শেষ পাতা

সমুদ্রবন্দরে এক নম্বর দূরবর্তী সংকেত

বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নি¤œচাপটি ঘনীভূত হয়ে গভীর নি¤œচাপে পরিণত হয়েছে; যা ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। নি¤œচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় দেশের সব সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর দূরবর্তী সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের আট দেশের আবহাওয়া দফতরের নির্ধারিত তালিকা থেকে ধারাবাহিকভাবে এ অঞ্চলের ঝড়ের নাম দেওয়া হয়। এবার ‘বুলবুল’ নামটি নেওয়া হচ্ছে পাকিস্তানের প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে।

আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নি¤œচাপটি গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার পাঁচ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে; কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে; মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

ওই সময় নি¤œচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে জানানো হয়েছে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে।

ভারতের আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বলছে, বুধবার রাত ৮টা নাগাদ নি¤œচাপটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ পেতে পারে। তখন বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ উঠতে পারে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটারের ওপরে। বৃহস্পতিবার বিকালে আরও শক্তিশালী হয়ে এ ঝড় তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে (সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম) পরিণত হতে পারে। তখন বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার।

বর্তমান অবস্থান থেকে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘূর্ণিঝড়টি আগামী ১১ নভেম্বর নাগাদ ভারতের ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ হয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে ভারতীয় আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন।

এর আগে গত মে মাসের শুরুতে ঘূর্ণিঝড় ফণী ওই এলাকা দিয়েই উপকূল অতিক্রম করে ভারত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল।

আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান জানান, গভীর নি¤œচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল থাকায় আপাতত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ সময় উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে বিচরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..