দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

সব সূচকেই পিছিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ

এশিয়ার পুঁজিবাজার

শেখ শাফায়াত হোসেন

এশিয়ার প্রধান পুঁজিবাজারগুলোর মধ্যে সব সূচকেই পিছিয়ে রয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইএক্সের বিভিন্ন সূচকে পিছিয়ে থাকার তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে থাইল্যান্ডের প্রধান পুঁজিবাজার স্টক এক্সচেঞ্জ অব থাইল্যান্ডের (এসইটি) সূচকের উত্থান ঘটেছে শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ। এ সময়ে ইন্দোনেশিয়ার পুঁজিবাজার ইন্দোনেশিয়া স্টক এক্সচেঞ্জের (আইএসই) সূচকের উত্থান ঘটেছে শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ।

পাকিস্তনের সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জের সূচকের উত্থান ঘটেছে এক দশমিক ৮৮ শতাংশ।

তবে এ সময়ে ভারতের প্রধান পুঁজিবাজার এসঅ্যান্ডপি বিএসই সেনসেক্সের সূচকের পতন ঘটেছে এক দশমিক ৩৪ শতাংশ। সেখানে বাংলাদেশের ডিএসইএক্সের সূচকের পতন ঘটেছে দুই দশমিক ৯১ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজার মূলধনের দিক দিয়ে এশিয়ার নির্বাচিত ছয়টি দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল থাইল্যান্ড। প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচিত এক মাসে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় থাইল্যান্ডের পুঁজিবাজারে বাজার মূলধন অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৮১ শতাংশ। এর পরেই আছে ইন্দোনেশিয়া। এই দেশটির জিডিপির তুলনায় বাজার মূলধন ছিল ৪৬ দশমিক ৬১ শতাংশ, পাকিস্তানের ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ ও শ্রীলঙ্কার ১৭ শতাংশ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই সূচক সবচেয়ে কম, ১৩ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ।

এদিকে গত সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের পুঁজিবাজারে লেনদেন করা ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের বার্ষিক হার ছিল এক দশমিক ৪০ শতাংশ। ভারতে এই হার ছয় দশমিক ৬০ শতাংশ ও ইন্দোনেশিয়ায় সাত দশমিক ২০ শতাংশ।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ট্রেজারি বন্ডের বার্ষিক সুদহার আট দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ আলোচিত দেশগুলোর মধ্যে ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের পেছনে সবচেয়ে বেশি সুদ ব্যয় পরিশোধ করতে হচ্ছে সরকারকে। তবে এই সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে পাকিস্তান। দেশটির ট্রেজারি বন্ডের বার্ষিক সুদহার ১৩ শতাংশ।

অন্যদিকে মূল্য আয় অনুপাতের (পিই রেশিও) দিক দিয়ে শ্রীলঙ্কার পর বিনিয়োগযোগ্য অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার। সেপ্টেম্বরের শেষে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পিই রেশিও দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৩৫। শ্রীলঙ্কার পুঁজিবাজারে শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত অবস্থান করছে ১০ দশমিক ১৮-তে। এছাড়া ভারতের পুঁজিবাজারের পিই রেশিও ২৪ এবং থাইল্যান্ডের পুঁজিবাজারের পিই রেশিও ছিল ১৮ দশমিক ৭২। এই সূচকটি ইতিবাচক থাকার পরও চলমান মন্দার কারণে স্বরূপে ফিরছে না পুঁজিবাজার। 

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন। দীর্ঘদিন থেকে মন্দা থাকায় আমাদের পুঁজিবাজার পিছিয়ে যাচ্ছে। এটা থেকে বের হয়ে আসতে হলে দরকার ভালো শেয়ারের জোগান। সেজন্য বহুজাতিক ও ভালো মানের কোম্পানির তালিকাভুক্তি জরুরি। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না। এটা করতে পারলে আমাদের দেশের পুঁজিবাজার অনেক এগিয়ে যাবে।

প্রতিবেদন ঘেঁটে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বরে ডিএসই’র তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের সংখ্যা ছিল ৫৮৬টি। ইস্যুকৃত মূলধন ছিল এক লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা। বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৭৩ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা। মোট লেনদেন ছিল ২৪ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। সূচক ছিল চার হাজার ৯৪৭ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে।

জুন ত্রৈমাসিকের তুলনায় সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে ডিএসই লেনদেন বাড়লেও সূচকের পতন ঘটেছে। সেম্পেম্বর শেষে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের মধ্যে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ছিল ৩১৯টি, মিউচ্যুয়াল ফান্ড ছিল ৩৭টি, সরকারি বন্ড ২২১টি, ডিবেঞ্চার আটটি ও করপোরেট বন্ড একটি।

জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে মোট ৭৬০ কোটি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এপ্রিল-জুন সময়ে ৬২৬ কোটি শেয়ার হাতবদল হয়। অথচ গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এক হাজার ১০৮ কোটি শেয়ার হাতবদল হয়।

সেপ্টেম্বর শেষে ইস্যুকৃত মূলধনের ট্রেজারি বন্ডের অংশ ছিল প্রায় ৪৩ শতাংশ। ব্যাংক খাতের ইস্যুকৃত মূলধনের অংশ ছিল ২৩ শতাংশ। একই সময়ে মিউচুয়াল ফান্ডের অংশ ছিল চার শতাংশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশ ছিল প্রায় চার শতাংশ, বিমা কোম্পানিগুলোর অংশ ছিল প্রায় দুই শতাংশ এবং করপোরেট বন্ডের অংশ ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..