সারা বাংলা

সরকারি টাকায় ব্যক্তিগত পর্যটন কেন্দ্র গড়ার অভিযোগ

প্রতিনিধি, বান্দরবান: বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় কুরুকপাতা ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্টের (এলজিএসপি) সরকারি টাকায় ব্যক্তিগত জমিতে পর্যটন স্পট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। পাহাড়ের ওপরে ‘রাস্তার পাশে যাত্রীছাউনি নির্মাণ’ নামে প্রকল্প দেখিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরের এলজিএসপি’র চার লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে মাতামুহুরী রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকায় চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত পর্যটন স্পট (ভিউ পয়েন্ট) তৈরি করেছেন। এছাড়া সরেজমিনে যাত্রীছাউনি প্রকল্পে দেখানো স্থানে গিয়ে এর কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে আলীকদমের কুরুকপাতা ইউনিয়ন দুই কিস্তিতে লোকাল গভর্ন্যাস সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি) থেকে ৪২ লাখ টাকা বরাদ্দ পায়। বরাদ্দের অধিকাংশ টাকায় একইভাবে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো নয়-ছয় করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সেপ্টেম্বরে সরকারি রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকায় গড়ে তোলা একটি ভিউ পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে সেটি ভেঙে ফেলেছে বন বিভাগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইউপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন, কোনো প্রকল্পের বরাদ্দ এলে চেয়ারম্যান সেটি গোপন করেন। ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের তথ্যটা দেওয়া হয় না। মুষ্টিমেয় প্রকল্প দেখিয়ে সিংহভাগ বরাদ্দের ক্ষেত্রে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে নয়-ছয় করা হচ্ছে। যাত্রীছাউনির নামে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি এলজিএসপি’র টাকায় ব্যক্তিগত পর্যটন স্পট গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে।

লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এসএম কায়ছার বলেন, একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। বন আইন লঙ্ঘন করে তৈরি করা স্থাপনাটি বনবিভাগ ভেঙে ফেলেছে।

কুরুকপাতা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, ‘পর্যটকরা বেড়াতে এসে যেন থাকতে পারে, সেজন্য ভিউ পয়েন্টটি নির্মাণ করেছি। কিন্তু কুরুকপাতা পাহাড়ের ওপরে রাস্তার পাশে যাত্রীছাউনি নির্মাণের নামে প্রকল্প দেখিয়েছি। বনবিভাগ আমাকে না জানিয়ে তৈরি করা স্থাপনাটি ভেঙে ফেলেছে।’ ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে এলজিএসপি অধিকাংশ প্রকল্পের বরাদ্দ লোপাটের অভিযোগটি সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..