সম্পাদকীয়

সরকারি কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করুন

রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারি দপ্তর, বিভাগ, সংস্থা ও বাহিনী রয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের মূল কাজ জনগণের সেবকের ভূমিকা রাখা এবং রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করা। তবে তাদের বিরাট অংশ সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করার পরিবর্তে নিপীড়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন। তাদের অপরাধ গুরুতর হলেও আইনিভাবে সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকায় তারা প্রায়ই পার পেয়ে যাচ্ছেন, কিংবা বিচার বিলম্বিত হচ্ছে। এতে সৎ ও ভালো হিসেবে পরিচিতদের নিয়েও সবার কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে।

‘এক সাংবাদিক ধরতে ৪০ জনের বাহিনী, বিশাল ব্যাপার: হাইকোর্ট’ শিরোনামে গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। খবরটিতে বলা হয়েছে, কুড়িগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে দণ্ড দেওয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। মধ্যরাতে তার বাসায় ৪০ জনের বাহিনী যাওয়াকে বিশাল ব্যাপার বলে অভিহিত করেছেন আদালত। এছাড়া ‘প্রত্যাহার হচ্ছেন কুড়িগ্রামের ডিসি’ শিরোনামে অপর প্রতিবেদনে এতে জড়িত ডিসিকে প্রত্যাহারের খবর দেওয়া হয়েছে। অবশ্য সিনিয়র সহকারী কমিশনারসহ (আরডিসি) জড়িত আরও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে শুধু এ ব্যবস্থাই নয়, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী কঠোর শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন অনেকে।

সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি অপরাধে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হওয়ার আগে গ্রেপ্তার করতে সরকারের অনুমতি লাগবে। নিয়োগ কর্তৃপক্ষ লঘু বা গুরুদণ্ড প্রদান করলেও কর্মচারী রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপিল করা যাবে না। অথচ সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সব পর্যায়ের জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হলেই গ্রেপ্তার করা যাবে। সরকারি কর্মচারীদের অতিরিক্ত সুরক্ষা দিয়ে করা আইনটি বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন অভিযোগে শুরু থেকেই সমালোচনা চলছে। কুড়িগ্রামে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাটিও ফৌজদারি অপরাধ নিঃসন্দেহে। তবে জড়িত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রত্যাহৃত হলেও এখনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

খবরেই বলা হয়েছে, ওই সাংবাদিককে বাড়ি থেকে মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে মারধর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আরও অনেকে তাকে নগ্ন করে বেধড়ক মারধর করেন। এমনকি মাদক দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়, যা নিয়ে খোদ হাইকোর্টও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, সন্দেহ নেই। সে দৃষ্টিকোণ থেকে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা উচিত। পাশাপাশি অতিরিক্ত সুরক্ষা দিয়ে করা সরকারি চাকরি আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো সংশোধন করে যৌক্তিক করা জরুরি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..