দিনের খবর বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

সপ্তাহ ব্যবধানে স্ক্র্যাপের দাম কমেছে টনপ্রতি ৫০ ডলার

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারের পুরোনো (স্ক্র্যাপ) জাহাজের টনপ্রতি ৪০-৫০ ডলার কমেছে। বর্তমানে প্রতি টন ৪৪০-৪৫০ ডলারের কেনাবেচা হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৪৯০-৫০০ ডলার। যার প্রভাব পড়েছে দেশের ইস্পাত খাতেও। মান ও কোম্পানি ভেদে উৎপাদিত ইস্পাতের টনপ্রতি দাম কমেছে দুই হাজার টাকা। যদিও করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে বাজারে ইস্পাত শিল্পের প্রধান কাঁচামাল স্ক্রাপের সংকট রয়েছে।

বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রি-সাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা যায়, চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারের পুরোনো জাহাজের টনপ্রতি বুকিং রেট ৪০-৫০ ডলার কমেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৪৯০-৫০০ ডলার। বর্তমানে প্রতিটন ৪৪০-৪৫০ ডলারের কেনাবেচা হচ্ছে।

এ খাতের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসে গড়ে ২০-২৫টি পর্যন্ত পুরোনো জাহাজ আমদানি করা হতো। কিন্তু করোনার শুরু হওয়ার পর দাম ও চাহিদা কমে যাওয়ায় পুরোনো জাহাজ আমদানি কম হয়েছিল। আবার হঠাৎ করে দাম বেড়ে যায়। তবে চলতি সপ্তাহে দাম আবার কমতে শুরু করেছে।

জানা যায়, গত বছরের জানুয়ারি মাসে পুরোনো জাহাজ ভাঙার জন্য আমদানি হয়েছিল ২০টি, ফেব্রুয়ারিতে ২১, মার্চে ১৮টি এবং মে মাসে মাত্র পাঁচটি, জুনে ১৪টি, জুলাইয়ে ১১টি, আগস্টে ছয়টি, সেপ্টেম্বরে ১৩টি, অক্টোবরে ২০টি, নভেম্বরে ৯টি এবং ডিসেম্বরে আটটি। যদিও এপ্রিলে কোনো জাহাজ ভাঙা হয়নি। সব মিলিয়ে গত বছরের মোট জাহাজ আমদানি হয়েছে ১৪৫টি। এর আগের বছরের মোট ২০৬টি জাহাজ আমদানি করা হয়েছিল। অর্থাৎ করোনার প্রভাবে ২০২০ সালে জাহাজ আমদানি কমেছে ৬১টি। আর চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে আটটি জাহাজ আমদানি করা হয়।

ইস্পাত খাতের উদ্যোক্তাদের মতে, গত নভেম্বরের স্ক্যাপ সংকটের কারণে টনপ্রতি ইস্পাতের দাম ১৬ হাজার টাকা বৃদ্ধি পায়। তবে স্ক্যাপের দাম কিছুটা কমায় টনপ্রতি দামও দুই হাজার টাকা কমেছে। যা অব্যাহত আছে। যদিও স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে স্ক্যাপ সংকট থাকায় চাহিদা অনুসারে সরবরাহ না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে কিছু কিছু ইস্পাত কারখানায়।

এ বিষয়ে জিপিএইচ ইস্পাতের এএমডি আলমাস শিমুল শেয়ার বিজকে বলেন, কয়েক দিন ধরে স্ক্যাপের দাম গড় দুই জাহার টাকা করে কমেছে। ফলে গত কয়েক দিন ধরে ইস্পাতের দাম গড় দুই হাজার আড়াই হাজার টাকা করে কমেছে। এ সময়ে বিক্রয়ও কিন্তু কমছে। তবে বড় বড় ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঁচামাল স্টক থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হয়নি। তিনি বলেন, শীতপ্রধান দেশগুলোতে সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত তেমন স্ক্যাপ আসে না। এ সময়ে স্ক্যাপের দাম বেশি থাকে। ফলে দেশের বাজারের ইস্পাতের দাম একটু আপ থাকে।

বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সাবেক সহসভাপতি এবং আরেফিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ কালাম উদ্দিন শেয়ার বিজকে বলেন, চলতি সপ্তাহে পুরোনো জাহাজ টনপ্রতি ৪০-৫০ ডলার দাম কমেছে। দাম কমছে এবং পরিস্থিতি বোঝার জন্য এ মুহূর্তে বুকিং বন্ধ করে রেখেছি। যদি গত সপ্তাহে ৪৯০ ডলার করে জাহাজ কিনেছি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..