সব জনগোষ্ঠীর তথ্য নিয়ে সৃষ্টি হবে ‘জাতীয় জনপঞ্জি’

নিজস্ব পতিবেদক: বাংলাদেশে ১৮ বছর বয়সী নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে কিন্তু তার কম বয়সী জনগোষ্ঠীর কোনো তথ্য ভাণ্ডার নেই। এমন পরিস্থিতিতে দেশের সব জনগোষ্ঠীর তথ্য ভাণ্ডার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্ট্রার (এনপিআর) বা জাতীয় জনপঞ্জি নামক এ তথ্য ভাণ্ডারে গচ্ছিত থাকবে নাগরিকদের ২৯ ধরনের তথ্য-উপাত্ত। কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলেও তার তথ্য এ ভাণ্ডার থেকে মুছে যাবে না। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব তথ্য এটিতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় চত্বরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে গতকাল এক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য দেন পরিকল্পনা সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারি, আইএমইডির সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, বিবিএসের মহাপরিচালক তাজুল ইসলাম প্রমুখ।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিবিএসের পরিচালক ড. মো. শাহাদাত হোসেন। প্রবন্ধে বলা হয়, নতুন এনপিআরে শূন্য থেকে শুরু করে সব বয়সী বাসিন্দার জনতাত্ত্বিক ও বায়োমেট্রিক তথ্য স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি প্রত্যেকের জন্য একটি স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর দেয়া হবে। এর ফলে প্রত্যেককে সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এ তথ্য ভাণ্ডারের মাধ্যমে সব ধরনের জনমিতিক পরিসংখ্যান, আগমন-বহির্গমন, জন্ম-মৃত্যু, বিবাহ-তালাক প্রভৃতি তথ্য-উপাত্ত প্রস্তুত করা সম্ভব।

কর্মশালায় জানানো হয়, জনপঞ্জির মাধ্যমে পারিবারিক ধারা প্রস্তুত করা হবে ও এতে ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা দূর হবে। এতে প্রত্যেককে জন্মের পরপরই অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং মৃত্যুর পরও তার তথ্য মুছে ফেলা হবে না।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, যে প্রেজেন্টেশন দেখলাম তাতে মনে হচ্ছে, এটা একটা কঠিন কাজ। এটাকে সাজানো-গোছানো অনেক চ্যালেঞ্জের। বিবিএস কাজ করতে পারবে। তাদের সেই সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা আছে। আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন বিবিএসের পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। অন্যা কাজগুলো আমরা করছি, এই কাজটিও আমরা সাহসের সঙ্গে হাত দেব।

ড. শামসুল আলম বলেন, আজ আমরা একটি মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে। এনপিআর ইউরোপের অনেক দেশ ও ভারতের অনেক রাজ্যেই রয়েছে। নেদারল্যান্ডসে এই এনপিআরের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল। সেখানকার নাগরিকরা তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা চেয়ে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার জন্য আইন পরিবর্তন করতে বলেছিল। বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত তথ্য বাণিজ্যিক করা হবে না। আমাদের এখানেও হয়তো আইনের পরিবর্তন করা লাগতে পারে।

তিনি বলেন, খেয়াল রাখতে হবে তথ্যের দ্বৈততা যেন না হয়। কারণ আমাদের জনশুমারি আছে, ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডেটাবেজ, এনআইডি ডেটাবেজ, জনশুমারি আছে। আবার এনপিআর করছি। সবগুলোই কাছাকাছি। প্রত্যেকের আইডেন্টটিফিকেশন এসব ডেটাবেজে আছে। জটিলতা ও সময় বাঁচাতে সব অথরিটির সঙ্গে বসে সমন্বয় করতে হবে। যাতে ডুপ্লিকেশন, ওভারলেপিং বা এ ধরনের বিষয়গুলো না হয়।

তিনি বলেন, তথ্য সঠিক না হলে পরিকল্পনা সঠিক হবে না। বেজ ইয়ার ডেটা দ্রুত ঠিক করা দরকার। জনশুমারির ও গৃহশুমারি থেকে কিছু তথ্য নেয়া হয়েছে। এগুলোতে কাছাকাছি তথ্য রয়েছে। প্রত্যেকের আইডেন্টটিফিকেশন প্রতিটিতেই রয়েছে। জটিলতা এড়াতে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গড়ে তুলে এসব তথ্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কর্মশালায় জানানো হয়, নাগরিকদের ব্যক্তিগত বর্ণনার মোট ২৯ ধরনের তথ্য থাকবে এ জনপঞ্জিতে। এসব তথ্য সরবরাহ করবে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। সেক্ষেত্রে বিবিএসের এ জনপঞ্জি অন্য উৎস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে পারবে। যেমন জন্ম নিবন্ধন করে সরকারের অন্য একটি সংস্থা। কোনো শিশুর জন্মের পর তার জন্মনিবন্ধন নম্বর স্বয়ংক্রিয়ভাবে জনপঞ্জিতে যুক্ত হবে। আর নাগরিকদের চিহ্নিত করার জন্য প্রত্যেকের জন্য একটি ইউনিক নম্বর সরবরাহ করা হবে।

অন্য সংস্থাগুলো তথ্য দিতে কতটা প্রস্তুত এবং বিবিএস নাগরিকদের কোনো পরিচয়পত্র সরবরাহ করবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শাহাদাত হোসেন বলেন, সবাই যাতে তথ্য দিতে আগ্রহী হন, সে লক্ষ্যেই আজকের এ কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। আর বিবিএস কোনো পরিচয়পত্র দেবে না। সেটি সরকারের সংশ্লিষ্ট কোন কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করতে পারে। বিবিএস শুধু একটি পরিচিতি নম্বর সরবরাহ করবে।

সর্বশেষ..