সুশিক্ষা

সময়ের অপচয় থেকে বিরত থাকুন, ঘড়ির ভাষা বুঝতে শিখুন

মহাকালের হিসাবে তো বটেই, সাধারণ হিসাবেও আমাদের জীবনের আয়তন অতি ক্ষুদ্র, গড়ে ৬০ বছর। সেকেন্ডের হিসাবে ৬০ বছর মানে ১৮৯ কোটি সেকেন্ড। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখুন। টিকটিক করে অতি গুরুত্বপূর্ণ কোনো বার্তা সে আপনার কাছে পৌঁছাতে চায়। ঘড়ির ভাষা বুঝতে চেষ্ট করুন। একটি ‘টিক’ মানে আপনার জীবনের পুঁজি ১৮৯ কোটি সেকেন্ড থেকে একটি মূল্যবান সেকেন্ডের ক্ষয়! এভাবে প্রতিদিন প্রায় ৮৬ হাজার সেকেন্ড আপনার জীবন থেকে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে!

যে জায়গায় শুধু বিয়োগ আছে, যোগ নেই তা শেষ হতে কতক্ষণ? মানুষ টাকার বেলায় খুব হিসাবি হয়; কিন্তু সময়ের বেলায় বড় বেহিসাবি। আপনি রাজা হন, কিংবা প্রজাÑঘড়ির সতর্কবাণী শুনুন, সময়ের হিসাব রাখুন। ঘড়ি আপনার জীবনের অতি সূক্ষ্ম হিসাবরক্ষক। যদি বেহিসাবি হন, অলস ও উদাসীন হন, তাহলে হঠাৎ একদিন আপনি দেখতে পাবেন সময়ের মহাসমুদ্রে আপনি ১৮৯ কোটি টুকরো হয়ে মিশে গেছেন। যখন শুরু হবে নতুন জীবন, যার কোনো শেষ নেই, সেখানে ঘড়ির কোনো হিসাব নেই। এবার দেখুন অন্য এক হিসাব। প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা করে ঘুমের ঘোরে কেটে যায় আপনার জীবনের ৪৭ কোটি সেকেন্ড। আপনি খুব স্বাস্থ্যবান হলেও বছরের অন্তত তিন দিন অসুস্থতায় আপনার সময় নষ্ট হয়; অর্থাৎ এক কোটি ৫৭ লাখ সেকেন্ড। খুব কর্মতৎপর মানুষ স্নানাহার ও প্রাকৃতিক কর্মে প্রতিদিন তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় করে; অর্থাৎ ২৪ কোটি সেকেন্ড হাসি, তামাশা, গল্পগুজব ও খেলাধুলায় কাটায়। গড়ে এক ঘণ্টা হিসাবে নষ্ট হয় আট কোটি সেকেন্ড, পাঁচ বছরের শৈশবে চলে যায় ১৫ কোটি সেকেন্ড। এভাবে হিসাব করে দেখুন, ১৮৯ কোটি সেকেন্ডের অর্ধেকও আপনি আপনার জীবনে সত্যিকার অর্থে বাঁচাতে পারেন কি না।

সময়ের মূল্য প্রতিটা মানুষের জন্য খুবই গুরুত্ববহ। শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্ব আরও বেশি। শিক্ষাজীবনে এক মুহূর্ত সময় অপচয় না করে কাজে লাগালে ছাত্র-ছাত্রীরা সফল হবে। আর সময়ের কাজটি সময়ে করতে পারলে সফলতা খুব সহজেই আসে।

শেখ ইব্রাহীম আহমেদ

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..