মত-বিশ্লেষণ

সব শিশুর জন্য টিকা সহজলভ্য করতে হবে

শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা প্রাপ্তিতে কভিডজনিত বাধা শিশুদের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। ১৪০টি দেশজুড়ে জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বলা হয়েছে, ১৩৫টি দেশে নারী ও শিশুদের পুষ্টিসেবার আওতা ৪০ শতাংশ কমে গেছে। ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ২৬ কোটি ৫০ লাখ শিশু স্কুলের খাবার থেকে বঞ্চিত ছিল। পাঁচ বছরের কম বয়সি ২৫ কোটির বেশি শিশু ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্ট কর্মসূচির জীবনরক্ষামূলক সুবিধা গ্রহণ করা থেকে বাদ পড়তে পারে। ৬৫টি দেশ জানিয়েছে, এ বছর সেপ্টেম্বর মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সমাজকর্মীদের বাড়ি পরিদর্শন কমেছে। চলতি মাস পর্যন্ত ৩০টি দেশজুড়ে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৫৭ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী স্কুলে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ৩৩ শতাংশ। আগামী ১২ মাসে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি মারাত্মকভাবে বিঘিœত হওয়া এবং ক্রমবর্ধমান অপুষ্টির সমস্যাসহ আনুমানিক ২০ লাখ অতিরিক্ত শিশুর মৃত্যু হতে পারে এবং দুই লাখ অতিরিক্ত মৃত শিশুর জš§ হতে পারে।

বিশ্বব্যাপী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, পুষ্টি, স্যানিটেশন বা খাবার পানি প্রাপ্তির সুবিধা ছাড়াই বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসরত শিশুর সংখ্যা ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত প্রায় ১৫ শতাংশ বা অতিরিক্ত ১৫ কোটি বাড়বে।

সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এক. ডিজিটাল বিভাজন বন্ধ করাসহ সব শিশুর জন্য শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা। দুই. পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদান এবং প্রতিটি শিশুর জন্য টিকা সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করা। তিন. শিশু ও তরুণ জনগোষ্ঠীকে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও সুরক্ষা দেওয়া এবং শৈশবকালে নির্যাতন, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও অবহেলার অবসান ঘটানো। চার. নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতা সেবা প্রাপ্তির সুযোগ বাড়ানো এবং পরিবেশগত বিপর্যয় ও জলবায়ু

পরিবর্তন মোকাবিলা করা। পাঁচ. শিশু দারিদ্র্যের উত্থানকে উল্টে দেওয়া এবং সবার জন্য অংশগ্রহণমূলকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা। ছয়. সংঘাত, দুর্যোগ ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যে বসবাস করা শিশু ও তাদের পরিবারকে সুরক্ষা ও সহায়তা করার জন্য

প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করা।

শিশুদের কথা শুনতে এবং তাদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে সরকার, অংশীদার ও বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। সবাই যেমন নতুন ভবিষ্যতের কথা ভাবছে এবং মহামারি-পরবর্তী পৃথিবীর অপেক্ষায় আছে। এক্ষেত্রে অবশ্যই শিশুদের কথা আগে ভাবতে হবে।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..