সম্পাদকীয়

সফল হোক স্কুল মিল নীতি

সারা দেশের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের পুষ্টিচাহিদা মেটাতে দুপুরের খাবার সরবরাহে মন্ত্রিসভায় ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি ২০১৯’ শীর্ষক একটি খসড়া নীতি অনুমোদন পেয়েছে। তবে এই কার্যক্রমটিতে আগে থেকেই পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় ‘মিড ডে মিল’ চালু রয়েছে। বর্তমানে দেশের ১০ ভাগ মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। এই পরিপ্রেক্ষিত সামনে রেখে নিশ্চয় এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতে হয়। কার্যক্রমটিকে কীভাবে সফল ও সার্থক করা যায়, সে ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।
কার্যত বাড়ন্ত শিশুদের বয়স অনুযায়ী পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ ব্যাপারে বাবা-মায়ের অজ্ঞতা রয়েছে, যা শিশুদের পুষ্টিহীনতার জন্য অনেকাংশ দায়ী। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর এক-চতুর্থাংশ শিশু প্রয়োজনমতো খাবার পায় না। সীমিত আয়ের পরিবার মাছ-মাংসের মতো প্রাণিজ আমিষ কিনতে পারে না। শহরের বস্তি এলাকায় এই হার সবচেয়ে বেশি আশঙ্কাজনক। আগামী ২০২৫ সালের দ্বিতীয় পুষ্টিনীতিতে খাদ্যের কথা ভাবার সঙ্গে পুষ্টির ভারসাম্যের ব্যাপারটিকে ভাবার কথা বলা হয়েছে; কাজেই দেশব্যাপী খাদ্যে ভেজাল ও ভোক্তা অধিকারকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। অবশ্য ইদানীং খাদ্যে ভেজালবিরোধী বিভিন্ন অভিযান ও ভোক্তাস্বার্থ-বিষয়ক মামলা-পরবর্তী ঘটনার পরম্পরা দেশের মানুষকে খুব বেশি সন্তুষ্ট করতে পারে না।
যাহোক, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়মুখী শিশুদের মধ্যে একটি বিশাল অংশের শিশু পুষ্টিহীনতায় পড়ে আছে। গত ১০ বছরে দেশে পুষ্টিহীন মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত লাখ। তবে নারী ও শিশুর পুষ্টিহীনতা ইদানীং আগের চেয়ে কমেছে। এই ইতিবাচক অগ্রযাত্রায় সরকার ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্যোগ প্রশংসিত হয়। বর্তমানে দেশের ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে এই পুষ্টি কার্যক্রমে সফলতা এলে উল্লেখযোগ্য হারে পুষ্টিহীনতা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এ ধরনের ব্যাপক কার্যক্রমে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার আশঙ্কা থাকে। শিশুদের সরবরাহ করা খাদ্যে ভেজাল কিংবা কোনো অপদ্রব্যের মিশ্রণ থাকলে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে সেদিকে অবশ্যই সতর্ক থাকা জরুরি। তাছাড়া বরাদ্দ করা অর্থের অনুপাতে মানসম্পন্ন খাবার শিশুদের নাগালে পৌঁছানোর ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে হবে।
সার্বিক কার্যক্রমে সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে সরকার দেশের আগামী প্রজন্ম তথা সামষ্টিক পুষ্টিহীনতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সক্ষম হবে বলে আমরা আশা রাখি।

সর্বশেষ..