দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

সরকারি কর্মকর্তাদের বিমানে ভ্রমণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

‘রাজহংস’ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে যুক্ত হওয়া চতুর্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বিকাল ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিতা কাটার পর উড়োজাহাজটি ঘুরে দেখেন তিনি।
এদিকে আকাশপথে চলাচলের সময় যে রুটে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট আছে, সেসব ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ বিমানে ভ্রমণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এখন বিমানে উঠলে গর্বে বুক ভরে যায়। আমি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সরকারি কর্মকর্তারা যেখানেই যাবেন, বাংলাদেশ বিমানেই যেতে হবে। ‘রাজহংস’ উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে বাংলাদেশ। পৃথিবীর বহু দেশ দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও তাদের মূল্যস্ফীতি বেশি। আমরা প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ধরে রাখতে পেরেছি। প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগসহ আমাদের অনেক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়েছে। তারপরও আমরা আমাদের দেশে চমৎকার একটি পরিবেশ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১০টি ড্রিমলাইনারের নাম আমি দিয়েছি, যাতে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে সবাই পরিচিত হতে পারেন।’ পণ্য রফতানির জন্য দুটি কার্গো বিমান কেনা ও কার্গো ভিলেজ গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।
রাজহংসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) ইনামুল বারী, সচিব মহিবুল হক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নবনিযুক্ত এমডি ও সিইও মোকাব্বির হোসেন।
রাডারের কারিগরি ত্রুটি সারানোর পর ড্রিমলাইনার রাজহংস ঢাকায় এসে পৌঁছায় ১৪ সেপ্টেম্বর। ওইদিন সকালে উদ্বোধনের কথা থাকলেও রাজহংস দেরিতে আসায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়। পরে গতকাল উদ্বোধনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ। এর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও সর্বশেষ ‘রাজহংস’ আসায় চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ বিমানবহরে যোগ হলো। এর মধ্য দিয়ে সম্পাদিত চুক্তির ১০টি উড়োজাহাজের সবই বুঝে পেল বিমান।
বিমানের ১০টি বোয়িংয়ের মধ্যে আকাশবীণা, হংসবলাকা, গাঙচিল এবং রাজহংস নামে চারটি ড্রিমলাইনারের নাম পছন্দ ও বাছাই করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে পালকি, অরুণ আলো, আকাশ প্রদীপ, রাঙা প্রভাত নামে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর এবং মেঘদূত ও ময়ূরপঙ্খী নামে দুটি বোয়িংয়ের ৭৩৭-৮০০ নামও দেন প্রধানমন্ত্রী।
একটানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে পারে ড্রিমলাইনার। এটি চালাতে অন্যান্য বিমানের তুলনায় ২০ শতাংশ জ্বালানি কম লাগে। অন্য তিনটি ড্রিমলাইনারের মতো রাজহংসের আসনসংখ্যা ২৭১টি। বিজনেস ক্লাস ২৪ আর ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস। বিজনেস ক্লাসে ২৪ আসন ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত রিক্লাইন্ড সুবিধা এবং সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড হওয়ায় যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে ভ্রমণ করতে পারবেন। বিমানটিতে যাত্রীরা অন্যান্য আধুনিক সুবিধা, ইন্টারনেট ও ফোনকলের সুবিধাও পাবেন।

সর্বশেষ..