সম্পাদকীয়

সবজির দাম সহনীয় রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক করুন

করোনা ভাইরাসজনিত রোগের (কভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবে সারা বিশ্ব কাঁপছে। উন্নত দেশের অর্থনীতিতেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। আর আমাদের মতো মধ্যম আয়ের দেশগুলো একপ্রকার নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছে। মানুষের আয় কমেছে। বেশি বিপাকে পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্ত তথা সীমিত আয়ের মানুষ। জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে বাধ্য হচ্ছে সবাই। এ অবস্থায় বাজারে দাম বেড়েছে বেশিরভাগ সবজির। এটি ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবেই কষ্ট বাড়াবে সাধারণ মানুষের।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত খবরে বলা হয় ঈদের পর গত এক সপ্তাহে রাজধানীর বাজারগুলোতে আলু, পটোল, বরবটি, ঢেঁড়স, ধুন্দল, ঝিঙে, করলা, পেঁপেসহ বেশিরভাগ সবজির দাম বেড়েছে। তবে কমেছে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম। অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ, ডিম, মুরগি, গরু ও খাসির মাংসের দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের পর প্রথম দিকে সবজির চাহিদা কম ছিল। তবে কয়েকদিন ধরে চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। এছাড়া বৃষ্টিতে সবজির কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে সবজির দাম এখন কিছুটা বাড়তি। সামনে সবজির দাম আরও বাড়তে পারে বলেও জানান তারা। সবজি তো ত্রাণ হিসেবে দেওয়া যাবে না। তবুও স্থানীয়ভাবে জনপ্রতিনিধিরা ন্যায্যমূল্যে বা বিনা মূল্যে সবজি বিক্রির ব্যবস্থা করেছেন মধ্যবিত্ত ও নিন্ম বিত্তদের মাঝে। এমন উদ্যোগ উৎসাহিত করা উচিত। এগিয়ে আসতে হবে সামর্থ্যবানদেরও।

ঘূর্ণিঝড় আম্পান, মৌসুমি বৃষ্টিতে সবজির ক্ষতি হয়েছে। করোনার কারণে সরবরাহ ও পরিবহনে বিঘ্ন ঘটেছে। তাই সবজির দাম বাড়তেই পারে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে দাম বাড়লে তা দুঃখজনক। এমন বিপর্যয়ের দিনে অসাধু সুযোগসন্ধানীদের নিবৃত্ত করতে হবে। এ লক্ষ্যে বাজারে নজরদারি বাড়াতে হবে। সবজি সরবরাহ ও পরিবহন কাজে নিয়োজিত যানবাহনগুলোর স্বাভাবিক চালাচল নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের অবশ্যই মাঠপর্যায়ে যেতে হবে। যেমন, পণ্যবাহী ট্রাক থেকে পুলিশের বখরা আদায় বন্ধ করতে হবে। পথে পথে রাজনৈতিক কর্মীদের চাঁদাবাজিও বন্ধ করতে হবে।

টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে পেঁয়াজ, রসুন ও আদাসহ নিত্যপণ্য বিক্রি করলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির লাঘব হবে। কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ, রসুন ও আদা ব্যবসায়ীদের গুদামগুলোয় নজরদারি করতে হবে। তারা যেন কারসাজি করতে না পারে।

অন্তত করোনাকালে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে সাময়িকভাবে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে সরাসরি সব পণ্য কেনার  ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সরকারি পরিবহনের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ করতে হবে। এসবের পাশাপাশি বেসরকারি বাজারগুলোকেও কড়া নজরদারিতে রাখতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..