সম্পাদকীয়

সব প্রকল্পের অতিরিক্ত ব্যয় খতিয়ে দেখুন

সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণব্যয়ে বাংলাদেশ অনেক আগেই বিশ্বে শীর্ষস্থান দখল করেছে। এখনও অতিরিক্ত নির্মাণব্যয়ের ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। যেন নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার নিরন্তর প্রচেষ্টায় রত সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। উচ্চ নির্মাণব্যয়ও মেনে নেয়া যেত অবকাঠামো টেকসই ও মানসম্পন্ন হলে; তা কিন্তু নয়। প্রতিবছরই সড়ক সংস্কারে রাষ্ট্রকে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হয়। এটি আমাদের সড়কপথের চেনা অতিপরিচিত দৃশ্য। এতে জনদুর্ভোগ বাড়ে, পণ্য পরিবহন বিঘিœত হয়; যানবাহনেরও ক্ষতি হয়। স্থাপনার মান ও উচ্চ ব্যয় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সত্ত্বেও সেভাবে কোনো প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পে অপেক্ষাকৃত বেশি মনোযোগ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রয়োজন। কেননা কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে আমাদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে ওইসব সংস্থা। তাদের দেয়া সহায়তা ও ঋণের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিতে প্রকল্পের কাজে তদারকিও করতে পারে। এ ক্ষেত্রে যদি প্রতীয়মান হয়, এখানে অনিয়মের মাধ্যমে দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে, তা বহির্বিশ্বে ইতিবাচক বার্তা দেবে না। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করার উদ্যোগ না নেয়া হলে মনে হতে পারে, এখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব রয়েছে।

শেয়ার বিজে গতকাল প্রকাশিত ‘ঢাকা-সিলেট চার লেন: উচ্চ নির্মাণব্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখছে এডিবি’ শীর্ষক প্রতিবেদন বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। খবরে বলা হয়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০ কোটি টাকার বেশি। যদিও এডিবির অর্থায়নে চলমান একই ধরনের প্রকল্পে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় পড়ছে ৬২-৬৪ কোটি টাকা।

আমরা মনে করি, একই সময়ে চলমান দুটি প্রকল্পে নির্মাণব্যয়ের হেরফের নিয়ে সওজের অভ্যন্তরে আগেই প্রশ্ন ওঠা উচিত ছিল। এখন সংস্থাটি ছায়া তদন্ত করে দেখতে পারে। অধিদপ্তরের নিজস্ব মনিটরিং ইউনিটও গঠন করা উচিত।

অনেক দিন ধরে আমরা শুনে আসছি, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে প্রতিবছর রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হবে। এভাবে গত ১০ বছরে সাশ্রয় হওয়া অর্থ দিয়ে দুটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা যেত।

সওজ বলছে, এডিবির মতামতের ভিত্তিতেই প্রকল্পটির ডিপিপি চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিন্তু এর আগে উচ্চ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। তারও আগে প্রাথমিক প্রস্তাব সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠানো হলে সেখানেও কিছু ক্ষেত্রে ব্যয় নিয়ে আপত্তি ওঠে। এতে প্রকল্প ব্যয় ২২৯ কোটি টাকা কাটছাঁট করা হয়। ব্যয় নিয়ে বারবার প্রশ্ন ওঠায় প্রকল্প ব্যয় কাটছাঁট করা হয়েছে। এতেই হয়তো উচ্চ নির্মাণব্যয় নিয়ে এডিবির নেতিবাচক ধারণা হয়ে থাকতে পারে।

কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নকে উন্নয়ন বলা যেতেই পারে; তবে অতিরিক্ত ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘটনা বেড়ে যাওয়াটা উদ্বেগজনক। এটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সুশাসন তথা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাবই তুলে ধরে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে টেকসই সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..