দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

সবুজ বিনিয়োগে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে এসএমই উদ্যোক্তাদের

অর্থায়ন বাড়াচ্ছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো

শেখ আবু তালেব: গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিচ্ছে। এর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ বা সবুজ বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। বাংলাদেশও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। এজন্য গঠিত সবুজ অর্থায়ন বা গ্রিন ফাইন্যান্স থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে ক্ষুদ্র, কুটির, মাঝারি ও ছোট পরিসরের (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের।

সংখ্যাগত বিচারে ৭৫ শতাংশ উদ্যোক্তাই হচ্ছেন সিএমএসএমই খাতের। যদিও ঋণের পরিমাণগত দিক দিয়ে ৫২ শতাংশই বড়দের দখলে। সবুজ অর্থায়ন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এমন তথ্য।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, অর্থনীতিতে উৎপাদনের বড় অংশে অবদান রাখেন এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা। উৎপাদনের সঙ্গে কর্মসংস্থানেও খাতটি ভূমিকা রাখে। সবুজ বিনিয়োগে তাদের আগ্রহ বৃদ্ধিতে প্রতিফলিত হচ্ছে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া উদ্যোগগুলো বাস্তবসম্মত হয়েছে। এতে বিনিয়োগ যেমন বাড়ছে, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা পাচ্ছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ শেষে প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচিত সময়ে ব্যাংকগুলো সবুজ অর্থায়নে বিনিয়োগ করেছে দুই হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা, যা ব্যাংকের মোট বিতরণকৃত ঋণের এক দশমিক ৪১ এক শতাংশ। অপরদিকে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বিতরণ করেছে ২১৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের পাঁচ দশমিক শূন্য চার শতাংশ।

সবুজে অর্থায়ন বলতে মূলত বোঝায় পরিবেশবান্ধব উপায়ে কারখানা নির্মাণ অথবা স্থাপিত কারখানায় দেওয়া ঋণকে। কারখানার কর্মপরিবেশকে কর্মিবান্ধব করতে প্রয়োজন বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা, সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন, সূর্যের আলোর ব্যবহার বৃদ্ধি, কারখানায় বৃষ্টির পানির ব্যবহার ও বায়ু চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা।

জানা গেছে, সবুজ অর্থায়নের সবচেয়ে বেশি ঋণ গেছে তৈরি পোশাক খাতে। ইতোমধ্যে এ খাতের কয়েকটি কারখানা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও স্বীকৃতি পেয়েছে পরিবেশবান্ধব হিসেবে।

জানা গেছে, আটটি খাতকে সবুজ অর্থায়নের জন্য চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। খাতগুলো হচ্ছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও পুনর্ব্যবহারের পণ্য, পরিবেশবান্ধব ইটভাটা নির্মাণ, সবুজ অবকাঠামো ও সবুজসংশ্লিষ্ট খাতের বিনিয়োগকে পরিবেশবন্ধব হিসেবে দেখা হয়।

আলোচিত প্রান্তিক শেষেও দেখা গেছে, সবুজ অর্থায়নের অন্যান্য খাতের চেয়ে  নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ঋণ গেছে সবচেয়ে বেশি। জানা গেছে, বর্তমানে সবুজ অর্থায়ন খাতে বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ব্যাংকগুলোর ২৫ হাজার  ৭৪৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা। অপরদিকে এনবিএফআই বিতরণ করেছে তিন হাজার ২৪৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

তথ্য অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ব্যাংক থেকে ৬৯৫টি ঋণ বিতরণ হয়েছে এ খাত থেকে। এর মধ্যে সিএমএসএমই খাত থেকে ৫৭৫টি, বড় শিল্পে ঋণ গিয়েছে ১১৯টি, আর এনবিএফআই প্রতিষ্ঠান থেকে বড় শিল্পের জন্য ১৯টি ঋণ বিতরণ হয় সবুজ অর্থায়ন খাত থেকে। এসএমই খাতে গেছে ১৭টি ঋণ। জানা গেছে, ব্যক্তিপর্যায়ে ব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া উদ্যোক্তার সংখ্যা হচ্ছে ১১২ জন। এর মধ্যে ৩৫ জনই নারী।

বিনিয়োগ সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়নের তহবিলও গঠন করা হয়েছে। এ খাত থেকেও উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে পারেন। সবুজ অর্থায়নের আরেকটি দিক হচ্ছে ব্যাংক খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি। বর্তমানে ব্যাংক খাতের প্রায় ৯১ শতাংশ শাখাই অনলাইনের আওতায় চলে এসেছে। পাশাপাশি বৃদ্ধি পাচ্ছে এটিএম ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার। এতে সহজ হয়ে উঠছে ব্যাংকিং।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবুজ অর্থায়নকে জনপ্রিয় করে তুলতে ব্যাংকারদের প্রশিক্ষণও বাড়ছে। ব্যাংকগুলো পূর্বের চেয়ে কর্মীদের প্রশিক্ষণ বাড়িয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবুজ অর্থায়নে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের পরিমাণ কিছুটা কমেছে এ প্রান্তিকে। এ কারণে পূর্বের চেয়ে গত জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর সবুজে অর্থায়ন কমেছে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ। কিন্তু এনবিএফআইগুলো এ খাতে ঋণ বাড়িয়েছে। আলোচিত প্রান্তিকে এ খাতে তাদের ঋণ বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬১ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১১ সালে একটি নীতিমালার আলোকে সবুজ অর্থায়নকে পরিচালিত করে আসছে। এখন পর্যন্ত ২৯ ব্যাংক ও ১৫ এনবিএফআই সবুজ অর্থায়নে বিনিয়োগ করেছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..