সম্পাদকীয়

সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঘুরে দাঁড়াক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো

সব সময় ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা একরকম যায় না। নগদ অর্থপ্রবাহের ওপর নির্ভর করে এগুলোর গতি-প্রকৃতি। কোনো কারণে এসব প্রতিষ্ঠান নগদ অর্থ প্রবাহে সংকটে পড়ে। অর্থনীতির ভাষায় এটিকে তারল্য সংকট বলে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহক চাহিদামতো টাকা তুলতে গেলে সমস্যায় পড়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান। পরিস্থিতি সামাল দিতে উচ্চ সুদে কলমানির মাধ্যমে নগদ অর্থ ধার করতে হয়। কোনো প্রতিষ্ঠান তারল্য সংকটে পড়তেই পারে। সেটির স্থায়িত্ব যেন না বাড়ে, সে প্রচেষ্টা থাকে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের। এক্ষেত্রে সাফল্যের পরিচয় দিতে না পারলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হন না, প্রতিষ্ঠানও বিলুপ্তির আশঙ্কা দেখা দেয়। উদাহরণও আছে, এরই মধ্যে অনিয়মের দায়ে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবসায়ন করতে হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে। এ অবস্থায় গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘তীব্র হচ্ছে তারল্য সংকট: ধার দেওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো’ পাঠকের মনোযোগ কাড়বে বলেই ধারণা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে খবরে বলা হয়, গত জানুয়ারি থেকেই তারল্য সংকটে রয়েছে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রতিদিনই দৈনন্দিন চাহিদা ও মেয়াদপূর্তি হওয়া এফডিআরের অর্থ দিতে কলমানি বাজার থেকে ধার করতে হচ্ছে। এছাড়া বেসরকারি খাতের কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানই অন্য প্রতিষ্ঠানকে অর্থ ধার দিতে পারছে না, শুধু ধার নিচ্ছে। দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে দৈনিক গড়ে ৭০০ কোটি টাকা ধার নিচ্ছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তারল্য সংকটে তহবিল ব্যয় ব্যবস্থাপনা খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এটি স্বাভাবিক। কারণ, শুধু ব্যয়ই হচ্ছে, অথচ কোনো আয় নেই। এ অবস্থায় গ্রাহক আস্থা হারাবে প্রতিষ্ঠানগুলো; অনেকে টাকাও তুলে নেবেন। গ্রাহকের আস্থা বৃদ্ধি তথা প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীল হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
সাধারণত বেশি হারে ঋণ দিলে এবং ওই ঋণ অনাদায়ী হলে, বাজারে বিনিয়োগ বাড়লে, অনুৎপাদনশীল খাতে ঋণের অর্থ ব্যবহার হলে এবং কালোটাকার পরিমাণ বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে তারল্য সংকটে পড়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এর বাইরে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণেও এমন সমস্যার পড়ে এসব প্রতিষ্ঠান। কী কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তারল্য সংকট ক্রমেই বাড়ছে, সেটি বের করতে হবে। গত জানুয়ারি থেকে তারল্য সংকট চলছে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে। টানা ৯ মাসে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেওয়া ব্যবস্থার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা হলে তারল্য সংকট এত দীর্ঘ হতো না।
সমস্যাজর্জর প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আমানত প্রত্যাহার না করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাশে দাঁড়াতে পারে ব্যাংকগুলো। অন্তত আর্থিক সূচক ভালো থাকা প্রতিষ্ঠানে ব্যাংকগুলো যেন বিনিয়োগ বাড়ায়, সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে ভূমিকা রাখতে হবে। অংশীজনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তারল্য সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..