সম্পাদকীয়

সময়োপযোগী ব্যবস্থায় সমৃদ্ধ হোক চামড়া খাত

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্যের একটি। সম্ভাবনাময় এ শিল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে দেশের এক বৃহৎ জনগোষ্ঠী জড়িত। বিদেশেও আমাদের চামড়াজাত পণ্যের বেশ সুনাম আছে। সে অর্থে আমরা এ খাত থেকে সর্বোচ্চ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সক্ষম হইনি।

প্রতি ঈদুল আজহায় পুরো বছরের প্রায় ৬০ শতাংশ চামড়া সংগ্রহ হয়। কিন্তু এ সময়টায় চামড়ার দামে নৈরাজ্য বিরাজ করে। চামড়ার দাম বাড়লে এর প্রধান সুবিধাভোগী হয় সমাজের দুস্থ ও অসহায় মানুষ। কারণ চামড়া বিক্রির টাকা কোরবানিদাতারা দুস্থ-এতিমদের দান করেন। তবে বেশি দামে চামড়া কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হোন ট্যানারি মালিক, এটি কাম্য নয়। আবার ন্যায্য দাম না পেলে এর সুফল পান না সাধারণ মৌসুমি বিক্রেতারাও, সেটিও মনে রাখতে হবে।

প্রতি ঈদুল আজহায় সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় চামড়ার দাম কম থাকে। তাই প্রতি বছর বিভিন্ন গোষ্ঠী সংঘবদ্ধ হয়ে দামে কারসাজি করে এবং কর্তৃপক্ষকে দিয়েও কম দাম নির্ধারণ করে নেয় তারা। তবে গত ঈদুল আজহায় চামড়ার দামে নৈরাজ্যের কথা সবার জানা। নায্য দাম না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্রেতারা চামড়া ফেলে দিয়েছেন। ভাগাড় থেকে হাজার হাজার চামড়া সরিয়ে নিতে হয়েছে সিটি করপোরেশনকে।

আবার গত কয়েক বছর চামড়া খাতে রপ্তানি আশাব্যঞ্জক নয়। চামড়াপণ্য রপ্তানিতে আরও পাঁচ বছর নগদ প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে গত অক্টোবরে। তাছাড়া প্রতিবারই চামড়া কেনার জন্য ব্যাংকঋণ দেওয়া হয়। চামড়াশিল্প স্থানান্তর প্রক্রিয়ার ধীরগতিতে এ শিল্প সংকটে আছে, সন্দেহ নেই। এখানে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) চালু না করেই ট্যানারি চালু করায় বিদেশি ক্রেতারা অসন্তুষ্ট। এ অবস্থায় চামড়াশিল্পের উন্নয়নে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

এরই মধ্যে সম্ভবত চামড়াশিল্পে অচলাবস্থার অবসান ঘটতে চলেছে। ব্যবসায়ীরা না কিনলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোরবানির চামড়া কেনা হবে ও গুদামে সংরক্ষণ করা হবে। চামড়াশিল্পের উন্নয়নে গঠিত টাস্কফোর্সের প্রথম সভায় বুধবার তা জানানো হয়। 

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত খবরে বলা হয়, প্রয়োজন হলে সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানি করবে। স্থানীয় পর্যায়ে দেওয়া হবে চামড়া সংরক্ষণের প্রশিক্ষণ ও উপজেলা পর্যায়ে দেওয়া হবে প্রণোদনা। টাস্কফোর্সের সভায় আরও কিছু সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এসব সিদ্ধান্ত যথারীতি পরিপালিত হলে চামড়াশিল্পে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই আমাদের ধারণা। তবে সিদ্ধান্ত নিলেই ফল আসবে না। নির্দিষ্ট সময় অন্তর এর অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে হবে। চামড়ার দামে নৈরাজ্য ঠেকাতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রণোদনা ও প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্টদের কতটা দায়িত্বশীল করছে, সেটিও নজরদারি করতে হবে। সমন্বিত প্রচেষ্টায় আমাদের চামড়াশিল্প ঘুরে দাঁড়াবেই, আশা করা যায়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..