প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সব লুটপাটের হিসাব নেব: গয়েশ্বর

প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘একটিই আহ্বান, একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন। সুষ্ঠু নির্বাচনের পর যত লুটপাট হয়েছে, সব হিসাব আমরা নেব?।’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত ছাত্রদল নেতা নয়ন মিয়ার বাড়িতে তার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে এসে এসব কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

গতকাল দুপুরে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের চরশিবপুর গ্রামে নয়ন মিয়ার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। এ সময় চরশিবপুর গ্রামে শোক সমাবেশের আয়োজন করে স্থানীয় বিএনপি।

সমাবেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘বর্তমান সরকারের পদত্যাগ চাই। শেখ হাসিনার পতন চাই। গণতন্ত্রের মুক্তি ও এই অবৈধ সংসদের বিলুপ্তি চাই। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র ফেরত চাই। নতুন সরকার চাই। সুষ্ঠু নির্বাচনের পর দেশের যত মুদ্রা পাচার হয়েছে, সেই হিসাব নেব। যত নির্যাতিত হয়েছে, এর বিচার অবশ্যই করব। অবশ্যই নয়ন হত্যার বিচার হবে। নয়নের রক্ত বৃথা যাবে না। প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা আগামী দিনের জনগণের সরকার নেবে।’

সরকারের উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আজকে তারা প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ভিন্ন, বিরোধী দলের লোকদের কথা বলতে দিচ্ছে না। মামলা দিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছে না, পাখির মতো গুলি করে একের পর এক হত্যা করছে। এই কয়েক দিনের মধ্যেই নুর আলম, রহিম, শাওন, নয়ন খুন হয়েছেন। তালিকা বড় হচ্ছে।

এ সরকারকে যেতেই হবে- মন্তব্য করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, মানুষ আজ অসহায়, জিনিসপত্রের দাম এত বেশি যে, তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে হত্যা, খুন, গুম ও মামলা দিয়ে কোনো সরকার রেহাই পায়নি। সুতরাং এই সরকারেরও রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তারেক রহমান দেশে আসতে চানÑমন্তব্য করে বিএনপির কেন্দ্রীয় এই নেতা বলেন, ‘তারেক রহমানকে দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে। দেশটাকে একটা অবস্থানে আনতে হবে। নিরাপদ জীবনের গ্যারান্টি নিশ্চিত করার পরই আমরা আমাদের নেতাকে রিসিভ করব। আমরা সবাই তার অপেক্ষায় আছি।’ নয়ন মিয়ার পরিবারের থাকার ব্যবস্থা, ভরণপোষণ ও সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্ব তারেক রহমান ও দল নিয়েছে বলে জানান গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এ সময় বিএনপির পক্ষ থেকে পরিবারটির হাতে দুই লাখ টাকা দেন তিনি।

সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক সায়ে দল হক ওরফে সাঈদ, সদস্য রফিক শিকদার, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী নকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সাঈফ মাহমুদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ খালেক, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী, সদস্য সচিব এ কে মোছা, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গত শনিবার বিকালে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত হন নয়ন মিয়া। তিনি চরশিবচর গ্রামের রহমত উল্লাহর বড় ছেলে। নয়ন সোনারামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি ও চরশিবপুর ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।