সবজির দাম সহনীয় রাখতে নজরদারি বাড়ান হোক

করোনাভাইরাসজনিত রোগের (কভিড-১৯) প্রকোপ কমলেও বিশ্ব এখনও আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। উন্নত দেশের অর্থনীতিতেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। আর আমাদের মতো নব্য মধ্যম আয়ের দেশগুলো একপ্রকার নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

মহামারিকালে সব মানুষের আয় কমেছে। বেশি বিপাকে পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্ত তথা সীমিত আয়ের মানুষ। জীবনযাত্রার ব্যয় কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে সবাই। সব ধরনের নিত্যপণ্য, ভোগ্যপণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

এখন সবজির মৌসুম। মৌসুমেই বাজারে দাম বেড়েছে বেশিরভাগ সবজির। এটি ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবেই কষ্ট বাড়াবে সাধারণ মানুষের। কয়েক মাস ধরে বাজারে প্রতিটি সবজি বিক্রি হয়েছে চড়া দামে। নতুন সবজির বাজারে আসার পর দাম কমবেÑএমন আভাস দিয়েছিলেন বিক্রেতারা। কিন্তু খুব বেশি কমেনি সবজির দাম। শীত পড়তে শুরু করলেও এখনও বেশিরভাগ সবজির দাম বেশি। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘মৌসুমেও বাড়ছে সবজির দাম’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে রাজধানীর বাজারগুলোয় সবজির দাম এখনও কমেনি। বেশিরভাগ সবজির দাম বেড়েছে। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে আমাদের প্রতিবেদক জানিয়েছেনÑবাজারে শিম প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, কাঁচামরিচ ৯০ থেকে ১০০ টাকা, গাঁজর ৮০, করলা ৬০, বাঁধা কপি ৪০ (প্রতি পিস মাঝারি), ফুলকপি ৫০ (প্রতি পিস মাঝারি), মুলা ৪০, নতুন আলু ৮০, ঢেঁড়স ৬০, শসা ৪০, পেঁপে ৩০, শালগম ৬০, পটোল ৬০ টাকা, বরবটি ৬০, বেগুন ৫০, টমেটো ১৪০ টাকায়।

কৃষকরা ভালো দাম পাবেনÑএ বিবেচনায় সবজির দাম বৃদ্ধি একদিক থেকে প্রত্যাশিতও বটে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা লাভবান হচ্ছেন না। তাদের বেচা দামের চার-পাঁচগুণ দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে রাজধানীতে।

সরবরাহ ও পরিবহন-শৃঙ্খল বিঘœ না ঘটলেও সবজির দাম কেন বেড়েছে, সেটির কারণ খুঁজে বের করতে হবে। কিন্তু ব্যবসায়ী কিংবা কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর কারসাজিতে দাম বাড়লে তা দুঃখজনক। সাধারণ মানুষের আয় আগের অবস্থায় আসেনি। এমন প্রতিকূল সময়ে অসাধু চক্রকে নিবৃত্ত করতে হবে। এ লক্ষ্যে বাজারে নজরদারি বাড়াতে হবে। সবজি সরবরাহ ও পরিবহন কাজে নিয়োজিত যানবাহন স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের অবশ্যই মাঠপর্যায়ে তৎপরতা বাড়াতে হবে। যেমন পণ্যবাহী ট্রাক থেকে পুলিশ কিংবা রাজনৈতিক কর্মীদের চাঁদাবাজি বন্ধ করলে সবজির দাম কিছুটা কমতে পারে। সবজি পচনশীল। এটি টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি দিয়ে  বিক্রি করা সম্ভব নয়। তবে সাশ্রয়ী দামে পেঁয়াজ, রসুন ও আদাসহ নিত্যপণ্য বিক্রি করলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির লাঘব হবে। কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ, রসুন ও আদা ব্যবসায়ীদের গুদামগুলোয় নজরদারি করতে হবে। কভিডকালেও আমরা দেখেছি, একদিকে বাজারে পেঁয়াজের কেজি ২৫০ টাকা, অন্যদিকে গুদামজাত করা পেঁয়াজ পচে যাওয়ায় চুপিসারে ফেলে দিচ্ছে মজুতদাররা।

কৃষক উৎপাদিত সবজির ন্যায্য দাম পায় না। অথচ ভোক্তাদের অনেক বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়। বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে সাময়িকভাবে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে সরাসরি সব পণ্য কেনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সরকারি পরিবহনের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ করতে হবে, পাশাপাশি বেসরকারি পরিবহনগুলোকেও কড়া নজরদারিতে রাখতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯১১৭  জন  

সর্বশেষ..