দুরে কোথাও

সবুজ পাতার ফাঁকে সোনালি মুকুল

সবুজ পাতার ফাঁকে সোনালি রঙের আমের মুকুল। এর মনকাড়া ঘ্রাণ যে কাউকে মুগ্ধ করবে। মৌমাছির দল ঘুরে বেড়াচ্ছে গুনগুন শব্দে। ছোট পাখিরাও মুকুলে বসেছে মনের আনন্দে। এমন দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে গ্রাম-গঞ্জে, বাদ পড়ছে না শহরাঞ্চলও। এ দৃশ্য কাছে টানে সবাইকে। কেননা, দুরন্ত শৈশবে কাঁচা-পাকা আম পাড়ার আনন্দ অনেকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।

ফাল্গুনের হাত ধরে যেন প্রকৃতি নবরূপে সেজেছে। ম-ম গন্ধে এ বাংলা যেন অপরূপ হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির রঙ বদলাতে শুরু করছে। ফুল ও ফলের গাছ মৌমাছির ভন ভন শব্দে মুখর। গাছগুলোয় ফুল ও মুকুল শোভা পাচ্ছে। বসন্তের প্রাকৃতিক এ শোভা পুরো দেশজুড়ে। তবে কিছুটা ভিন্ন বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার পথ-প্রান্তর। বাড়ির আশপাশ, ফলদ বাগানসহ রাস্তার দু’পাশেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে কয়েক হাজার আমগাছ। আর কদিন পরই মুকুলের পেট বেরিয়ে আসবে হাজার হাজার আম।

গাছ ও বাগান পরিচর্যায় অবিরাম শ্রম দিচ্ছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ তাদের পরিবারের লোকজন। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে তারা সকাল-বিকালে পানি দিয়ে আমের মুকুল ধোয়াসহ গাছের যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছে। গাছগুলো ছোট ও মাঝারি হওয়ায় পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ। এ অঞ্চলের মাটির গুণগত মান নির্ণয় করে শখের বসে লাগানো গাছ ও বাগান মালিকরা আম্রপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, বারি-৪, ফজলি, ক্ষিরসাপাতি ও হাঁড়িভাঙা আমের জাত লাগান। ভালো ফলন পাওয়ার আশায় মুকুল দেখে উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা আকাক্সক্ষা করা হলেও ফলন নির্ভর করে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা এ অঞ্চলের বাগান ও গাছ মালিকদের।

দুপচাঁচিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজেদুল আলম বলেন, এবারের আবহাওয়া আম চাষের জন্য এখন পর্যন্ত বেশ ভালো, যা আমের বাম্পার ফলনের জন্য উপযোগী। তবে সবকিছু প্রকৃতির ওপর নির্ভর করছে।

পারভীন লুনা, বগুড়া

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..