প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সমুদ্রে পণ্য পরিবহনে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে মেঘনা গ্রুপ

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম : দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ হয় সমুদ্রপথে। আর সমুদ্রপথে পণ্য আনার জন্য বাংলাদেশি পতাকাবাহী সমুদ্রগামী জাহাজ আছে ৯০টি। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়িক শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সমুদ্রগামী জাহাজের বহরের আছে ২০টি। আগামী কয়েক মাসে আরও নতুন তিনটি সমুদ্রগামী জাহাজ যুক্ত হতে যাচ্ছে। যদিও সমুদ্রগামী জাহাজ মালিকানায় শীর্ষ প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের কবির গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। তাদের বহরের জাহাজ আছে ২৩টি। অর্থাৎ এ দুই শিল্প গ্রুপের মালিকানায় সমুদ্রগামী জাহাজ সমানে সমান। আর বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বাকি ৫০টির মালিকানায় আছে।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সমুদ্রগামী জাহাজগুলো হলোÑমেঘনা প্রাইড, মেঘনা ট্রেডার, মেঘনা অ্যাডভেন্ডার্স, মেঘনা রোস, মেঘনা হারমনি, মেঘনা এনার্জি, মেঘনা প্যারাডাইজ, মেঘনা ড্রিম, মেঘনা প্রিন্সেস, মেঘনা লিবার্টি, মেঘনা ফ্রিডম, মেঘনা সান, মেঘনা স্টার, মেঘনা ফরচুন, মেঘনা ভেনাস, মেঘনা প্রসপার, মেঘনা ক্রাউন, মেঘনা ভিশন, মেঘনা প্রসপার এবং মেঘনা ভিক্টেরি। এছাড়া আগামী কয়েক মাসে মেঘনা প্রেস্টিজ, মেঘনা হোপ এবং মেঘনা প্রোগ্রেস ধাপে ধাপে মেঘনা গ্রুপের বহরে যুক্ত হবে। বর্তমানে দেশে সমুদ্রগামী জাহাজ মালিকানায় শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম ভিত্তিক জায়ান্ট গ্রুপ কবির গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। এ গ্রুপের সমুদ্রগামী জাহাজের ব্যবসার পাশাপাশি জাহাজ ভাঙা, ইস্পাত, সিমেন্টসহ বহুমাত্রিক ব্যবসা রয়েছে। তাদের বহরের মোট ২৩টি জাহাজ রয়েছে। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা আজিজ গ্রুপের দশটি জাহাজ রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ছয়টি, বসুন্ধরা গ্রুপের চারটিসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বাকি ৩০টির মালিকানায় আছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে, দেশের অর্থনীতির প্রাণখ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতি বছরই বাড়ছে পণ্যবাহী জাহাজ হ্যান্ডলিং। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের আমদানি ও রপ্তানি পণ্য নিয়ে তিন হাজার ৯২টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের এসেছিল। একইভাবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ছিল তিন হাজার ৩৩৬টি জাহাজ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তিন হাজার ৬৯৯টি, ২০১৯-২০ অর্থবছরের তিন হাজার ৭৬৪টি, ২০২০-২১ অর্থবছরে চার হাজার ৬২টি এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের মোট চার হাজার ২৩১টি জাহাজ চট্টগ্রামের আসে।

সমুদ্রগামী জাহাজ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, বিশ্ববাণিজ্যের নীতি অনুযায়ী দেশের বার্ষিক আমদানির ৫০ শতাংশ স্থানীয় জাহাজের মাধ্যমে সম্পন্নের কথা থাকলেও আমাদের জাহাজ সংকটের কারণে এ সুবিধা নিতে পারছি না। আমাদের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যের মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ লেনদেন আমাদের বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজের মাধ্যমে হচ্ছে। দেরি হলেও সরকার এ খাতে নীতি সহায়তা দিয়েছে। মূলত আমাদের সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যিক লেনদেন আরও বাড়বে। তাই জাহাজ আমদানিতে মূল্য সংযোজন কর (মূসক), করপোরেট করের হার এভং দীর্ঘমেয়াদি ব্যাংক লোন দিতে এ খাতে আরও বিনিয়োগ বাড়বে। কারণ প্রতি বছর বাংলাদেশে চার হাজার জাহাজ পণ্য নিয়ে আসে। এ ব্যবসায় অনেক সম্ভাবনাময়। কারণে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা। বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের পরও রিটার্ন না পাওয়ায় ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন বন্ধ করে জাহাজ ব্যবসা থেকে সরে আসছেন অনেকে।

এ বিষয়ে মেঘনা গ্রুপের মাকেন্টাইল মেরিন বিভাগের প্রকৌশলী আবু তাহেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি চীনে আছেন বলেন জানান। ফলে তার সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে মেঘনা গ্রুপের একাধিক কর্মকর্তারা শেয়ার বিজকে বলেন, মেঘনা গ্রুপের বড় ও বহুমাত্রিক শিল্প গ্রুপ। আমাদের ভোগ্যপণ্য, ভোজ্য তেল, ক্লিংকার পরিবহনের জন্য জাহাজের দরকার হয়। এ খাতে আগে বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যেত। এখন নিজের বহর শক্তিশালী হওয়ায় ডলার সাশ্রয় হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের ২০টি সমুদ্রগামী জাহাজ আছে। আমাদের বহরের আরও তিনটি নতুন জাহাজ যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে চীনে তৈরি নতুন আরও তিনটি জাহাজ-মেঘনা প্রেস্টিজ, মেঘনা হোপ এবং মেঘনা প্রোগ্রেস ধাপে ধাপে মেঘনা গ্রুপের বহরে যুক্ত হবে। এ তিনটি জাহাজ ২০২৩ সালে জানুয়ারি, মার্চ এবং মে মাসে পণ্য পরিবহন শুরু হতে পারে।

এ বিষয়ে নৌ-বাণিজ্য দপ্তরের প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন শেয়ার বিজকে বলেন, সরকার সমুদ্রগামী জাহাজ ব্যবসায় নীতি সহযোগিতা দেয়ার পর বড় বড় শিল্পগ্রুপগুলো এ খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এ খাতে সাম্প্রতিক সময়ে আকিজ গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, বসুন্ধরা, কবির গ্রুপ বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। ফলে তিন বছরের পতাকাবাহী জাহাজ সংখ্যা ৩৫টি বেড়েছে। সব মিলিয়ে এখন মোট ৯০টি জাহাজ দাঁড়িয়েছে। আশা করছি আগামী বছর সরকারি ও বেসরকারি মালিকানায় জাহাজ সংখ্যা মোট ১০০ জাহাজ ছাড়িয়ে যাবে। আমাদেও দেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগবান্ধব সহযোগিতা দেয়ার জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে।

উল্লেখ, বর্তমানে বাংলাদেশী পতাকাবাহী সমুদ্রগামী জাহাজের সংখ্যা ৯০টি। ২০১২ সালে ছিল ৩৫টি। আর ২০১৮ সালে ছিল ৩৬টিতে।