সম্পাদকীয়

সব ব্যাংকে চালু হোক অভিন্ন সফটওয়্যার

সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকের নিরাপত্তা-স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কার্যক্রম আরও সহজ ও শক্তিশালী করতে সব ব্যাংককে একটি অভিন্ন সফটওয়্যার কার্যক্রমের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিষয়টি প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক বলেই মনে হয়। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম এবং বিভিন্ন ব্যাংকের তথ্য সরবরাহ সহজ হবে। তেমনি কিছু ব্যাংকের ব্যবহৃত নিম্নমানের সফটওয়্যারের অনিরাপত্তাও কাটানো সম্ভব হতে পারে। তবে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাংকের বিভিন্ন চাহিদা ও কার্যক্রমকে একই মডিউলে সমন্বয় করার নবপ্রবর্তিত ধারণাটিকে ফলপ্রসূ করতে কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ কারিগরি ও কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নিঃসন্দেহে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্বিক দায় গ্রহণেও প্রস্তুত থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ১১টি প্রধান কার্যাবলির মধ্যে চতুর্থটি হলো দেশের ব্যাংক খাতের নিরাপত্তা, সুষ্ঠুতা, স্থিতিশীলতা, শৃঙ্খলা, গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ ও তাদের আস্থা নিশ্চিত করতে সরেজমিন পরিদর্শন করা। তাছাড়া, প্রতিবেদন ও দূর অবস্থানিক পরিবীক্ষণের মাধ্যমে ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধান করা। সাংবিধানিকভাবে সিদ্ধ এ অধিকার ও দায়িত্ব কার্যকর করতে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ও ত্রৈমাসিক কাক্সিক্ষত তথ্য ব্যাংকগুলো যথাসময়ে ও যথাযথভাবে সরবরাহে ব্যর্থ হয়। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। এ বিষয়ে গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রমের সার্থকতার ওপর নির্ভর করে দেশের অনেকাংশ আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা। কার্যত, ব্যাংকগুলো কিছু তথ্য তাদের সফটওয়্যারে সংরক্ষণ না করে নথিতে রাখে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে পারে না। এই দীর্ঘসূত্রতা দেশের আর্থিক কার্যক্রমকে অনিরাপদ ও মন্থর করে দেয়। উপরন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ কার্যপ্রণালিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অসহযোগী আচরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার বিশেষ কার্যক্রম স্থগিত রাখবে তা কাম্য নয়। যদিও এমন ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। তবে একটি নির্দিষ্ট মডিউলের আওতায় সব ব্যাংকের তথ্য ব্যবস্থাপনাকে সমন্বয় করলে কিছু ব্যাংকের স্বাতন্ত্র্য চাহিদা ও কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। সেক্ষেত্রে সমন্বিত প্রণালি প্রণয়নে সামগ্রিকতার গুরুত্ব দিতে হবে। যাতে বিভিন্ন ব্যাংকের বিভিন্ন সফটওয়্যার কোম্পানি ও ভার্সন স্বাতন্ত্র্য প্রণালি মেনে ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদা মেটাতে পারে। এজন্য বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংকের সফটওয়্যার পরিদর্শনে যারা কাজ করছেন, তাদের বাংলাদেশ ব্যাংক আগে থেকেই যথাযথ পরামর্শ ও নির্দেশনা দেবে বলে আমরা আশা রাখি।

সর্বশেষ..