Print Date & Time : 21 June 2021 Monday 9:13 am

সবজি ডিম মুরগিসহ সব পণ্যের দাম বাড়তি

প্রকাশ: April 16, 2021 সময়- 11:28 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাল, ডাল ও তেলসহ নিত্যপণ্যের পর এবার সবজির বাজারে আগুন। রমজানকে কেন্দ্র করে শসা, বেগুন, চিচিঙ্গা ও টমেটোসহ বেশিরভাগ সবজির দাম বেড়েছে। দু-তিন দিনের ব্যবধানে এসব সবজির দাম কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নি¤œ ও মধ্যআয়ের মানুষ। সবজির দাম শুনে এসব ক্রেতাদের পিলে চমকানোর জোগাড়।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাড্ডা এলাকার কাঁচাবাজারগুলোয় গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। একই দরে অর্থাৎ ৮০ টাকা কেজিকে বিক্রি হচ্ছে শসা ও চিচিঙ্গা। তবে তার চেয়ে একটু কম দামে বিক্রি হচ্ছে বরবটি। প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। ঢেঁড়স, টমেটো, করলা ও পটোল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। আর ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে সজনে, শিম ও ধুন্দল।

মাঝারি আকারের লাউ প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। তবে এর মধ্যে একটু কম দামে বিক্রি হচ্ছে আলু, পেঁপে ও কাঁচামরিচ। বাজারে সাদা আলু বিক্রি হচ্ছে ২২ থেকে ২৫ টাকা কেজি। পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি। এছাড়া প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, লকডাউনের কারণে সবজির দাম একটু বেশি। সঙ্গে যোগ হয়েছে রোজা। তাতে দাম একটু বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে ইফতারে ব্যবহƒত সবজির। ছুটির দিনে সবজি কিনতে বাজার এসেছেন নেয়ামত হোসেন। শসা, লেবু আর বেগুনের দাম জানার পর কী করবেন ভেবে পাচ্ছে না। বাজারের জন্য যে টাকা নিয়ে এসেছেন তাতে অর্ধেক জিনিস কেনা যাবে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে একটু কমে সবজি পেতে সবগুলো দোকান যাচাই করেলেন। কিন্তু ৮০ টাকার নিচে শসা ও বেগুন পেলেন না।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবজি কিনতে বাজারে এলাম। এখন জিনিসের দাম শুনে আমি হতবাক। কেমনে চলমু, কী খামু চিন্তা করছি। সরকার কি কিছুই দেখে না, এসবের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিতে পারে না? তিনি আরও বলেন, একে তো লকডাউনে আয়-রোজগার নেই। তার ওপর সামনে ঈদ, কী করমু? এরমধ্যে জিনিসের দাম শুনে কিনতে ইচ্ছে হচ্ছে না। মনে হয় না খেয়ে থাকি।

পাঁচতলা বাজারের ব্যবসায়ী রেজওয়ান বলেন, বৃহস্পতিবারের চেয়ে শুক্রবার বেশিরভাগ সবজির দাম বেড়েছে। তাই নতুন করে সবজি আনি নাই। আগে

যা ছিল, তাই বিক্রি করছি। একই কথা বলেন পোস্ট অফিস গলির সবজি বিক্রেতা মুন্না মিয়া। তিনি বলেন, রাতে কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখি, শসা, টমেটো, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, পটোলের দাম অনেক বেশি। নতুন করে বেগুন ছাড়া কোনো সবজি আনিনি। তিনি বলেন, আমি এখন টমেটো বিক্রি করছি ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। আজকে (গতকাল) যারা টমেটো এনেছে, তারা ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করছে। তিনি বলেন, দাম বেশি হওয়ার কারণে বেচাকেনাও প্রায় অর্ধেক কমেছে।

সবজির পাশাপাশি দাম বেড়েছে শাকের। প্রতি আটি ডাঁটা শাক বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়। একই দামে কিনতে হচ্ছে লাল শাক। পালং শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়। একই দরে বিক্রি হচ্ছে পাট ও কলমি শাক। লাউ শাক বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা আটি। পুঁই শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

এদিকে রোজা ও লকডাউনের অজুহাতে আবারও বেড়েছে মুরগি ও ডিমের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম হালিপ্রতি বেড়েছে পাঁচ টাকা। আর লেয়ার এবং দেশি মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ২০-৪০ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘লকডাউনের’ কারণে মুরগি ও ডিমের সরবরাহ কমেছে, তাই দাম বেড়ে গেছে। ‘লকডাউন’ শেষে দাম কমতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।

বাড্ডা এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ২৮ টাকা হালিতে বিক্রি হওয়া ফার্মের মুরগির ডিম এখন বিক্রি হচ্ছে ৩২-৩৫ টাকা হালি। অর্থাৎ হালিতে দাম বেড়েছে পাঁচ টাকার বেশি। আর ৮৪ টাকায় বিক্রি হওয়া এক ডজন ডিম এখন বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯৫ টাকায়।

বাড্ডার বাজারগুলোয় প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০-১৬৫ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ১৫০-১৫৫ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে দাম ৫-১০ টাকা বেড়েছে। তবে বেশি দাম বেড়েছে লেয়ার মুরগির। রোজার আগেও ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া লেয়ার মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০-২১০ টাকা কেজি দরে। আর পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৩০-২৫০ টাকা কেজি।

এছাড়া সোনালি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩৫০ টাকা কেজি দরে। অথচ রোজার আগেও এ মুরগি বিক্রি হয়েছে ২৮০-৩২০ টাকায়। অন্যদিকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে দেশি মুরগি, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৪৫০-৪৮০ টাকায়। মুরগির পাশাপাশি বাজারগুলোতে গরুর মাংসের দাম বেড়ে হয়েছে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি। আবার কোথাও কোথাও বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকা কেজি দরে।

বেড়েছে মাছের দামও। ২০০ টাকা কেজির রুই মাছের দাম ৫০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। আর ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে সর্বনি¤œ ৯০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া শিং মাছ ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মধ্যবাড্ডা বাজারে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা মিনহাজ বলেন, বাজারে সব জিনিসের দাম বাড়তি। রোজা শুরু হওয়ার পর আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, বিদেশি যে মুরগি গত সপ্তাহে কিনেছি ২১০ টাকা পিস, সেই মুরগি আজ ২৫০ টাকার নিচে দিচ্ছেই না।