসে ৬০ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং বছরের ব্যবধানে ৭৩ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইন হয়েছে খাতটির শেয়ারে। এছাড়া গত এক মাসে শেয়ারদর কমায় চতুর্থ স্থানে থাকা বিবিধ খাতে দর কমেছে ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ।

গত সপ্তাহের বাজার পর্যালোচনায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দুই হাজার ২৪ কোটি ৬৪ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার লেনদেন হয়েছে। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল দুই হাজার ৬৭ কোটি ৯৫ লাখ ৮২ হাজার ৪৮২ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেনে ৪৩ কোটি ৩১ লাখ ৩০ হাজার ৯৭৬ টাকা কমেছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩০ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বা  দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ২৪৫ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ১৬ দশমিক ২১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২০ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২৬ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে এক হাজার ৩৭০ দশমিক ৩২ পয়েন্টে এবং দুই হাজার ২১৬ দশমিক ১৩ পয়েন্টে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৬৭টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৫৬টির, কমেছে ৪০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭১টির শেয়ার ও ইউনিট দর।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৪৮ কোটি ৮৭ লাখ ১৪ হাজার ৯৪৩ টাকার। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৫৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫৩ হাজার ১৪২ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন পাঁচ কোটি আট লাখ ৩৮ হাজার ১৯৯ টাকা কমেছে।

সপ্তাহটিতে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭৯ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট বা  দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪১৯ দশমিক ৬২ পয়েন্টে।  সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ২৪৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩৯টির দর বেড়েছে, ৪০টির কমেছে এবং ১৬৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল।