মার্কেটওয়াচ

সময় এসেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্তের

নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো প্রতিনিয়ত বাজারে অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম তদন্ত করে। প্রতি মুহূর্তে তারা তদন্তের মধ্যে থাকে কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভেতরে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম হচ্ছে সেটি তদন্ত করা হচ্ছে না। সময় এসেছে এ সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত করার। যদি এখনও তদন্ত না করা হয় একটি সময়ে জনতার আদালতে যাওয়ার আগে উচ্চ আদালতে যেতে বাধ্য হবে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।
হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইসিএবির কাউন্সিল মেম্বার ও সাবেক সহসভাপতি শাহাদাৎ হোসেন, এফসিএ এবং একাত্তর টিভির
সিনিয়র বিজনেস এডিটর কাজী আজিজুল ইসলাম মাখন।
শাহাদাৎ হোসেন বলেন, জানুয়ারির পর থেকে ক্রমাগত কমে যাচ্ছে পুঁজিবাজার। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। ব্যাংকের সুদের হার কমা-বাড়া নিয়ে এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। এবার প্রস্তাবিত বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে, ঘাটতি পূরণে ব্যাংক থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে। সম্প্রতি আর্থিক খাতের একটি কোম্পানি অবসায়ন করা হয়েছে। ফলে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে তারল্য সংকট দেখা যাচ্ছে। এর ফলে বিনিয়োগকীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীরা হতশাগ্রস্ত হয়ে শেয়ার কেনার চেয়ে বিক্রি করছে বেশি। এ জন্য বাজারের এমন অবস্থা বিরাজ করছে। মানি মার্কেটের সঙ্গে ক্যাপিটাল মার্কেট ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যখন এ দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা যায়, তখন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বিছিন্নভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। আসলে এভাবে সিদ্ধান্ত নিলে ক্যাপিটাল মার্কেট ও মানি মার্কেট ভালো করা যাবে না। অর্থনীতির মূলকথা জনগণের জন্য অর্থনীতি। আমরা জিডিপি ও মাথাপিছু আয় যাই হিসাব করি না কেন দেশের জনগণের কল্যাণের জন্য অর্থনীতি। শুধু কাগজ-কলমে হিসাব থাকলেই অর্থনীতি বলা যায় না। একটি দেশের পুঁজিবাজার অর্থনীতির একটি অংশ। যদি পুঁজিবাজারের উন্নয়ন না হয় সে দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন হবে না।
কাজী আজিজুল ইসলাম মাখন বলেন, বাজেট ঘোষণার পর বাজারের মূলধন প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে। সম্প্রতি কোনো কোনো পত্রিকা প্রকাশ করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা নেই, ২৫ হাজার টাকা নেই এবং ২৭ হাজার টাকা নেই। আসলে তাই দেখা যাচ্ছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ প্রতিশ্রুতি নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ যারা বাজারসংশ্লিষ্ট বিশেষ করে বিএসইসি, অর্থ মন্ত্রণালয়, ডিএসই, সিএসই, মার্চেন্ট ব্যাংক প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান গুরুত্ব সহকারে তাদের দায়িত্ব পালন করছে না। এসব প্রতিষ্ঠান বাজারের এ অবস্থা থেকে দায় এড়াতে পারে না। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি আরও বলেন, এখন বিদেশি বিনিয়োগকারী আসছে এবং সামনে আরও আসবে। যদি তারা দেখে দেশের পুঁজিবাজারের এ রকম অবস্থা। সেক্ষেত্রে তারা হতাশাগ্রস্ত হবে এবং তাদের মধ্যে একটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। এর প্রভাব অর্থনীতিতে পড়বে। এর ফলে চরম মূল্য দিতে হবে দেশের অর্থনীতিকে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো প্রতিনিয়ত বাজারে অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম তদন্ত করে এবং প্রতি মুহূর্তে তারা তদন্তের মধ্যে থাকে কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভেতরে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম হচ্ছে সেটি তদন্ত করা হচ্ছে না। সময় এসেছে এ সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত করা। যদি এখনও তদন্ত না করে একটি সময়ে জনতার আদালতে যাওয়ার আগে উচ্চ আদালতে যেতে বাধ্য হবে।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..