সম্পাদকীয়

সরকারি প্রকল্পে ভুল পরিকল্পনা কাম্য নয়

সাশ্রয়ে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সুবিধার কথা বিবেচনায় দেশে বিস্তৃত রেলওয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। এর উন্নয়নে বড় কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। এগুলো বাস্তবায়নে মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে; কিন্তু সুফল কতটা মিলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একদিকে অনিয়ম-দুর্নীতি, জনবল সংকট, ইঞ্জিনের অভাব ও অব্যবস্থাপনায় কাক্সিক্ষত সেবা মিলছে না, অন্যদিকে ভুল পরিকল্পনায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় জটিলতা বাড়ছে। আরও অনেক রাষ্ট্রীয় প্রকল্পে এমন ভুল দেখা যাচ্ছে। এমন ভুল ও রাষ্ট্রীয় অর্থ নষ্ট করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

‘ভুল পরিকল্পনায় নির্মাণ হচ্ছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথ’ শিরোনামে গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। খবরটিতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান মিটারগেজ রেললাইনের পাশে ডুয়েলগেজ লাইন নির্মাণ করার কথা। তবে প্রায় চার বছর পর প্রকল্পটিতে ভুল ধরা পড়েছে। নতুন লাইনটি অনেক উঁচু হওয়ায় বিদ্যমান স্ট্রাকচারে অসম ভার্টিকাল লেভেল দেখা দেবে। ফলে স্টেশন, সেতু, প্ল্যাটফর্ম ও লেভেলক্রসিং গেটে জটিলতা বাড়ায় ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে। এতবড় প্রকল্পে এমন ভুল অপ্রত্যাশিত।

রেলওয়ের মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন এরই মধ্যে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। এর থেকে উত্তরণে দীর্ঘদিন ধরে ইঞ্জিন কেনার প্রচেষ্টা চালানো হলেও তা জটিলতায় আটকে আছে। আবার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেললাইনটি নিয়ে এমন জটিলতা রেলওয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে বৈকি। একথা সত্য, খাতটির উন্নয়নে সরকারের সদিচ্ছা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতায় উদ্যোগগুলো অনেকাংশে ব্যর্থ হচ্ছে। এর আগেও কিছু প্রকল্পে ভুল পরিকল্পনার নজির দেখা গেছে। ফলে হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও কাক্সিক্ষত সুফল মেলেনি। এখন সেবার মান বৃদ্ধি ও রেলওয়েকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার যে উচ্চাভিলাষ রয়েছে, এমন জটিলতার কারণে তা কতটা পূরণ হবে, সে ব্যাপারে সংশয় রয়েছে।

খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পটির ত্রুটি সংশোধনের ফলে ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। অপরদিকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পটির অগ্রগতি ৬২ শতাংশ হলেও ২০১৭ সালের জুনে কাজ শেষ করার কথা ছিল। পরে দুই দফা বাড়ানো হয়েছে সময়, আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে ভুল পরিকল্পনায় সময় ও ব্যয় উভয়ই বাড়ছে। এর দায় সংশ্লিষ্টরা এড়াতে পারে না। সেক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে এমনটি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে কাউকে জড়িত পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ভুলে যাতে অর্থ নষ্ট না হয়, সেদিকে সতর্ক নজর রাখা জরুরি বলে আমরা মনে করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..