বিশ্ব সংবাদ

সবুজ অর্থনীতির দিকে ঝুঁকছে চীন

চীনের পাঁচসালা পরিকল্পনা উপস্থাপন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সবুজ অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে চীন। এ লক্ষ্যে জাতীয় পাঁচসালা পরিকল্পনায় আগামী অর্থবছরের জন্য বিস্তর কর্মসূচি নির্ধারণ করেছে চীন। দেশটির সামরিক খাতকে আরও অত্যাধুনিকভাবে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছে দেশটি। এছাড়া কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে সবুজ অর্থনীতিতে অগ্রসর হচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশটি। এ লক্ষ্যে ছয় শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি। গতকাল চীনের  আইনসভা ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিংয়াং ‘১৪তম পাঁচসালা পরিকল্পনা, ২০২১-২৫’ উপস্থাপনকালে এ ঘোষণা দেন। খবর: বিবিসি, সিনহুয়া।

কভিড-পরবর্তী দেশটির অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য পাঁচসালা পরিকল্পনায় আগামী কয়েক বছরের জন্য তাদের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিধারার রোডম্যাপও ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট লি কিয়াং। ধারণা করা হচ্ছে, এখানে হয়তো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাকে একটি অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করবে বেইজিং।

চীন যে কেবল অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি তাই নয়, দেশটি হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কার্বন নির্গমনকারী। এ পরিকল্পনায় কার্বন নির্গমন কমিয়ে আনার জন্য উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপের রূপরেখা থাকবে সেই পরিকল্পনায়। কিন্তু এ নিয়ে একটা উদ্বেগও আছে। সেটা হলো কার্বন নির্গমন কমানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে গেলে তার বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে অর্থনীতির ওপর।

পাঁচসালা পরিকল্পনাটা কী?: ১৯৫৩ সাল থেকে চীন এরকম পাঁচসালা পরিকল্পনা প্রকাশ করে আসছে। এটি হচ্ছে একটি পরিকল্পনার দলিল, যাতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক উন্নয়ন আর পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সরকারের লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। মূলত এটি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি। এ পরিকল্পনায় যে কাঠামো তুলে ধরা হয়, সেটিই সরকার ও শিল্প খাতের সব নীতিগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে। দশকের পর দশক ধরে এই পরিকল্পনা চীনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি এনে দিয়েছে। এর ফলে চীনের জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, বেড়েছে জীবনযাত্রার মান।

এ পরিকল্পনার গুরুত্ব কোথায়?: কার্বন নির্গমনের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে, গোটা পৃথিবীই হুমকিতে পড়ছে। তাই চীনের জন্য মূল প্রশ্নটা হলো, তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ঘটাতে হবে, অন্যদিকে কার্বন নির্গমনও সীমিত করতে হবে। এ দুটো একসঙ্গে কীভাবে সম্ভব?

গত সেপ্টেম্বর মাসে এক ঘোষণা দিয়ে সারা পৃথিবীকে চমকে দেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি ঘোষণা করেন, তার দেশ ২০৬০ সাল নাগাদ নেট কার্বন নির্গমন শূন্যে নামিয়ে আনবে এবং ২০৩০ সালের আগেই তাদের কার্বন ব্যবহারকে শীর্ষবিন্দুতে নিয়ে যাবে।

চাংনা ডায়ালগ সাময়িকীর প্রতিষ্ঠাতা ইসোবেল হিলটন বলেন, ‘চীন ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগুলোকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। এতে আছে লো-কার্বন প্রযুক্তি। তারা অর্থনীতিকে বাজারের উচ্চস্তরের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, চেষ্টা করছে একটা ভিত্তি স্থাপনের, যাতে চীন নিন্মমাত্রায় কার্বন নির্গত করে, এমন পণ্য ও প্রযুক্তির সরবরাহকারী হয়ে উঠতে পারে।’

নতুন পরিকল্পনায় যা আছে: এখানে থাকবে কিছু মৌলিক লক্ষ্যমাত্রা, যা বিশ্লেষকরা পরিকল্পনাটি কতটা উচ্চাভিলাষী তার বিচার করতে ব্যবহার করবেন। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে সমগ্র অর্থনীতিজুড়ে প্রবৃদ্ধির সংখ্যা; কিন্তু এর সঙ্গে আরও থাকবে জিডিপির প্রতি ইউনিটে কী পরিমাণ কার্বন ব্যবহƒত হচ্ছে।

সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার নামে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বিশ্লেষক লরি মিলিভির্তা বলেন, ‘চীনের যেসব প্রদেশ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কয়লার ওপর নির্ভরশীল, তাদের অর্থনীতি ও ব্যবসায় বৈচিত্র্য আনা এবং ফসিলজাত জ্বালানি ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ বন্ধ করাতে হবে। এই দুই লক্ষ্য অর্জনে একটা ভিত্তি স্থাপন করা আগামী পাঁচ বছরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

কার্বন নির্গমনের শীর্ষবিন্দু: চীন বলছে, ২০৩০ সালের আগেই তাদের কার্বন নির্গমন শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছে যাবে, অর্থাৎ তার পর থেকেই গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। কিন্তু কিছু বিশেষজ্ঞ বিশ্বাস করেন, নতুন পাঁচসালা পরিকল্পনায় এমন কিছু লক্ষ্য থাকবে, যাতে চীন নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই সেই শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছে যেতে পারে। তবে এসব লক্ষ্য হয়তো এ পরিকল্পনার দলিলে ধাকবে না, এমন সম্ভাবনাও আছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..