বিশ্ব সংবাদ

সব অভিবাসীকে সমান সুযোগ দেওয়ার অঙ্গীকার বরিসের

শেয়ার বিজ ডেস্ক:ব্রিটেনের অভিবাসন ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর অঙ্গীকার করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশ হিসেবে এযাবৎ ইইউ নাগরিকদের এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হয়েছিল ব্রিটেনকে। আসন্ন নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় ফিরে ব্রেক্সিট কার্যকর করে জনসন বিশ্বের সব দেশের নাগরিকদের জন্য ব্রিটেনে অভিবাসনের সমান সুযোগ করে দিতে চান। খবর: ডয়চে ভেলে।

আগামী ১২ ডিসেম্বর আগাম নির্বাচনের প্রচারপর্ব বেশ জমে উঠেছে। জনমত সমীক্ষায় প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কনজার্ভেটিভ পার্টি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার পার্টির তুলনায় ১০ থেকে ১৭ শতাংশ এগিয়ে রয়েছে। চলতি সপ্তাহেই দুই দল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী ইশতাহার প্রকাশ করতে চলেছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী জনসন ও লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন প্রথম টেলিভিশন বিতর্কে পরস্পরের মুখোমুখি হবেন।

এবারের নির্বাচনের মূল বিষয় অবশ্যই ব্রেক্সিট। সানডে টেলিগ্রাফ সংবাদপত্রের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বরিস জনসন ক্ষমতায় ফিরলে অবিলম্বে ব্রেক্সিট কার্যকর করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। প্রথমত, সংসদে অচলাবস্থা এড়াতে তিনি এমন সব প্রার্থী মনোনয়ন করেছেন, যারা তার ব্রেক্সিট চুক্তির প্রতি সমর্থন জানাতে প্রস্তুত। প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতায় ফিরে জনসন সময় নষ্ট না করে ২৩ ডিসেম্বর সংসদে ব্রেক্সিট-সংক্রান্ত বিতর্কের পরিকল্পনা করেছেন। সেক্ষেত্রে আর কোনো বিলম্ব না করে ৩১ জানুয়ারির নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ইইউ ত্যাগ করবে ব্রিটেন। 

অন্যদিকে করবিন তার দলের পরিকল্পনা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট করেননি। তিনি শুধু জানিয়েছেন, লেবার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হলে কোনো অবস্থায় জোট সরকার গঠন করবে না। স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে দ্বিতীয় গণভোটের শর্তে জাতীয়তাবাদী এসএনপি দলের সঙ্গেও বোঝাপড়া করবে না তার দল। ব্রেক্সিট-সংক্রান্ত নীতি দলের নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্ট করে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

জনমত সমীক্ষায় দল এগিয়ে থাকলেও প্রধানমন্ত্রী বরিস একটি বিষয় নিয়ে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছেন। ব্রিটিশ রাজনীতিতে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ-সংক্রান্ত তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ না করায় তিনি বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছেন। ফলে আগামী মাসের নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়েও দুশ্চিন্তা দেখা দিচ্ছে। ২০১৬ সালে ব্রেক্সিটসংক্রান্ত গণভোটের ক্ষেত্রে রাশিয়া সত্যি হস্তক্ষেপ করে থাকলে সাধারণ নির্বাচনেও একই প্রচেষ্টা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা দূর হচ্ছে না। এ বিষয় সংশয় দূর করতে বিরোধী লেবার দল জনসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। রাশিয়া টোরি দলকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চাঁদা দিচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ব্র্যান্ডন লুইস অবশ্য এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তার মতে, দলের চাঁদার সব হিসাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসছে। একমাত্র ব্রিটিশ নাগরিকদের কাছ থেকে টোরি দল চাঁদা গ্রহণ করে বলে দাবি করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, বরিস নির্বাচনের পর সেই রিপোর্ট প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..