প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সবজি চাষ করে আবদুস ছালামের ভাগ্যোন্নয়ন

 

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী গ্রামের সবজি চাষি আব্দুস ছালাম বেপারী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত থাকেন ক্ষেতে। এজন্য বেশিরভাগ দিন সকালের নাশতা বিকালে আবার কখনও দুপুরের খাবার খান রাতে। রোদ, বৃষ্টি, ঝড় উপেক্ষা করে সারা বছর ধরে সবজি ফলিয়ে এখন লাখপতি তিনি।

টেপিরবাড়ী গ্রামের আবদুল জাব্বারের ছেলে আব্দুস ছালাম বেপারী ৩০ বছর আগে ২০০ টাকা দিয়ে কৃষিকাজ করার জন্য একটা জমি বর্গা নেন। সেই থেকে তার অন্য রকমের সংগ্রাম শুরু।  বছরে ১২ মাসই সবজি চাষ করে সংসারের চাহিদা মেটান কৃষক ছালাম। প্রতি চার মাস পর সবজি বাগানের ফসলের পরিবর্তন হয়। তবে শীতকালীন সবজি চাষ করে বেশি লাভবান হন। তিনি ভাদ্র মাসে ২০ শতাংশ জমিতে ১০০টি পেঁপের চারা রোপণ করেছেন। খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। ফলন এসেছে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে। এ পর্যন্ত ৬০ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন। আরও ১০ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রির আশা করছেন।

১৭ শতাংশ জমিতে মুলার বীজ বপন করেছেন আশ্বিন মাসে। ফলন এসেছে চলতি পৌষ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে। খরচ হয়েছে তিন হাজার টাকা। বিক্রি করেছেন ৪০ হাজার টাকার অধিক। আরও পাঁচ হাজার টাকার মুলা বিক্রির আশা করছেন।

৩৫ শতাংশ জমিতে ১০০টি লাউগাছ লাগিয়েছেন। খরচ হয়েছে দুই হাজার ৫০০ টাকা। লাউ বিক্রি করেছেন ৬০ হাজার টাকার অধিক। ২০ শতাংশ জমিতে বেগুন লাগাতে খরচ হয়েছে আট হাজার টাকা। বিক্রি করেছেন ৩০ হাজার টাকা। ১৫ শতাংশ জমিতে শিম রোপণ করেছেন আশ্বিন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে। খরচ হয়েছে এক হাজার ৫০০ টাকা। এ পর্যন্ত চার হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছেন। আরও ২০ হাজার টাকার শিম বিক্রির আশা করছেন।

আশ্বিন মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ২৫ শতাংশ জমিতে মুলা শাকের বীজ বপন করেছেন। খরচ হয়েছে এক হাজার ৯০০ টাকা। শাক বিক্রি করে পেয়েছেন ২০ হাজার টাকা। আরও ১০ হাজার টাকার মুলাশাক বিক্রির আশা করছেন। এছাড়া ২০টি বরইগাছ রোপণ করেছেন ১০ শতাংশ জমিতে। খরচ হয়েছে দুই হাজার টাকা। তিনি ৫০ হাজার টাকার বরই বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন। কৃষক ছালাম জানান, তিনি নিয়মিত জমিতে যান। সবুজ সবজি দেখে যেমন চোখ জুড়ায় তেমনি তার মনও ভরে যায়। সব খরচ বাদে প্রতি মাসে সবজি চাষ করে ৩০ হাজার টাকা আয় হয়, যা দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যেই সংসার চলে। সেই সঙ্গে তিনি এখন লাখ টাকার মালিক।