বিশ্ব বাণিজ্য

সবচেয়ে বড় মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ছে ইইউ ও জাপান

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়তে যাচ্ছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) ও জাপান। এ বিষয়ে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির শর্তে রাজি হয়েছে উভয় পক্ষ। চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপান ও ইইউ’র মধ্যে প্রায় সব বাণিজ্যই সহজ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রক্ষণশীল নীতির বিরুদ্ধে এ উগ্যোগ একটি বড় বার্তা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর এএফপি, বিবিসি।

শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদ জাঙ্কার ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে চুক্তির বিষয়ে তাদের আলোচনার ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানান। এখন এটি ইইউ সদস্য দেশ ও ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে অনুমোদনের প্রক্রিয়া রয়েছে।

তারা আরও বলেন, চুক্তিতে ঐকমত্যের পৌঁছানোয় বলা যায়, ইইউ ও জাপান বিশ্ব অর্থনীতিতে একত্রে কাজ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে উদার অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

এটিকে এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য চুক্তি হিসেবে মনে করছে ইইউ। এ চুক্তি বাস্তবায়ন হলে বিশ্ব জিডিপির ৩০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণকারী ও ৬০০ মিলিয়ন মানুষের বড় অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ চুক্তির মধ্য দিয়ে তারা এটাই স্পষ্ট করেছেন যে বহুজাতিক বাণিজ্য চুক্তি (টিপিপি) থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিলেও বিশ্বের অন্যরা সেগুলো সামনে নিতে প্রস্তুত রয়েছে। এতে ট্রাম্পের জন্য যে বার্তা রয়েছে তা হচ্ছে, মুক্ত বাণিজ্য এখনও জীবিত ও সুস্থ। তবে ইইউ ও জাপানের এ চুক্তি ট্রাম্পের কাছে ঘৃণ্য চুক্তি হতে পারে। সিএনএন জানিয়েছে, অন্তত তিনটি কারণে এ চুক্তিতে ট্রাম্প ঘৃণা করতে পারেন।

প্রথমত, এটা মার্কিন কোম্পানিগুলোর বাণিজ্যে স্বার্থে আঘাত করতে পারে। এ চুক্তির আওতায় জাপানি গাড়িগুলোর ওপর আরোপিত শুল্ক ক্রমান্বয়ে কমিয়ে ফেলবে। ফলে মার্কিন গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাপে পড়বে। ইউরোপে গাড়ি রফতানির ক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে ১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়।

দ্বিতীয়ত, এ চুক্তির মূলে রয়েছে প্যারিস জলবায়– চুক্তি। এ বাণিজ্য চুক্তি এমন একটি চুক্তি, যা ২০১৫ সালে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবিলায় প্যারিস চুক্তির আওতায় গৃহীত নির্দিষ্ট কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করে। সম্প্রতি নজিরবিহীন এক ঘোষণার মাধ্যমে ঐতিহাসিক প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন ট্রাম্প।

কানাডাভিত্তিক স্বাধীন গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ইনোভেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো ও জলবায়– নীতি বিশেষজ্ঞ সেলিন ব্যাক বলেন, ভবিষ্যৎ বাণিজ্য চুক্তিগুলোও প্যারিস জলবায়– চুক্তির শর্তাবলি অন্তর্ভুক্ত করবে তারা এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যদি প্যারিস চুক্তি মেনে না চলে, সম্ভাব্য বাণিজ্য অংশীদাররা অন্যত্র দৃষ্টি দেবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..