প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সবার ঘরে গিয়ে তো মশারি টানাতে পারবো না: আনিসুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঘরের ভেতর জন্ম নেওয়া মশাকে চিকুনগুনিয়ার প্রধান কারণ হিসেবে বর্ণনা করে গতকাল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক বললেন, ‘সবার ঘরে গিয়ে মশা নিধন সিটি করপোরেশনের জন্য কঠিন কাজ। চিকুনগুনিয়ার প্রাইম রিজন ঘরের ভেতরে জন্ম নেওয়া মশা। সে পর্যন্ত পৌঁছানো সিটি করপোরেশনের পক্ষে সম্ভব না। কারণ আপনার ঘরের ভেতরে গিয়ে আমি মশারি টানাতে পারবো না। আপনার চৌবাচ্চায় আমি ওষুধ লাগাতে পারবো না। আপনার ঘরের ভেতর সামান্য স্বচ্ছ পানিতে যে মশা জন্মাচ্ছে, সেটা আমি মারতে পারবো না।’

গতকাল শুক্রবার চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কার্যক্রম নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মেয়র আনিসুল। রাজধানীতে চিকুনগুনিয়া ছড়িয়ে পড়ার জন্য খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিটি করপোরেশনকে দায়ী করলেও সে দায় নিতে রাজি নন মেয়র। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহামারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান, কীটতত্ত্বববিদ ড. তৌহিদ উদ্দীন আহমেদ এবং ডা. মনজুর এ চৌধুরী মশা নিধনের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তারা দাবি করেন চিকুনগুনিয়া রোগের জন্য ঘরের বাইরের মশা নয়, বরং ঘরের ভেতরে জন্ম নেওয়া মশা দায়ী।

করপোরেশনের যেখানে যখন মশা মারার কথা তার চেয়ে বেশি মারা হচ্ছে বলে দাবি করে ঢাকা উত্তরের মেয়র বলেন, ‘এখন এরপর আর কি করবো আমি বুঝতে পারছি না। এ বছর চিকুনগুনিয়া নিয়ে আগাম কোনো পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি। পূর্বাভাস থাকলে চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হতো। ফলে এখন নগরবাসী চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করলেও তাদের এ দুর্ভোগের জন্য সিটি করপোরেশন দায়ী নয়।’

ঢাকায় চিকুনগুনিয়া মহামারির আকার নিয়েছে কি-না এমন প্রশ্নে অধ্যাপক মাহমুদুর বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ রোগের যেভাবে বিস্তার ঘটেছে, যে পরিমাণ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, তাতে অবশ্যই এটা মহামারি। তবে সেখানে তার বক্তব্য সমর্থন করলেও এটি তাদের ব্যক্তিগত মত জানিয়ে ড. তৌহিদ উদ্দীন বলেন, মহামারি কি-না এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

তারা বলেন, চিকুনগুনিয়ার ভাইরাস আশেপাশের দেশগুলো থেকে এসেছে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ভাইরাসটা আশেপাশের দেশ থেকে আসে। এ বছরও দিল্লি, কলকাতা, করাচি এবং শ্রীলঙ্কা- সব জায়গায়ই আমাদের যাতায়াত বেড়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে মশা ছিল বেশি, তাতে রোগ ছড়িয়েছেও বেশি। আর এ রোগ আগে ছিল না বলে আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থাও ছিল না। ফলে রোগটা বেড়ে গেছে। এ ভাইরাস যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেদিকে এখন  নজর দিতে হবে।