সম্পাদকীয়

সময়ক্ষেপণ করে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি অগ্রহণযোগ্য

যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে রেলওয়ে সারা বিশ্বে জনপ্রিয় মাধ্যম। তাই আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এবং অর্থনীতির স্বার্থে এর উন্নয়নের বিকল্প নেই। সে দৃষ্টিকোণ থেকে দেশে রেললাইনের সম্প্রসারণও হচ্ছে। কিন্তু সরকারি প্রকল্পে অহেতুক সময়ক্ষেপণ করে ব্যয় বাড়ানো ও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। রেলওয়ের প্রকল্পগুলোও এর বাইরে নয়। অহেতুক সময়ক্ষেপণ করে বাড়ানো হচ্ছে ব্যয়। এহেন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রেলপথ সম্প্রসারণে কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। তবে তার সবগুলো নিয়েই অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিশেষত অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ‘খুলনা-মোংলা বন্দর রেলপথ: নির্মাণকাজে গতি না থাকলেও বাড়ছে ঠিকাদার নিয়োগ ব্যয়’ শিরোনামে গতকালের শেয়ার বিজে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে বলা হয়, খুলনা থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণে ২০১০ সালে প্রকল্প নেওয়া হলেও ঠিকাদার নিয়োগ হয় ২০১৫ সালে। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০১৮ সালের জুনে প্রকল্প শেষ করার কথা থাকলেও ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ হয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশ। এছাড়া চুক্তিমূল্য প্রায় ১৯ শতাংশ বাড়ানোর উদ্যোগে প্রকল্পের মোট ব্যয়ও বাড়ছে।

রেলওয়ে জনপ্রিয় ও নিরাপদ ভ্রমণের মাধ্যম হওয়ায় এর উন্নয়নে যে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তার বাস্তবায়ন হলে সেবার মান বাড়বে সন্দেহ নেই। তবে এ খাত এখনও লোকসানে রয়েছে। এ অবস্থায় রেলওয়ের সেবা ও প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিতের বিকল্প নেই। তা না হলে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও তার কার্যকর সুফল মিলবে না। মনে রাখতে হবে, চীন, জাপান, ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ধনী দেশগুলোর অর্থনীতি রেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আরও গতিশীল হয়েছে। আমাদেরও রেলওয়ে সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। তবে তার আগে এভাবে অস্বাভাবিক ব্যয় বন্ধে উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ খুলনা-মোংলা বন্দর রেলপথ প্রকল্পটির মেয়াদ কয়েক দফা বাড়িয়ে আগামী জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও ২০২২ সালের আগে শেষ হবে না বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের। ভারতের ঋণে শুরুতে সার্বিক ব্যয় এক হাজার ৭২১ কোটি টাকা ধরা হলেও শেষমেশ তা বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ৮০১ কোটি টাকায়। নতুন করে ব্যয় বাড়লে তা চার হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এভাবে কালক্ষেপণ করে ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে প্রকল্প প্রণয়নের আগে সবকিছু বিবেচনা করে ব্যয় নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি নিয়োগ জটিলতা, কালোবাজারি, অনিয়ম-দুর্নীতি দূরীকরণ এবং নিরাপত্তা জোরদার, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে রেলওয়ের সেবা সর্বাধুনিক ও লাভজনক হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..