মার্কেটওয়াচ

সবার স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

২০১০ সালের বাজার ধসের পর বলা হয় আর ধস নামবে না। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ২০১০ সালের ধস কেন হয়েছে? কারণ তখন আইসিবির এমডিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান বানিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া ১৯৯৬ সালে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর প্রতিনিধিরা সরাসরি ট্রেডিংয়ে যোগ দিত। সেখানে অনেক ভুলভ্রান্তি এবং তথ্য গোপনেরও সুযোগ ছিল। এখন আর সে রকম কোনো সুযোগ নেই। আমরা এখন আধুনিক রাষ্ট্রের মতো কাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছি। তাই এখন এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে বাজারসংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হয়। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন কানাডার টরেন্টো ইউনিভার্সিটির ফাইন্যান্সিয়াল ব্যবস্থাপক নূসরাত হক, পুঁজিবাজার বিশ্লেষক হাসান মাহমুদ বিপ্লব এবং ওয়ান সিকিউরিটিজ লিমিটেডের সিইও মো. আমিনুল ইসলাম।

নূসরাত হক বলেন, দেশে স্বল্প আয়ের মানুষের সঞ্চায়পত্র ছাড়া বিনিয়োগের তেমন জায়গা নেই। ব্যাংকে টাকা রাখলে খুব কম রিটার্ন পাওয়া যায়। নতুন ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা অনেক। পুঁজিবাজারও গত কয়েক বছর ধরে একটু স্থবির অবস্থায় আছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগ কোথায় করবে মানুষ? কানাডায় মানুষের সঞ্চয় যদি একটি নির্দিষ্ট পর্যায় থাকে তাহলে প্রথমে তারা গুরুত্ব দেয় বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে। আর ওখানে ১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্টেই বাড়ি কেনা যায়।

হাসান মাহমুদ বিপ্লব বলেন, ২০১০ সালের বাজার ধসের পর বলা হয় আর ধস নামবে না। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ২০১০ সালের ধস কেন হয়েছে? কারণ তখন আইসিবির এমডিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান বানিয়ে দেওয়া হলো।  আর কোনো সুবিধাভোগীকে যতবার নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান বানাবেন ততবারই ধস নামবে। এখানে হয় একজন আমলা অথবা শিক্ষক আসুক। কিন্তু শোনা যাচ্ছে, মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাবেক ডিএসইর ব্রোকার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিসহ অনেকে চান একজন সুবিধাভোগীকে নিয়ে আসতে। এতে যিনি কাজ করবেন তার পদমর্যাদা হবে ডেপুটি সচিব আর এসইসির চেয়ারম্যান হবে সিনিয়র সচিব। আর এ ব্যবধানের কারণে সিস্টেমে ধস নামতে পারে। এ বিষয়ে বাজারসংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়া দরকার। তিনি আরও বলেন, কানাডায় বিনিয়োগের জন্য সরকার বা বিভিন্ন সংস্থা নানা সুযোগ-সুবিধা দেয়। তবে তাদের সঙ্গে আমাদের তুলনা করলে চলবে না। আমাদের দেশের বাস্তবতাটি বুঝতে হবে। তাদের ৫০০ বছরের ইতিহাস আছে। আমাদের তেমন কোনো ইতিহাস নেই। দেশে ১৯৯৮ সালে সিমেন্ট খাতে ১০১টি কোম্পানিকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে এখন ১০-১২টিও নেই। তাই আমাদের অনেক কিছু চিন্তা করতে হয়। কাকে দেব, সে লোক কেমন ইত্যাদি আরও অনেক কিছু। শিক্ষার ক্ষেত্রে যে দেশে মা-বাবার সিদ্ধান্ত ছাড়া ৮০ শতাংশ ছেলেমেয়ে বিষয় নির্বাচন করতে পারে না, জীবনসঙ্গী নির্বাচন করতে পারে না, সেই দেশে এগুলো সম্ভব নয়। তবে আমাদের ব্যবসাবান্ধব সূচকটিকে কমিয়ে আনতে হবে। এটি ১৭৭ থেকে ১০০তে  নামিয়ে আনা দরকার।

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ১৯৯৬ সালে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর প্রতিনিধিরা সরাসরি ট্রেডিংয়ে যোগ দিত। তখন প্রতিনিধিরা একটি শেয়ারের নাম বললে সবাই হইচই শুরু করে দিত এবং এর মধ্যেই শেয়ার কেনাবেচা হতো। সেখানে অনেক ভুলভ্রান্তি এবং তথ্য গোপনেরও সুযোগ ছিল। এখন আর সে রকম কোনো সুযোগ নেই। আমরা এখন আধুনিক রাষ্ট্রের মতো কাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছি। এ ছাড়া ডিএসইর নেতৃত্বে আমরা সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি করতে যাচ্ছি। আর এটি করলে বাজারে পণ্যের বৈচিত্র্য আসবে। বাজারে এখন  কেউ স্বল্প মেয়াদি বিনিয়োগের কথা কেউ চিন্তা করে না। এখন চিন্তা করে ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে। তাই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হয়।

 

শ্রুতি লিখন: রাহাতুল ইসলাম

 

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..