সম্পাদকীয়

সব মুক্তিযোদ্ধার জন্য আবাসন নিশ্চিত হোক

বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্র গঠনে মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে নেমেছিলেন। অনেকে জীবন উৎসর্গ করেছেন, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। জাতির এই বীর সন্তানদের ঋণ শোধ করার দায়ও এখন আমাদের রয়েছে। তাই সরকার এবার ১৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে ঘরবাড়ি বানিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিটি বাড়ি তৈরিতে বরাদ্দ দেওয়া হবে ১৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মাধ্যমে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কিছুটা হলেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ পাব। তবে এ কার্যক্রমের মাধ্যমে যাতে দেশের সব অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা সুবিধা পান, সে বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি।

স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করে এসেছেন, যা কখনোই কাম্য ছিল না। বিভিন্নভাবে তারা বঞ্চিত ও বহুধা বিভক্তির মাধ্যমে উপেক্ষিত হয়েছেন। অনেকেই অভিমানে মুখ লুকিয়ে নিয়েছেন। এর পেছনে যুদ্ধ-পরবর্তী রাষ্ট্র গড়নে মত-পথের পার্থক্য ছিল অন্যতম কারণ। কিন্তু সেসব ভুলে সব আত্মত্যাগী, দেশপ্রেমী ও বিসর্জন-উš§ুখ মানুষগুলোকে যথাযোগ্য মর্যাদা দিতেই হবে। স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রস্তুত নিয়েও নানান অস্বচ্ছতা সৃষ্টি হয়েছে এবং সুযোগসন্ধানী অ-মুক্তিযোদ্ধারাও এতে স্থান পেয়েছেন বলে অভিযোগ। আবার অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় স্থান পাননি। এ বিষয়ে ইতিহাসের দায় রয়েছে।

আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জš§শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের উপহারস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ প্রশংনীয়। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। যে ১৫ লাখ টাকার বাড়ি নির্মাণ করা হবে, সে বাড়ির নির্মাণ উপকরণ ও খরচের প্রকৃত তথ্য তদারকি করে দেখা উচিত বলে মনে করি। তাছাড়া, ১৫ হাজার সংখ্যাটি যেহেতু বেশি নয়, সেহেতু কোনো নির্দিষ্ট এলাকার মুক্তিযোদ্ধারাই যেন বেশি সুবিধা না পান, সে বিষয়েও খেয়াল রাখা জরুরি। এক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের নির্বাচনে সমতা বিধানের পরিচয় থাকা বাঞ্ছনীয়। কিছু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদেরকেই অগ্রাধিকার দিয়ে এ প্রকল্পের আওতায় আনা জরুরি। তাছাড়া, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অনেকেই পরিচয়হীনতায় ভুগছেন। তাদের পরিচয়পত্র দিতে হবে এবং তাদের দেওয়া রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে মনে করি। এসব বিষয় নিশ্চিত করতে পারলে একটি গণতান্ত্রিক ও মুক্তচিন্তার রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস। রাষ্ট্রীয় ঐক্য ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে গেলে এসব উদ্যোগের প্রতি আন্তরিক ও সনির্বন্ধ হতে হবে। রাষ্ট্র গঠনের পর তার উন্নয়নে মুক্তিযোদ্ধাদের মতপার্থক্যকে সম্মানের চোখে দেখতে পারার মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়নের নজির সৃষ্টি হতে পারে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..