সম্পাদকীয়

সমন্বিত কার্যক্রমেই সম্ভব মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন

আবহমান কাল থেকেই নদী আমাদের উন্নতি-অগ্রগতির অপরিহার্য অনুষঙ্গ। যাতায়াতের সুবিধা থাকায় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সভ্যতা গড়ে উঠেছে নদীতীরে। আমাদের প্রায় সব প্রধান শহর, নগর ও বাণিজ্যকেন্দ্র বিভিন্ন নদীতীরে গড়ে উঠেছে। প্রাচীন বাংলার সমৃদ্ধির পেছনে এ অঞ্চলের নদীগুলোর অবদান অনস্বীকার্য।
তাই বলা চলে, নদী দখল করে নদীমাতৃক বাংলার প্রাণসূত্রকেই হত্যা করা হচ্ছে। খাল দখল করে কী ফল পাচ্ছি আমরা, তা সবার জানা। একটু ভারি বৃষ্টি হলেই রাজধানী ও মহানগরীগুলো জলাবদ্ধতায় নাকাল হয়। দেশে নদীগুলোর ভূমিকা অনেকটা সে রকম। দখল করে, বর্জ্য ফেলে নদীগুলো সরু করে ফেলায় আগের মতো পানি ধারণ করতে পারে না সেগুলো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অব্যাহত দখলেরই অনিবার্য পরিণতি নদীর এ বিধ্বংসী রূপ। এ ধরনের বন্যাকে তাই ‘মনুষ্যসৃষ্ট’ বলেন তারা।
দখল-দূষণে আক্রান্ত আমাদের নদীগুলো। মাঝেমধ্যে দখল-দূষণ মূক্ত করতে অভিযান চালানো হয় কিন্তু সেটি পরিকল্পিত নয়। প্রতি বছরই নদী ভাঙে এবং ভাঙন রোধে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ খরচ হয়। বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, নদী রক্ষায় তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এ অবস্থায় গতকালে শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘ঢাকা-চট্টগ্রামের নদীদূষণ রোধে দুই মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত’ শীর্ষক প্রতিবেদন সাধারণ মানুষের মনে আশার সঞ্চার করবে বলেই ধারণা।
খবরে জানা যায়, রাজধানীর চারপাশের নদীগুলোর দূষণ ও দখল রোধে খসড়া মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) চূড়ান্ত করা হয়েছে। ১০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীগুলো দখল ও দূষণমুক্ত করা হবে এবং নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও হালদা নদীর দখল ও দূষণ রোধে পৃথক আরেকটি মহাপরিকল্পনাও চূড়ান্ত করেছে সরকার।
মহাপরিকল্পনায় তিনটি বিষয় রয়েছে। নদী দূষণ রোধ, দখল থেকে উদ্ধার ও নাব্য। এটি বাস্তবায়ন করতে হলে দখল-দূষণের জন্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শূন্যসহনশীল হতে হবে।
নদীদূষণ, দখল রোধ ও নাব্য বৃদ্ধিতে মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে চার ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম (এক বছর), স্বল্পমেয়াদি (তিন বছর), মধ্যমেয়াদি (পাঁচ বছর) এবং দীর্ঘমেয়াদি (১০ বছর)। সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে মহাপরিকল্পনায়। নির্দিষ্ট সময় পর অগ্রগতি মূল্যায়ন করে দেখলে কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। এটি করা হলে মহাপরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন সম্ভব বলে আমরা মনে করি।
নদী নিয়ে বেশ কয়েকটি সরকারি সংস্থা কাজ করছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নাব্য রক্ষা ও পাললিকীকরণ, সেচ ব্যবস্থা এবং নদীর তীর সংরক্ষণে জরিপ পরিচালনা ও ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করে নদী গবেষণা প্রতিষ্ঠান। আমাদের আছে দুটি মন্ত্রণালয় পানিসম্পদ ও নৌপরিবহন। এসব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কার্যক্রম মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ..