দিনের খবর শেষ পাতা

সরকারকে ফাঁকি দিলেও কভিডকে ফাঁকি দেয়া যায় না: সেতুমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারকে ফাঁকি দিলেও কভিডকে ফাঁকি দেয়া যায় না বলে সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, করোনা দিনে দিনে আরও হিংস্র হয়ে উঠছে। সামান্য উদাসীনতায় অকাল মৃত্যু অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পাঁচ মিনিটের ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ ভিডিও বার্তায় দেশ-বিদেশে কভিডের সর্বশেষ চিত্র তুলে ধরেন। এতে তিনি মহামারি কভিডে বিশ্বের মানুষের অসহায়ত্বের কথা, বাংলাদেশের মানুষের লকডাউন না মানার প্রবণতা, উদাসীনতা তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, সুনামির মতো বিধ্বংসী আলোড়ন তুলে করোনা এসেছে পৃথিবীজুড়ে। কভিডে কাবু আজ সারা পৃথিবী। কাঁপছে আমেরিকা, কাঁপছে ল্যাটিন আমেরিকা, কাঁপছে আফ্রিকা, কাঁপছে এশিয়া। ভারত কাঁপছে। কাঁপছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। জীবনের এক অচিন্তনীয় অবিশ্বাস্য কঠিন লড়াই। জরুরি শয্যার জন্য দুনিয়াজুড়ে হাহাকার। সম্মুখসারির যোদ্ধারা সামাল দিতে হিমশিম।

‘দেশে দেশে সংক্রমণ শুধু বাড়ছেই। বাড়ছে মৃত্যুর হার। কত আপন মানুষ এরই মধ্যে করোনার করাল গ্রাসে চিরদিনের মতো বিদায় নিয়েছে এই আলোছায়ার সুন্দর পৃথিবী থেকে। নতুন নতুন ধরনের সে ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে করোনা।’

করোনায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল মতিন খসরুর মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই তো সেদিন আমাদের কাছের মানুষ মতিন খসরুর শেষ বিদায়ের বিষাদ সংবাদ পেলাম। এক দিনেই সর্বোচ্চ ৯৬ জন চলে গেল মৃত্যুর মিছিলে। সকালে ঘুম ভাঙলেই নতুন নতুন মৃত্যু আর সংক্রমণের খবর। জীবনের যারা কাছের মানুষ প্রাণঘাতী প্যানডেমিক তাদের কত দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। এ রোগীদের কাছে আসতে ভয়। ফুল জোটে না কফিনে। মৃতের সৎকারেও আপন মানুষেরা কাছে ভেড়ে না। দূর থেকে শুধু নিঃসীম শূন্যতা ভরা হƒদয়ে ভারাক্রান্ত হয়।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, করোনা প্রতিরোধে সারা দুনিয়ায় আজ লকডাউন চলছে। চলছে রাত্রিকালীন কারফিউ। পৃথিবীজুড়ে গরিব আরও গরিব হচ্ছে। বাড়ছে কর্মহীন বেকারদের দীর্ঘ মিছিল। বাংলাদেশে লকডাউন মানতে চায় না মানুষ। মাস্ক পরতেও নিদারুণ অনাগ্রহ। স্বাস্থ্যবিধির প্রতি সাংঘাতিক অবহেলা। ভ্যাকসিনেও হার মানছে না করোনা। ভয়ঙ্কর ভাইরাসকে হারাতেই হবে। স্বাস্থ্যবিধির শানিত হাতিয়ারই শুধু হারাতে পারে প্রাণঘাতী করোনাকে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, কভিড দিনে দিনে হয়ে উঠছে আরও হিংস্র। আরও প্রতিশোধপরায়ণ। তবু মানুষ সর্বত্র বেপরোয়া। রাস্তায়, হাটবাজারে, ফেরিঘাটে বেপরোয়া মানুষদের ছুটন্ত মিছিল চোখে পড়ে প্রতিদিন। সরকারি বিধিনিষেধ পুরোপুরি মানছে না মানুষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক আহ্বানেরও উপেক্ষা করছে। নানা ফাঁকফোকরে শহর থেকে গ্রামের দিকে অনিশ্চিত অভিযাত্রার যেন বিরাম নেই।

সবাইকে সতর্ক করে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ভুলে গেলে চলবে না সরকারকে ফাঁকি দিলেও কভিডকে ফাঁকি দেয়া যায় না। সামান্য উদাসীনতায় অকাল মৃত্যু অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। করোনা এখন তরুণদেরও ছাড়ছে না। করোনার ভয়াল গ্রাস থেকে ধনী-দরিদ্র, বড় ছোট কারও রেহাই নেই। এখন আর কোনো রাজনীতি নয়। এখনকার রাজনীতি হচ্ছে সচেতনতার দুর্গ গড়ে তোলা। করোনাকে প্রতিরোধ করা। আসুন আমরা দল-মত শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে আমাদের সবারই সুরক্ষার স্বার্থে করোনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হই। জয় আমাদের হবেই।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..