প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সম্প্রসারিত হচ্ছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক মানের সমপর্যায়ে যেতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। প্রকল্পটির আওতায় সর্বশেষ প্রযুক্তির উড়োজাহাজ ল্যান্ডিংয়ের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে শাহজালালকে। এ প্রকল্পটিসহ গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৩৪ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এতে একনেকের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিমানবন্দরের টার্মিনাল সম্প্রসারণ ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিমান পরিহনের চাহিদা পূরণ এবং আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ও সুবিধাদি নিশ্চিতকরণ কর হবে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের প্রধানতম বিমানবন্দর। বাংলাদেশে প্রায় ১৭টি উড়োজাহাজ সংস্থার এয়ারক্রাফট চলাচল করে। এ বিষয়ে ৫২টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে। বর্তমানে বিমানবন্দরটির বছরে আট মিলিয়ন টার্মিনালটির মাধ্যমে আধুনিক পাঁচ স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছ না। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ সমস্যাগুলো অনেকাংশে সমাধান করা সম্ভব হবে। প্রাক্কলিত ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল দুই হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ১১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা। প্রকল্প সাহায্য দেবে জাইকা।

গতকাল অনুমোদন হওয়া সবচেয়ে বেশি ব্যয়ের প্রকল্প হলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে আব্দুল্লাহপুর-আশুলিয়া-বাইপাইল হয়ে নবীনগর মোড় এবং ইপিজেড হয়ে চন্দ্রা মোড় পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ। প্রকল্পটি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার সঙ্গে ৩০টি জেলার সংযোগ স্থাপনকারী আব্দুল্লাপুর-আশুলিয়া, বাইপাইল-চন্দ্রা করিডরে যানজট অনেকাংশে হ্রাস পাবে। প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অনুসারে প্রস্তাবিত অ্যালাইনমেন্টটি ছিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দও থেকে শুরু হয়ে আব্দুল্লাহপুর-আশুলিয়া-বাইপাইল হয়ে নবীনগর মোড় এবং ইপিজেড হয়ে চন্দ্রা মোড় পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অনুযায়ী প্রস্তাবিত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ২৪ কিলোমিটার। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মিত হলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে আব্দুল্লাপুর-আশুলিয়া-বাইপাইল হয়ে নবীনগর মোড় এবং ইপিজেড হয়ে চন্দ্র মোড় পর্যন্ত সংযোগ স্থাপিত হবে। এছাড়া এক্সপ্রেসওয়েটি প্রায় সব জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হবে বলে একনেক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

গতকাল অনুমোদন হওয়া অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে কুমিল্লা শহরের টমসম ব্রিজ থেকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ। বালাশী ও বাহাদুরাবাদে ফেরিঘাটসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনাদি নির্মাণ প্রকল্প এবং বৃহত্তর ঢাকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩।