সুশিক্ষা

সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. ছাদেকুল আরেফিন মাতিন। সম্প্রতি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে গত ৬ নভেম্বর তিনি যোগদান করেন। এখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে চান। এক সাক্ষাৎকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য। সাক্ষাৎকার নিয়েছে আলী ইউনুস হƒদয়

উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পর আপনার অনুভূতি কেমন

. ছাদেকুল আরেফিন মাতিন: নিঃসন্দেহে ভালো লাগছে। বর্তমান সরকারের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী যে দায়িত্ব দিয়েছেন, এজন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমার সারা জীবনের স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হবো। সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে; বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছি। এর আগে শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছি। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিই। এখন যে দায়িত্ব বুঝে পেয়েছি, তা শুধু শিক্ষকের দায়িত্বই নয়, এটা প্রশাসনিক দায়িত্বও বটে। তাই শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজে যুক্ত হলাম। আমি সব সময় ছাত্রদের অগ্রাধিকার দিয়ে একাডেমিক কাজ সম্পন্ন করেছি। এখন প্রশাসনিক কাজ যেন ন্যায়-নীতি ও সততার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারি সে জায়গায় অগ্রাধিকার দেব।

আপনার কি উপাচার্য হওয়ার স্বপ্ন ছিল?

. ছাদেকুল আরেফিন: আমার স্বপ্নই ছিল শিক্ষকতা করব। সে দায়িত্ব পালন করেছি। এ দায়িত্ব পালনের সময় মনে হয়েছে, অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষাদান ও গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এখন রাষ্ট্র মনে করছে, প্রশাসনিক দায়িত্বও আমি যথাযথভাবে পালন করতে পারব। তাই রাষ্ট্রের এ দায়িত্ব মাথা পেতে নিয়েছি। আমি এখন নতুন স্বপ্ন দেখছি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় যেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়। আন্তর্জাতিকভাবে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে যেন পরিচিতি লাভ করে এ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।

অভিভাবক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সংকটগুলো সমাধানে আপনি কি ভাবছেন?

. ছাদেকুল আরেফিন: এ দায়িত্ব পালনের জন্য আমি শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি যোগদানের পর সংকটগুলো বুঝে-শুনে সমাধানের বিষয়ে মন্তব্য করব। শুধু বলব, নতুন দায়িত্ব সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে শতভাগ পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণার মান উন্নয়নে ভূমিকা কেমন থাকবে?

. ছাদেকুল আরেফিন: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রটিকে আন্তর্জাতিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। শুরুতে অগ্রাধিকার দেব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে উন্নত করার ওপর। একই সঙ্গে গবেষক শিক্ষকদের সহযোগিতা করব।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সহশিক্ষা কার্যক্রম বিকাশে আপনার পৃষ্ঠপোষকতা কেমন হবে?

. ছাদেকুল আরেফিন: সহশিক্ষা কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠন-পঠনের ইতিবাচক দিক। তাই শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি এ ধরনের কার্যক্রমকে সমান তালে চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব। আমি চাইব, বরিশালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন সব ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রম সঠিক নিয়মে চলে। এজন্য আমার শতভাগ পৃষ্ঠপোষকতা থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় স্থানীয় রাজনীতির প্রভাবকে কীভাবে মোকাবিলা করবেন?

. ছাদেকুল আরেফিন: একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো আঞ্চলিক প্রভাব থাকার কথা নয়। বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে বিশ্বের বিদ্যালয়। তাই এখানে আঞ্চলিক প্রভাব প্রাধান্য পাবে না। এখানে প্রাধান্য পাবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় যেন একটি অনন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে। আর সেটা শিক্ষা, গবেষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে নিশ্চিত করতে চাই।

শিক্ষক সংকট, অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়োগ প্রক্রিয়ার চাপকে কীভাবে সামলাবেন?

ড. ছাদেকুল আরেফিন: সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় আমার লক্ষ্য থাকবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবাইকে নিয়ে বিদ্যমান চাপ কাটিয়ে ওঠা। আমি মনে করি, বরিশালের সর্বস্তরের নেতা, সুধী সমাজ ও পেশাজীবীদের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়কে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। আমার একই চাওয়া, প্রত্যাশা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের এক অনন্য শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আর এ প্রচেষ্টায় আমি সবাইকে পাশে চাই, সবার সহযোগিতা চাই। সহযোগিতা করলে নিশ্চিত, সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিক্ষক রাজনীতি বন্ধের দাবি উঠছে বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

. ছাদেকুল আরেফিন: আবরার হত্যাকাণ্ড জঘন্য ও ঘৃণিত কাজ। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের জোর দাবি জানাচ্ছি। আমার কোনো শিক্ষার্থী এরকম হত্যাকাণ্ডের শিকার হোক, তা কল্পনাও করি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী শিক্ষা ও গবেষণার মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। আমি সে দিক থেকে বলব, আমি যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি, সে জায়গা থেকে শিক্ষার্থীদের আগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পারে, সেজন্য সব প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনার জন্য আপনার কেমন পদক্ষেপ থাকবে?

. ছাদেকুল আরেফিন: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে আমি এখনও অবগত নই। বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার যেহেতু সবকিছুকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা, এ লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমিও চেষ্টা করব। ডিজিটালাইজেশনের সুবিধা কাজে লাগাতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের নাগরিক হয়ে উঠবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট দূরীকরণে আপনার প্রথম পদক্ষেপ কি হবে?

ড. ছাদেকুল আরেফিন: প্রথমেই দেখব সেশনজটের অবস্থাটা কেমন। এরপর শিক্ষকদের সঙ্গে বসা। এছাড়া একাডেমিক কাউন্সিল রয়েছে, তাদের সঙ্গেও কথা বলব। কীভাবে দ্রুততম সময়ে সেশনজট নিরসন করা যায়, সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেব।সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। সেদিকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক হিসেবে আপনি কি মনে করেন?

. ছাদেকুল আরেফিন: একজন মানুষ নিজে যদি সৎ থাকে, তাহলে তার চারপাশের মানুষগুলোকে সৎ রাখার চেষ্টা করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে আমার প্রতি যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, সে মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করব। আর যদি আমি সৎ মানুষদের পাশে পাই, তাহলে অবশ্যই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..